সংঘাতে কোনো মঙ্গল নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রসঙ্গ পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনা

সংঘাতে কোনো মঙ্গল নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার ‘যুদ্ধাবস্থা’ বিষয়ে দেয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ব‌লে‌ছেন, 'যুদ্ধ' কারও জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। বাংলাদেশ সতর্কতার সঙ্গে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে
শুক্রবার মধ্যরাতে ঢাকায় ফিরে বিমানবন্দ‌রে উপস্থিত সাংবা‌দিক‌দের সঙ্গে আলাপে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে পাশে রেখে
পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিল বলেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি খুবই দুঃখজনক। উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে নীরব যোগাযোগের মাধ্যমে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। তবে কোন কোন বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে ঢাকা কীভাবে যোগাযোগ রাখছে? তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করে খলিলুর রহমান বলেন, আমরা নিজস্ব স্টাইলে বন্ধু দেশগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, এ ধরনের সংঘাত কারও স্বার্থ রক্ষা করে না।
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় বেশ কিছু দিন ধরে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিলো। এই প্রেক্ষাপটে কাবুলসহ আফগানিস্তানের কয়েকটি শহরে বড় ধরণের বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। শুক্রবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান আফগানিস্তানে তালেবান কর্তৃপক্ষের ওপর ইসলামাবাদের ধৈর্য শেষ হয়ে গেছে। পাকিস্তান এখন থেকে কার্যত যুদ্ধাবস্থায় নামবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট মতে, আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি শহরে পাকিস্তানের বড় ধরনের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছালো। এই হামলার ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান নাজুক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হলো। গত বছরের অক্টোবরে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। পাকিস্তান বলছে, তারা বারবার আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষকে তাদের মাটি ব্যবহার করে পরিচালিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দমনের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু কাবুল ‘কার্যকর পদক্ষেপ নিতে’ ব্যর্থ হয়েছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে ওআইসিতে ক্যাম্পেইন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, ওআইসি বৈঠকের সাইড লাইনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সেখানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদের নির্বাচনে বাংলাদেশ তার প্রার্থীর প্রতি সমর্থন প্রদানের আহ্বান জানিয়েছি। ওআইসি প্রতিনিধিরা বলেছেন, তারা শুধু বাংলাদেশকে সমর্থনই দেবেন না, বরং ঢাকার প্রার্থিতার পক্ষ হয়ে প্রচারণাও চালাবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, আমরা জাতিসংঘে সভাপতি পদে সাইপ্রাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। প্রায় ৪০ বছর পর আবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষা করাও বাংলাদেশের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নতুন করে এ পদে প্রার্থী হয়েছে। ফিলিস্তিন নিজস্ব প্রার্থিতা বজায় রাখায় বাংলাদেশ সাময়িকভাবে নিজেদের প্রার্থিতা স্থগিত রেখেছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের প্রার্থিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় সক্রিয় হয়েছে। আগামী নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে ড. খ‌লিল বলেন, সাইপ্রাস দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালাচ্ছে। তথাপি ওআইসি দেশগুলোর সক্রিয় সমর্থন বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করবে বলে দৃঢ়ভাবে আশাবাদি আমরা। ড. খ‌লিলুর রহমান ব‌লেন, ওআইসি বৈঠকে আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে ভূমি ক্রয় সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ইসরাইলি আইনের নিন্দা জানিয়েছি। আমরা বলেছি ভূমি নিয়ে ইসরাইলের পদক্ষেপ স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন