কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পূর্ব জোড়কানন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা সদর উপজেলা মেম্বার সমিতির সভাপতি কাজী ফজলের রহমান (ফজল মেম্বার)-এর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কাজী ফজলের রহমান বলেন, প্রায় এক বছর আগে তিনি রোকসানা নামের এক নারীকে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে চাকরি করার অনুমতি দিলেও পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে না গিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে তাঁর কাছে তথ্য আসে। এরপর ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী তিনি তাঁকে তালাক দেন।
তিনি দাবি করেন, তালাকের পর থেকেই একটি কুচক্রী মহল তাঁকে সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির চেষ্টা করছে। তিনি এসব অপপ্রচার ও হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে রোকসানার বাবা মোসলেম উদ্দিন বলেন, তাঁর মেয়ে পরিবারের অবাধ্য হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে নিজেই নিজের শরীরে আঘাত করে অন্যদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময় তাঁর মেয়ে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করত। তিনি দাবি করেন, ফজল মেম্বার একজন সৎ ও ভালো মানুষ এবং কিছু মানুষের প্ররোচনায় তাঁর মেয়ে ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে।
পূর্ব জোড়কানন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইমাম মেম্বার বলেন, ফজল মেম্বার ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে করেছিলেন। পরবর্তীতে কিছু তথ্য জানার পর তিনি তালাক দেন। এরপর থেকেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি এসব ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
গোয়ালগা এলাকার ইউপি সদস্য মনির হোসেন খন্দকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সামাজিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন ফজল মেম্বার। তাঁর দাবি, বিয়ের পর বিভিন্ন তথ্য জানার ভিত্তিতে তিনি তালাক দেন। এরপর থেকেই তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় তালপট্টি এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি বুড়িচং এলাকায় রোকসানার সাবেক স্বামীর সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর দাবি, ফজল মেম্বার একজন সৎ ও ভালো মানুষ। একটি সংঘবদ্ধ চক্রের প্ররোচনায় তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাবেয়া বেগমও ফজল মেম্বারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের নিন্দা জানান।
বক্তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, মিথ্যা অপপ্রচার বন্ধ এবং হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে রোকসানার নাম্বার বক্তব্য জানতে কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
