ইত্তেফাক
‘সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে শিল্পে গ্যাস-সংকট’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের শিল্প খাতে চলমান গ্যাস-সংকটসহ টেক্সটাইল খাতের নানা সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে টেক্সটাইল শিল্পের সমস্যা সমাধানে গঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির প্রথম সভায় এসব আলোচনা হয়। সভা শেষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণেই শিল্প খাতে গ্যাস-সংকটসহ বর্তমান নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিকতায় উদ্যোক্তারা আশাবাদী। তিনি বলেন, টেক্সটাইল খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসনে সরকারের আন্তরিকতায় দেশের ব্যবসায়ীরা উদ্যোক্তা হিসেবে উত্সাহিত বোধ করছেন। গত ১৭ বছরে এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হলে শিল্প খাতের বর্তমান দুরবস্থা তৈরি হতো না। তার ভাষায়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী টেক্সটাইল খাতের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। বিদ্যমান অবস্থায় সরকারের যে মনোযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তা গত ১৭ বছর পাওয়া গেলে বর্তমানের দুরবস্থা হতো না। বৈঠকে শিল্প খাতের গ্যাস-সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি টেক্সটাইল শিল্পের অন্যান্য সমস্যার কথাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর কোথায় কী ধরনের সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করতে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে সভায়।
সরকারের গঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় টেক্সটাইল খাতের মূল সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন শওকত আজিজ রাসেল। পরে কমিটির সদস্য এবং বিটিএমএর প্রতিনিধিদের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রধানমন্ত্রী টেক্সটাইল খাতের সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত এবং সমাধানে আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ কারণেই দ্রুত সমাধানের প্রস্তাব তৈরির জন্য উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ২২ জুলাই বিটিএমএর সভাপতির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাত্ করে টেক্সটাইল শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে। ঐ বৈঠকেই সমস্যাগুলো সমাধানে প্রস্তাব তৈরির জন্য উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিটিএমইএ জানিয়েছে, সভায় প্রধানমন্ত্রী একপর্যায়ে যোগ দিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শোনেন এবং সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের বিষয়ে মতামত দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিটিএমএ এক প্রেস বার্তায় জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরবর্তী সভা আয়োজনের নির্দেশনা দেন। আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী শিল্প খাতে চলমান গ্যাস-সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারেও আশ্বাস প্রদান করেন বলে বিটিএমএ জানিয়েছে। বিটিএমএ প্রতিনিধিদলে পরিচালক মো. বাদশা মিয়া, সাবেক সহসভাপতি হোসেন মেহমুদ, সাবেক পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন এবং প্রকৌশলী রাজীব হায়দার অংশগ্রহন করেন।
এদিকে গত মঙ্গলবার পৃথক দুটি চিঠিতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত কারখানাগুলোকে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হোক। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোকে অনুমোদিত যানবাহনে সংযুক্ত নয় এমন খোলা সিলিন্ডার বা গ্যাস ক্যাসকেড সিলিন্ডারে প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর এই অনুরোধ জানানো হলো। তিতাস জানিয়েছে, এ ধরনের গ্যাস সরবরাহ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি ২০১০ সালের গ্যাস আইন ও ২০২৬ সালের গ্যাস বিতরণ বিধিমালার লঙ্ঘন।
বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও কনভার্শন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে ভয়াবহ গ্যাস-সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে গেছে এবং অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহের কারণে উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। চিঠিতে বলা হয়, অনেক শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ শূন্য পিএসআইয়ে নেমে গেছে। ফলে উত্পাদন চালিয়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পণ্য পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিজিএমইএ অনুরোধ জানিয়েছে, যেসব কারখানা সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সংগ্রহ করতে চায়, তাদের এই সুযোগ দেওয়া হোক, যাতে উত্পাদন চালু রাখা এবং রপ্তানি প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব হয়। তবে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, তিতাসের নির্দেশনার পর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ করতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।
অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে বিকেএমইএ তাদের সদস্য কারখানাগুলোকে জানিয়েছে, তিতাসের নির্দেশনার বিষয়ে জানার পর সংগঠনের সভাপতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিকেএমইএর তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনের সভাপতি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন, রপ্তানিমুখী শিল্পে গ্যাস সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা শিল্প উত্পাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, জ্বালানি বিভাগের সচিব তাত্ক্ষণিকভাবে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে রপ্তানিমুখী কারখানাগুলো সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে আগের মতো গ্যাস সংগ্রহ করতে পারে। বিকেএমইএ তাদের সদস্য কারখানাগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে, সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহের সময় সব ধরনের নিরাপত্তা নির্দেশনা ও সরকারি নিয়ম মেনে চলতে হবে।
প্রথম আলো
‘সরকারি হাসপাতালে ৫২% রোগনির্ণয় যন্ত্র থেকেও নেই’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রামের মতো রোগনির্ণয়ের (রেডিও ইমেজিং) যন্ত্র থাকলেও সেগুলো নিয়মিত সেবা দিতে পারছে না। জেলা হাসপাতালগুলোতে এমন সেবার প্রাপ্যতা ৮৫ শতাংশ হলেও এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক বছরে নিয়মিত সেবা চালু ছিল মাত্র ৩৩ শতাংশ।
জেলা, উপজেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মিলিয়ে ২২টি সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানের চিত্র বলছে, রোগনির্ণয় যন্ত্রের ৫২ শতাংশই গত এক বছরে ব্যবহৃতই হয়নি। অন্যদিকে এসব হাসপাতালে জরুরি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুতও কম থাকে।
গবেষণাটি করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। গতকাল বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য-ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয়দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক ওই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সাত সদস্যের গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। এই গবেষণায় অর্থায়ন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।
২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের লক্ষ্য বাংলাদেশের। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, তা জানতে গবেষণাটি করা হয়।
৯ মাসব্যাপী দেশের আট বিভাগের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে জরিপ, সাক্ষাৎকার ও নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে প্রাইমারি, জেলা হাসপাতালগুলোকে সেকেন্ডারি এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে টারশিয়ারি লেভেলে ধরা হয়েছে। টারশিয়ারি লেভেলের মধ্যে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালও আছে। নমুনা কম হওয়ায় গবেষণার সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন গবেষকেরা।
স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি বড় জায়গা চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা ও ব্যবহার। অনেক সময় প্রয়োজন না থাকলেও যন্ত্র কেনা হয়। আবার যন্ত্র নষ্ট হলে নানা অজুহাতে ঠিক সময়ে সেগুলো মেরামত করা হয় না। বিভিন্ন সময়ে করা সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান জরিপে সারা দেশের সর্বস্তরের হাসপাতালে অকেজো ও নষ্ট যন্ত্রপাতির একটি চিত্র পাওয়া যায়। তার সঙ্গে পিপিআরসির এই গবেষণার কিছুটা মিল আছে।
পিপিআরসির গবেষণায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতের সাফল্য শুধু বাজেট বরাদ্দ দিয়ে মূল্যায়ন করলে চলবে না; বরং প্রতিষ্ঠানগুলো তা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করতে পারছে কি না এবং সেই ব্যয় নাগরিকদের জন্য ওষুধ, রোগনির্ণয় সেবা, সচল যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাসেবায় রূপান্তরিত হচ্ছে কি না, সেটিই হওয়া উচিত মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, পরিকল্পনার অভাবে অনেক দামি চিকিৎসা যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে আছে। অনেক হাসপাতালে এক্স-রে ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় টেকনোলজিস্ট নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কেনাকাটায় দুর্নীতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পরিকল্পনা ছাড়া কেনাকাটা এবং দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে জনগণের অর্থের অপচয় হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের সমস্যার সমাধানে শুধু নীতিমালা বা গবেষণার সুপারিশ যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন না করে চিকিৎসকেরা যদি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করেন, রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সেখানে পাঠান এবং কমিশন নেন, তাহলে যত গবেষণা বা পরামর্শই দেওয়া হোক, মানুষের জন্য ভালো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
যন্ত্র আছে, সেবা নেই
গবেষণাকালে দেখা গেছে, সব পর্যায়ের হাসপাতালে রোগনির্ণয় যন্ত্রের সেবা পাওয়ার হার ৬৫ শতাংশ। তবে বাস্তবে গত এক বছরে নিয়মিত এমন সেবা পাওয়া গেছে ২৫ শতাংশ। জেলা হাসপাতালগুলোতে কাগজে-কলমে এমন সেবার প্রাপ্যতা সবচেয়ে বেশি, ৮৫ শতাংশ। কিন্তু গত এক বছরে মানুষ নিয়মিত সেবা পেয়েছে ৩৩ শতাংশ।
গবেষণার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগনির্ণয় যন্ত্রের সেবার প্রাপ্যতা ৪৬ শতাংশ হলেও এক বছরে মানুষ নিয়মিত সেবা পেয়েছে ১৭ শতাংশ। একই সময়ের হিসাবে মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে এমন সেবার প্রাপ্যতা ছিল ৫৪ শতাংশ। এক বছরের হিসাবে ছিল ২৫ শতাংশ।
সেবা না পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান কারণ হিসেবে গবেষণায় উঠে এসেছে যন্ত্রপাতি অকেজো থাকা। এসব হাসপাতালের ৭৯ শতাংশ ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি অকেজো ছিল। এ ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে ১৪ শতাংশ এবং প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্টের অনুপস্থিতির কারণে ৭ শতাংশ সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের অনুমোদিত ৬ হাজার ৪০৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩ হাজার ৮৯২ জন। অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য পদের হার ২৭ শতাংশ, জেলা হাসপাতালে ১২ শতাংশ এবং মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ৩৬ শতাংশ। ফলে অনেক হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নেই।
অকেজো বা নষ্ট যন্ত্রপাতি নিয়ে মাঝেমধ্যে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়। ২০২৩ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে ঢাকার তিনটি প্রধান হাসপাতালের নষ্ট যন্ত্রপাতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে বলা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ২৩৮টি যন্ত্র নষ্ট ছিল, যেগুলোর আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকা। একই বছর ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছোট-বড় ৫৩৭টি যন্ত্র নষ্ট।
জরুরি ওষুধের ঘাটতি
গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ওষুধের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে। সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধের মজুত মাত্র ১২ শতাংশ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ হার ২৩ শতাংশ এবং জেলা হাসপাতালে ২৪। গত এক বছরের হিসাবেও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। সব মিলিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা গড়ে ২২ শতাংশ।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ হওয়া বেশির ভাগ ওষুধ আসে সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) থেকে। তবে প্রয়োজন মেটাতে ৩৩ শতাংশ ওষুধ ইডিসিএলের বাইরে অন্য উৎস থেকে কিনতে হচ্ছে। আরও ৫ শতাংশ ওষুধ আসে অন্যান্য উৎস থেকে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরবরাহে ঘাটতি থাকায় হাসপাতালগুলোকে নিয়মিত বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে গজ, তুলা, সিরিঞ্জ ও গ্লাভসের মতো নিয়মিত ব্যবহারের সরঞ্জাম বেশির ভাগ হাসপাতালেই রয়েছে। তবে জরুরি চিকিৎসার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নেই। প্রায় ৬৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে টুর্নিকেট, ৫৫ শতাংশে ব্যাগ-ভাল্ভ-মাস্ক (রিসাসিটেটর) এবং ৪১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে নবজাতকের নাভির ক্ল্যাম্প পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা বলছেন, এসব সরঞ্জাম জরুরি ও নবজাতকের চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘বিএনপি-এনসিপি দূরত্ব বাড়াচ্ছে কারা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতার রাজনীতির প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ের ভোটের রাজনীতিসহ নানারকম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। কোথাও শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ দলের উসকানিমূলক তির্যক মন্তব্য এসব দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ইন্ধন জোগাচ্ছে। কোথাও আবার মিছিল, পথসভা, পোস্টার লাগানো এবং স্থানীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্বে সরকারি দল বিএনপির নেতাকর্মীরা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন।
এখন পর্যন্ত দেড় বছরে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ছোট-বড় অন্তত ১৮টি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এনসিপির দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। মাঝেমধ্যে জামায়াতের সঙ্গেও বিএনপির সংঘর্ষ হয়েছে। সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জে। এতে অনেকের হাত-পা ভেঙে যাওয়াসহ একজনের চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় এনসিপির ওপর বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এমন অভিযোগ বিএনপি মানতে নারাজ।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম হবিগঞ্জে হামলার জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতা জিকে গউছের অনুসারী ছাত্রদল ও যুবদলকে সরাসরি দায়ী করেন। বুধবার যুগান্তরের কাছে একই অভিযোগ করেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তারা বলছেন, এনসিপি নেতারা জনগণের ভাষায় প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু বিএনপি তা সহ্য করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের চেয়েও অসহনীয় হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুগান্তরকে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। কিন্তু সভ্য ভাষা ও সভ্য শব্দ ব্যবহার করা উচিত। তা না করে প্রতিনিয়ত উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রাজনীতিতে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার এবং একের পর এক ব্যক্তিগত আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। এটি বন্ধ হতে হবে। তা না হলে জনগণ এর জবাব দেবে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরীর মন্তব্য জানতে চাইলে বুধবার সন্ধ্যায় তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।’ তিনি মনে করেন, প্রতিবাদের ভাষা প্রতিবাদী বক্তব্যের মধ্য দিয়েই হতে পারে। কিন্তু তাই বলে হামলা ও নির্যাতন হতে পারে না। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনাও প্রতিবাদের ভাষা রুখে দিতে সব চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেনি। এমন সন্ত্রাসী হামলা ও নির্যাতন শেখ হাসিনাও করেছিল। কিন্তু টিকতে পারেননি। মাত্র দুই বছর আগে কী হয়েছে, হাসিনা কীভাবে পালিয়েছে-বিএনপি কি দেখেনি?’ ফলে তিনি মনে করেন, সেখান থেকে তো বিএনপির অনেক কিছু শিক্ষণীয় রয়েছে।
পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, স্থানীয় পর্যায়ের এসব সংঘাত-সহিংসতা রাজনীতির কেন্দ্রেও বড় আঘাত হানতে পারে। এখনই সতর্ক না হলে তৃতীয় পক্ষ নিশ্চিত সুযোগ নেবে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো-জুলাই বিপ্লবে রাজপথের আন্দোলনের সতীর্থদের এ ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত আত্মঘাতী ছাড়া আর কিছু নয়। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে-তাহলে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে দূরত্ব বাড়াচ্ছে কারা।
প্রসঙ্গত, গণ-অভ্যুত্থানের সামনের সারির সমন্বয়করা গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে রাজনৈতিক দল গঠন করে। এরপর থেকে থেমে থেমে এই দলের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হন। উল্লেখযোগ্য হামলার ঘটনা ঘটেছে গত বছর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও বরিশালে। ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে। জানুয়ারিতে নোয়াখালীর হাতিয়ায়, ৬ জুলাই সাভারে জুলাই পদযাত্রা শেষে সমাবেশে ককটেল হামলা, ১৯ জুলাই ফের হাতিয়ায়। সবশেষ মঙ্গলবার যোগ হলো হবিগঞ্জ।
কালের কণ্ঠ
‘চক্রের পেটে ৫ হাজার কোটি টাকা’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মুজাহিদপুর গ্রামের কামরুজ্জামান। ২০২৪ সালে ১৫ লাখ টাকায় তাঁকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ফাঁদে ফেলে একটি মানব পাচারকারী চক্র।
এরপর তাঁকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কামরুজ্জামানকে জিম্মি করে আরো ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে পাচারকারী চক্র। সব মিলিয়ে তাঁর কাছ থেকে আদায় করা হয় ২৫ লাখ টাকা। কিন্তু স্বপ্নের দেশ ইতালিতে আর পৌঁছা হয়নি তাঁর।
একইভাবে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জের বাসিন্দা ইমরান হোসেনও মানব পাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়েছিলেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাচারকারী চক্র তাঁকে বিমানে করে প্রথমে কুয়েত, সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। দেশের মানব পাচারকারী চক্রকে শুরুতে তিনি পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। লিবিয়ায় তাঁকে জিম্মি করে ড্রিল মেশিন দিয়ে পা ফুটো করার মতো নির্যাতন চালিয়ে আদায় করা হয় আরো ১৯ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে তাঁর কাছ থেকে পাচারকারী চক্র হাতিয়ে নেয় ২৪ লাখ টাকা। এরপর প্রায় এক বছর জিম্মি দশায় নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় গত বছর দেশে ফেরেন ইমরান।
কামরুজ্জামান কিংবা ইমরান হোসেনের মতো হাজারো যুবক স্বজনের মুখে হাসি ফুটাতে মানব পাচার চক্রের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বছরে গড়ে ৩০ হাজার যুবককে ইতালি পাঠানোর কথা বলে চক্রের সদস্যরা লিবিয়ায় নিয়ে যায়। ইতালি নিতে চুক্তি করা হয় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা।
কিন্তু পরে লিবিয়া নিয়ে অনেককে জিম্মি করে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের অর্থ। এভাবে চক্রের সদস্যরা বছরে অন্তত হাতিয়ে নিচ্ছে সাড়ে চার হাজার কোটি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এই টাকার বেশির ভাগ চলে যায় দেশের বাইরে থাকা মানব পাচার চক্রের সদস্যদের হাতে।
সম্প্রতি ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জার্মানির ‘রবার্ট বোশ স্টিফটুং’ ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় ‘মিক্সড মাইগ্রেশন সেন্টার (এমএমসি)’ উচ্চ পর্যায়ের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আরেজো মালাকুটির নেতৃত্বে পরিচালিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে আসে লিবিয়া হয়ে বাংলাদেশি অভিবাসীদের ইতালি যাওয়ার পেছনের বিশাল অঙ্কের অর্থের লেনদেনের তথ্য।
প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছেছেন প্রায় ১৪ হাজার বাংলাদেশি। পাচারকারী চক্রের আদায় করা অর্থের মূল্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চক্রের সদস্যরা অন্তত ১৬০ থেকে ১৯০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা) সরাসরি পকেটে ভরছে। বাকি টাকা বিভিন্ন পর্যায়ে দালাল, ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি এবং ট্রানজিট রুটের খরচ হিসেবে আদায় করে নিচ্ছে।
মানবপাচার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের মতে, প্রতিবছর গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ ইতালি যেতে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় যান। তাঁদের একটা অংশ সমুদ্রপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইতালি পৌঁছাতে পারেন। বাকিদের ফিরে আসতে হচ্ছে দেশে কিংবা লিবিয়ার জিম্মি দশায় আটকে থাকতে হচ্ছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘১৫ মাসে ৩৫২ পাচার মামলা, ৩৩৭টির আসামি খালাস’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশে ভালো চাকরি, উচ্চ বেতন আর উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখিয়ে ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীর তরুণ তানভীর হোসাইনকে পাঠানো হয়েছিল কম্বোডিয়া। বিমানবন্দরে নামতেই এক বাংলাদেশি তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে একটি ক্যাসিনোর ভেতর দিয়ে ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে নেওয়া হয়। তখনও তিনি ঘুণাক্ষরে বোঝেননি, তাঁকে একটি অনলাইন স্ক্যাম সেন্টারে চীনা নাগরিকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
সেখানে তানভীর হোসাইনের কাজ ছিল ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে তরুণী পরিচয়ে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। এ কাজ করতে অস্বীকৃতি জানাতেই তাঁর ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন।
মানব পাচারের শিকার সেই তানভীর হোসাইন সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। শুধু তানভীর একা নন; মোটা বেতনে চাকরির টোপ ফেলে বাংলাদেশিদের পাচার করে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে সংঘবদ্ধ পাচার চক্র। তারা ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে মানব পাচারের ধরন ও কৌশল পাল্টিয়েছে। ভুয়া অনলাইনে বিদেশে চাকরির বিজ্ঞাপন, ডিপফেক প্রযুক্তি এবং নানা অ্যাপের মাধ্যমে তরুণদের টার্গেট করছে তারা।
কৌশল পাল্টিয়ে পাচারকারীরা সক্রিয় থাকলেও অনেক অভিযুক্ত ধরা পড়ার পর শাস্তির বাইরে থেকে যাচ্ছে। খোদ সরকারি হিসাবেই বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে গত মার্চ পর্যন্ত ১৫ মাসে ৩৫২ মানব পাচার মামলার বিচার নিষ্পত্তি হয়। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এর মধ্যে মাত্র ১৫ মামলার ৩৯ আসামি সাজা পেয়েছে। বাকি ৩৩৭ মামলার এক হাজার ২৫৯ আসামি খালাস পেয়ে যান।
এ পটভূমিতে আজ বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশে বিভিন্ন এনজিও এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সচেতনমূলক নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য– ‘প্রতারণার ফাঁদে বন্দি’।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মানব পাচার রোধে শুধু আইনি কাঠামো যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সচেতনতা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা। মানব পাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
জানতে চাইলে পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, মানব পাচারে মুনাফালোভী লোকজন জড়িত। তারা প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ পথে মানুষকে বিদেশে পাঠিয়ে বিপদে ফেলছে। এসব ঘটনার মামলায় আসামি গ্রেপ্তারও হচ্ছে। তবে সাজার হার কম। এর কারণ, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা নানা প্রলোভনে আসামির সঙ্গে আপস করেন। পরে তারা আর আদালতে সাক্ষ্য দেন না।
কত মামলা
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০১৮ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ৮ বছর ৫ মাসে মানব পাচার সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৬ হাজার ৮২৫টি। আসামি সংখ্যা ৩০ হাজার ২৯৫। এর মধ্যে ১১ হাজার ২৮০ জনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। এই এক বছরে মানব পাচারের শিকার হয়েছেন ১০ হাজার ৪৪৪ জন এবং উদ্ধার করা হয়েছে ৭ হাজার ১৯০ জনকে।
গত জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে মানব পাচারের ঘটনায় সারাদেশে মামলা হয়েছে ৫০০। এতে আসামি সংখ্যা ২ হাজার ৩৩৪। এর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৫১ জনকে। বাকি আসামি দেশ-বিদেশে পলাতক। এই পাঁচ মাসে সংঘবদ্ধ চক্র ১ হাজার ১৩৫ জনকে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছে। ৮০৭ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সাজার হার কম
মানব পাচার প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে মানব পাচার সংক্রান্ত ৭৩৯টি মামলার তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ওই বছর আদালতে ২৪৫টি মামলার বিচার নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে ৯টি মামলায় ২৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। বাকি ২৩৬ মামলার আসামি খালাস পেয়ে যায়। তবে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের দাবি, গত বছর ৪২টি মামলায় ৭৬ আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে আদালতে ১০৭টি মামলার বিচার নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে ছয়টি মামলায় ১১ জনের সাজা হয়। বাকি ১০১ মামলার আসামিরা খালাস পেয়ে যায়। তবে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের তথ্য বলছে, এই তিন মাসে ২০টি মামলায় ৪০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ৮১৭টি মামলা তদন্তাধীন ছিল এবং আদালতে বিচারাধীন ছিল ৩ হাজার ২৭৮টি মামলা। গতকাল বুধবারের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, মানব পাচার মামলায় সারাদেশের কারাগারে বন্দি সংখ্যা ৪০০।
নতুন আইনে বিচার ত্বরান্বিত হবে
মানব পাচার ও অভিবাসন প্রত্যাশী চোরাচালান প্রতিরোধে সরকার নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এ আইনে অভিবাসন প্রত্যাশী চোরাচালানকে আলাদা অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্ক্যামিং, প্রতারণামূলক নিয়োগ, ডিজিটাল মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন ও জোর করে অপরাধ সংঘটনে বাধ্য করাকে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে। এতে অপরাধ-সংশ্লিষ্ট সম্পদ জব্দের সুযোগ রাখার পাশাপাশি পাচারের শিকার হয়ে অপরাধে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধী গণ্য না করার সুরক্ষাও জোরদার করা হয়েছে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সময়ের সঙ্গে আইনের ধরন বদল হয়। আশার কথা, সরকার মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২কে যুগোপযোগী করে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। আশা করছি, নতুন আইনের অধীনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধবিষয়ক মামলার তদন্ত ও বিচার কাজ ত্বরান্বিত হবে।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে পারেনি কোনো সরকারই’। খবরে বলা হয়, ভূমধ্যসাগরের বুকে ভাসছে ছোট্ট একটি নৌকা। আর তাতে গাদাগাদি করে বসে আছেন শতাধিক মানুষ, যাদের অনেকেই বাংলাদেশের তরুণ।
লিবিয়ার উপকূল থেকে তারা রওনা হয়েছেন। লক্ষ্য ইউরোপে প্রবেশ। বছরের পর বছর ধরে এটি এক পরিচিত চিত্র। এ যাত্রায় সফল হয়ে অনেকে প্রবেশ করছেন ইতালি কিংবা গ্রিসে। আবার অনেকের ঘটছে সলিলসমাধি। গত মার্চেও লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার সময় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জনের বাড়িই সুনামগঞ্জ জেলায়।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, চলতি বছর কেবল প্রথম ছয় মাসেই অবৈধ উপায়ে ইতালিতে প্রবেশ করেছেন ৪ হাজার ২৪৯ জন বাংলাদেশী। একই সময়ের মধ্যে লিবিয়া হয়ে সাগরপথে গ্রিসে পৌঁছেছেন আরো ৩ হাজার ৬০৮ জন।
প্রতি বছরই অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার সময় অনেক তরুণ হারিয়ে যান সাগরের অতলে, নয়তো দুর্গম জঙ্গলে। আর এ পুরো যাত্রার নেপথ্যে থাকে মানব পাচারকারী চক্রের সুপরিকল্পিত নেটওয়ার্ক। গ্লোবাল অর্গানাইজড ক্রাইম ইনডেক্স গত বছর জানিয়েছিল, বাংলাদেশে মানব পাচারই সবচেয়ে বড় আন্তঃসীমান্ত অপরাধ। একদিকে মানব পাচারকারী চক্রের প্রলোভন, অন্যদিকে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপের অভাবে কমছে না মানব পাচারের ট্র্যাজেডি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানব পাচারের মতো গুরুতর অপরাধ দমন আইনে মামলা হলেও অপরাধীদের কঠোর সাজা নিশ্চিত না হওয়া এবং মূল হোতারা অনেক ক্ষেত্রেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
মানব পাচার শুধু যে জীবন কেড়ে নিচ্ছে কিংবা একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে তা-ই নয়। এ কারণে ছোট হয়ে আসছে বাংলাদেশীদের ভ্রমণ গন্তব্য। ক্রমাগত অবনমন ঘটছে বাংলাদেশী পাসপোর্টের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতার। যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের গত সপ্তাহে প্রকাশিত সূচকের তথ্য বলছে, এখন বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা আগাম ভিসা ছাড়া কিংবা ভিসামুক্ত সুবিধা নিয়ে বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন; যদিও বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা গত বছর আগাম ভিসা ছাড়া বিশ্বের ৩৭টি দেশে ভ্রমণ করতে পারতেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশীদের ওপর ভিসা কড়াকড়ি, শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়াসহ স্টুডেন্ট ভিসায় শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ার পেছনে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে মানব পাচার ইস্যু। এ ঘটনা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে।
মানব পাচার বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য ভিসা জটিলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার সংকুচিত করছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রেও আরোপ করা হচ্ছে বাড়তি কড়াকড়ি। গত কয়েক বছরে ভিয়েতনামে পর্যটক হিসেবে ঘুরতে যাওয়া বাংলাদেশীদের অনেকে আর দেশে ফেরেননি। কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে তাদের অনেকেই অবৈধ পথে বিভিন্ন গন্তব্যে পাড়ি জমিয়েছেন। এমন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দেয় ভিয়েতনাম।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) ডিসপ্লেসমেন্ট ট্র্যাকিং মেট্রিক্সের তথ্যমতে, চলতি বছর ২৭ জুলাই পর্যন্ত স্থল ও সমুদ্রপথে অনিয়মিতভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করেছেন ৭ হাজার ৯৬৯ বাংলাদেশী। আইওএম ‘বাংলাদেশ মাইগ্রেশন স্ন্যাপশট রিপোর্ট’-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে স্থল ও সমুদ্রপথে অনিয়মিতভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেছেন ২৪ হাজার ৩১৮ জন বাংলাদেশী, ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৩০৪। ২০২৩ সালে গেছেন ১৩ হাজার ৭৭৩ জন, ২০২২ সালে ১৬ হাজার ৪৮৭ এবং ২০২১ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ৭ হাজার ৯৫৫ ও ৪ হাজার ৫১০ জন। অনিয়মিত পথে ইউরোপে পাড়ি জমানো এসব বাংলাদেশীর বেশির ভাগই মানব পাচারের শিকার হয়েছেন।
ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলোর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারীদের মধ্যে বাংলাদেশীরাই সবচেয়ে বেশি। এ পথটি সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান রুট নামে পরিচিত। ২০০৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এ পথে অবৈধভাবে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশী ইউরোপে প্রবেশ করেছেন।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। কেবল ইতালি নয়, চলতি ২০২৬ সালে এসে সাগরপথে গ্রিসে অবৈধভাবে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশীরা তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিদেশে এ অবৈধ যাত্রা শুরু হয় গ্রামের পরিচিত কোনো ব্যক্তি, আত্মীয় বা স্থানীয় দালালের মাধ্যমে। ‘ইতালিতে ভালো চাকরি’, ‘মাত্র ছয় মাসে লাখ লাখ টাকা আয়’, ‘ভিসার ঝামেলা নেই, ‘সব দায়িত্ব আমাদের’—এ ধরনের চটকদার প্রতিশ্রুতি এখন অনলাইনেও সয়লাব। মানব পাচারকারীদের এসব আশ্বাসে অনেকেই বিশ্বাস করেন।
আজকের পত্রিকা
‘গণপরিবহন: দেড় হাজার ইলেকট্রিক বাস কেনার তোড়জোড়’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর লক্ষ্যে প্রায় দেড় হাজার ইলেকট্রিক বাস কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) পৃথক কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তবে আগামী ডিসেম্বর থেকেই দেশে ইলেকট্রিক বাস আসা শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে মোট ২০০টি বাস সরবরাহ করা হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৪৫ আসনের ১০০টি ইলেকট্রিক বাস, চার্জিং স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা এবং নারীদের জন্য ২৮ থেকে ৩২ আসনের ১০০টি ইলেকট্রিক মিনিবাস, চার্জিং স্টেশন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকার দুটি পৃথক প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়। পরে অর্থ বিভাগ অনুদানের পরিবর্তে ৮০০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিতে সম্মতি দেয়।
এ বিষয়ে বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা (অতিরিক্ত সচিব) সম্প্রতি আজকের পত্রিকাকে বলেন, মোট ২০০টি ইলেকট্রিক বাস সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ এ প্রকল্পে ঋণ সহায়তার অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। বাসগুলো পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে এখনো কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগরীকে কেন্দ্র করেই এসব বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। রুট, চার্জিং স্টেশনের অবস্থান এবং পরিচালনাসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় নির্ধারণে একটি কমিটি কাজ করছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বায়ুদূষণ রোধে বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্টের (বিসিএপি) প্রথম ধাপের আওতায় ৪০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা হবে। বর্তমানে এ প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধনের কাজ করছে ডিটিসিএ।
নারীবান্ধব গণপরিবহন চালুর অংশ হিসেবে বিআরটিসি ১০০টি ইলেকট্রিক মিনিবাস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রকল্পে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) অর্থায়নে ৩০০টি বৈদ্যুতিক এসি বাস এবং ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে এ নিয়ে প্রাথমিক কাজ চলছে। চীনা অর্থায়নে আরও ৫০০টি বৈদ্যুতিক এসি বাস এবং ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১১ জুন পরিকল্পনা কমিশনের এক সভায় এ প্রকল্পের ব্যয় পুনর্বিবেচনা করে সংশোধিত প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।
সরকারি অর্থায়নে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় আরও ১২টি ইলেকট্রিক বাস কেনা, চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিআরটিসি।
সব মিলিয়ে ডিটিসিএ ও বিআরটিসির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৪১২টি ইলেকট্রিক বাস সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং নগরাঞ্চলে যানবাহনের কার্বন নিঃসরণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
তবে গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিদ্যমান গণপরিবহনব্যবস্থার যৌক্তিকীকরণ ছাড়া এতগুলো নতুন ইলেকট্রিক বাস চালু করলে সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘সভ্য সমাজে টেঁটার অসভ্যতা!’। খবরে বলা হয়, রাজবাড়ীর পাংশার দড়িবাংলা গ্রামে জমির সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধ চলছিল আক্তার মন্ডল ও হাকিম মন্ডলের মধ্যে। এ নিয়ে গত ২১ জুন মীমাংসা বৈঠকেই দুই পক্ষ জড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষে। একে অপরকে ঘায়েল করতে টেঁটা নিয়ে হামলে পড়ে। শতাধিক বাড়িতে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। প্রায় একই ঘটনা জুনের শেষ সপ্তাহে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের সূর্যকান্দি এলাকায়ও ঘটে। মাছ ধরা নিয়ে দুপক্ষের টেঁটাযুদ্ধে শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হন।
দেশের অন্তত ১০টি জেলায় এভাবে টেঁটাযুদ্ধের ঘটনা নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হচ্ছে। একসময় এসব এলাকা শান্তির জনপদ বলে পরিচিত থাকলেও এখন সেখানে টেঁটার থাবা পড়েছে। টেঁটা-বল্লম নিয়ে হামলে পড়ছে একপক্ষ আরেক পক্ষের ওপর। মানবসভ্যতা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন দেখছে, তখন বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে এখনো মধ্যযুগীয় আদিম অস্ত্র শাসন করছে সাধারণ মানুষের জীবন ও ভাগ্য। লোহার ফলা আর বাঁশের হাতলে তৈরি মারণাস্ত্রটি টেঁটা হিসেবে পরিচিত। দেশের বেশ কিছু জনপদে, বিশেষ করে চরাঞ্চল এবং নদীবিধৌত জেলাগুলোতে টেঁটা কেবল মাছ ধরার সরঞ্জাম নয়, বরং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রধান হাতিয়ার। জমি দখল, আধিপত্য বিস্তার, বংশগত বিরোধসহ বিভিন্ন ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে শত শত মানুষ টেঁটা হাতে প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গেলেও পিছু হটতে হয়। এমনকি টেঁটায় আহত হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরাও। ফলে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ছে পুলিশ। সংঘর্ষপ্রবণ এলাকায় সরেজমিনে জানা গেছে এসব তথ্য। পুলিশ কর্তারা বলছেন, অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়েও তারা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। তারপরও ওই সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না।
পুলিশ-সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, গত তিন বছরে ৫ হাজারের বেশি টেঁটাযুদ্ধ হয়েছে। এতে প্রাণ গেছে শতাধিক। অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। মানুষের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে জনপদ।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, টেঁটাযুদ্ধ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, এর পেছনে রয়েছে সুসংগঠিত প্রস্তুতি এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ। টেঁটাযুদ্ধ বন্ধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিকভাবে লোকজনকে বোঝানোর চেষ্টা চলছে। ওই সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি ও নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।
চিকিৎসকদের মতে, টেঁটাবিদ্ধ আহতকে অস্ত্রোপচার ছাড়া সুস্থ করা অসম্ভব। অনেক সময় টেঁটা বের করতে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই বা হাসপাতালে নেওয়ার পথে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
গোপনে তৈরি হচ্ছে টেঁটা : টেঁটা দেখতে অত্যন্ত সাধারণ মনে হলেও আঘাত প্রচণ্ড মারাত্মক। কারও শরীরে বিঁধলে তা বের করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মূলত কামারশালাগুলোতে গোপনে তৈরি হচ্ছে এই মারণাস্ত্র। একটি লম্বা বাঁশ বা কাঠের লাঠির মাথায় লোহার এক বা একাধিক সুচালো ফলা যুক্ত করে টেঁটা তৈরি করা হয়। এর কয়েকটি সাধারণ প্রকারভেদ আছে। একটি হাতলে পাঁচ থেকে ৯টি বা তারও বেশি ফলা ছাতার মতো বা সারিবদ্ধভাবে যুক্ত থাকে। এই টেঁটাগুলোর ফলার মাথায় মাছ ধরার বড়শির মতো উল্টা বাঁক বা ‘আঁকশি’ থাকে। এটি যখন কারও শরীরে ঢোকে, তখন টেনে বের করতে গেলে ভেতরের মাংসপেশি ও নাড়িভুঁড়ি ছিড়ে চলে আসে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘বাড়ছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা’-এটি দৈনিক বাংলাদেশে প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাড়ছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল উপস্থাপন করা হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোটা দাগে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি আগের তুলনায় বেশি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। এর বাইরে আরও বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক ইস্যুতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কোনো পরামর্শ ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দিতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। তবে এই প্রস্তাবের একটা অংশে দ্বিমত জানিয়েছে বিএনপি। বিশেষত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দিতে রাজি নয় দলটি। গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে মোট ৯টি প্রস্তাবে বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি নথিভুক্ত আছে, এই প্রস্তাবটি তার একটি।
অন্যদিকে অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দিতে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত জানিয়েছে। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। তবে সংবিধান সংশোধনে বিএনপির যে দুটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি রয়েছে, তা আলোচনার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হলে আপত্তি থেকে সরে আসতে পারে দলটি। তখন ছয়টি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো নিয়োগ দিতে পারবেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির আসামিকে ক্ষমা করার বিষয়টি রাষ্ট্রপতির হাতেই থাকছে। এ ক্ষেত্রে দণ্ড মওকুফ বিবেচনার ক্ষেত্রে মামলার বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের সম্মতি নিতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৩)-এর সংশোধনী আনা যেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী যদি সংবিধান সংশোধন করা হয়, তাহলে অবশ্যই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে। এরই মধ্যে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় তারা বিষয়টিকে কীভাবে মুল্যায়ন করে কিংবা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কী ধরনের আন্তরিকতা দেখায়।
দলগুলোর আন্তরিকতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারদলীয় হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ ও সংসদের বাইরে একাধিকবার বলেছেন, স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ বিএনপি বাস্তবায়ন করবে। ওই হিসেবে সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে যেসব বিষয় বলা হয়েছে তাতে আমাদের আপত্তি নেই। যে দুটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আলোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল আসতেও পারে।’
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে জামায়াতের নিয়মিত প্রতিনিধি দলের প্রধান ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হলে ক্ষমতায় ভারসাম্য আসবে। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা এখন তো এককেন্দ্রিক। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একক ক্ষমতার অধিকারী। সেই কারণে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার সুযোগের পথ ধরেই স্বেচ্ছাচারিতা বা কর্তৃত্ববাদের সুযোগ তৈরি হয়। এখান থেকেই সংকট ও ফ্যাসিজমের উত্থান সবকিছু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সংবিধিবদ্ধ অনেক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে করতে হয়। সংস্কার হলে সেটার আমূল পরিবর্তন হবে বলে বিশ্বাস করি। এতে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। গণতন্ত্রেও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বিকাশ হবে। আর এর সুফল ভোগ করতে পারবে জনগণ।’ জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতার জায়গায় বলা হয়েছে, ‘কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত যেকোনো দণ্ডের মার্জনা, বিরাম মঞ্জুর করার এবং যেকোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ড, নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণক্রমে উক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইনে এরূপ বিধান রাখা হবে যে এরূপ কোনো আবেদন বিবেচনার পূর্বে মামলার বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের সম্মতি গ্রহণ করা হবে।’ বিদ্যমান সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হলেন, সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তি। তিনি দেশের সব নাগরিকের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন। তবে তাঁর মূল ক্ষমতাগুলো মূলত সাংবিধানিক কিছু বিধিমালার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতির নিয়োগ- এই দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত প্রতিটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তা ছাড়া জাতীয় সংসদে উত্থাপিত কোনো বিল পাস হওয়ার পর তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য বঙ্গভবনে পাঠানো হয়। তাঁর স্বাক্ষর মিললেই বিলটি আইনে পরিণত হয়। এমনকি সংসদ অধিবেশন চালু না থাকলে জরুরি মুহূর্তে অনুচ্ছেদ ৯৩ অনুযায়ী তিনি ‘অধ্যাদেশ’ বা জরুরি আইন জারি করতে পারেন।
সহযোগীদের খবর
সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে শিল্পে গ্যাস-সংকট
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
২ ঘন্টা আগে
৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৯ঃ১৯ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
