ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেছেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর মানুষের মধ্যে একটি আশার সঞ্চার হয়েছিলো জনআকাঙ্খার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। যেখানে বিগত ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হবে না। প্রতিহিংসার রাজনীতির কবর রচিত হবে। মানুষের জান-মাল, ইজ্জত আব্রুর নিরাপত্তা পাবে। ধর্মকর্ম স্বাধীনভাবে করতে পারবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের ৫ মাসের শাসনে জনমনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিরোধী মত দমনে বর্তমান সরকারও বিগত ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করছে। গতকালের এনসিপি নেতৃবৃন্দের উপর হামলা তা প্রমাণ করে।
বৃহস্পতিবার দলের নেত্রকোনা জেলা শাখার মজলিসে শুরা অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নেত্রকোনার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম হাকিমীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারী মুফতি ওয়ালী উল্লাহর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) প্রভাষক হাফেজ মাওলানা আলমগীল হোসাইন তালুকদার। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদীস মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম, মাওলানা মামুনুর রশিদ রব্বানী, মাহমুদুল হাসান খান সানিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, জুলাই সনদের আলোকে দেশ পরিচালনা করতে হবে এবং নতুন প্রেসিডেন্টকে জুলাই সনদের আলোকেই নিয়োগ দিতে হবে। সেইসাথে ১৮০ দিনের মধ্যে পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চ কক্ষ গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, সাম্য মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাধীনতা সংগ্রাম অনুষ্ঠিত হলেও বিজয়ের ৫৫ বছর পরও এদেশের মানুষ ন্যায় বিচার পায়নি। জনগণ এখনো শোষণ বঞ্চনার শিকার। ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত। সন্ত্রাস দুর্নীতি ও মাদকের করালগ্রাসে নিমজ্জিত। এমতাবস্থায় জনআকাঙ্খার বৈষম্যহীন, শোষণ বঞ্চনামুক্ত বাংলা প্রতিষ্ঠিত করতে হলে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিতে হবে। এজন্য সকলকে একযোগে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। শূরা অধিবেশনে শায়খুল হাদীস মাওলানা আব্দুল কাইয়ূমকে সভাপতি, মাওলানা নুরুল ইসলাম হাকিমী, অ্যাডভোকেট এনামুল হক মুর্শেদ বেগ,মাওলানা মো. হাবিবুর রহমানকে সহ-সভাপতি ও মুফতী ওয়ালীউল্লাহকে সেক্রেটারী করে নেত্রকোন জেলা শাখার ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
