প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন তারেক রহমান

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত

প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন তারেক রহমান

ফন্ট সাইজ:

প্রেসিডেন্ট পদে  নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনীত করার ক্ষমতা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়েছে স্থায়ী কমিটি৷ শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এতথ্য জানান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান,  ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে, প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী নির্বাচন, কবে নির্বাচন হবে- সব দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বৈঠকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক এখতিয়ার৷ প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হওয়ার স্পিকার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। আইন অনুসারে ৯০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে৷ সেই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন গণমাধ্যমে বলেছেন, তারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত আছেন। তারা তফসিল ঘোষণা করতে পারেন৷  তফসিল ঘোষণা করলে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী কে হবেন, সেটা আমরা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছি।

সংসদের বিশেষ অধিবেশন হওয়ার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে মনোনয়নপত্র বিক্রি হবে, জমা হবে, যাচাই-বাছাই হবে। এরপরে যদি একক প্রার্থী হয়, সেক্ষেত্রে আর নির্বাচন করতে হয় না। যদি একাধিক প্রার্থী হয় তাহলে সংসদে একটা বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করার একটা নিয়ম আছে। সেটা স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন সেই তারিখ ঠিক করেন।

বিএনপির দু'জন স্থায়ী কমিটির সদস্য মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হয়। এবিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে৷ আলোচনা সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ৯০ দিনের আগেই প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন আয়োজন করা হবে৷ এক্ষেত্রে আগস্ট মাসেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হবে৷ অনেকেই সেপ্টেম্বর প্রথম সপ্তাহের কথা বলেছিলেন৷ কিন্তু ১লা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, এক্ষেত্রে আগস্টেই  প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া৷
প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন