পাবনায় পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ২০, হাসপাতালে ভর্তি ১১

পাবনায় পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ২০, হাসপাতালে ভর্তি ১১

ফন্ট সাইজ:

পাবনায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বেওয়ারিশ পাগলা কুকুর। পৌর এলাকায় বিভিন্নস্থানে পথে ঘুরে বেড়ানো এসব কুকুরের দল যেকোনো সময় আক্রমণ করছে সাধারণ মানুষকে। গত তিনদিনে পাবনা পৌর এলাকাতে কুকুরের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকটি। এর মধ্যে বয়স্ক নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে। সব চাইতে মারাত্মক ঘটনা মায়ের কোল থেকে এক নবজাতক শিশুকে কামড় দিয়েছে কুকুর। পরে স্বজনরা ও স্থানীয়রা সেই বাচ্চাটিকে উদ্ধার করেছে। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গতকাল পাবনা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জন আহতের ঘটনায় ১১ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তারা পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের দেয়া প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, কুকুর কামড়ানো আক্রান্ত মহল্লাগুলোর মধ্যে পৌর শালগাড়িয়া রেলস্টেশন এলাকা, সরদারপাড়া, হাসপাতাল এলাকা, বাইবাস সড়কের বিভিন্ন মোড়, গাছপাড়া, কলেজপাড়া, হাসপাতাল এলাকা, বড় বাজার, মধ্য শহরসহ বিভিন্ন স্থানে উন্মুক্ত বেওয়ারিশ এই কুকুর কামড়ানোর আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এদিকে পাবনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক ডা. জাহিদুর রহমানের দেয়া তথ্য অনুসারে, পাবনা সদর উপজেলাতে গত বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ কুকুরসহ বিড়াল, শেয়াল ও বিষাক্ত সাপের দংশনে আক্রান্ত হয়েছিল। তবে প্রত্যেক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আসার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভ্যাকসিন প্রয়োগ করায় কোনো মানুষের প্রাণহানি এখন পর্যন্ত হয়নি। চিকিৎসকেরা বলছেন, বছরের এই সময়ে প্রায় সকল পশু ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

আর পাগলা বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা পৌর এলাকাসহ চারপাশে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালে কুকুর কামড়ানোর জন্য জলাতঙ্কের রোগের যে ভ্যাকসিন ও অন্যান্য মেডিসিন প্রয়োজন সেগুলো দেয়া হচ্ছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে এই পশু ক্ষিপ্ততা নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না প্রশাসন। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন ও পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। বাহির থেকে টিটিনাস ইনজেকশন কিনতে হচ্ছে তাদের। এই ঘটনার পর থেকে পাড়া-মহল্লায় কুকুরের কামড় আতঙ্কে রয়েছে বাসিন্দারা।

দ্রুত কুকুর নিধনের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তাদের। পাবনা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত ১১ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও র‌্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। বর্তমানে কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি গতকালকে জানতে পেরেছি। আইনগত সমস্যার কারণে পশু নিধন করা সম্ভব হচ্ছে না। আগে ছেড়ে থাকা পশুদের ভ্যাকসিন দেয়া হতো। তবে সেই কার্যক্রম এখন বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন