‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা’ কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার আলোচনা নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ন্যায়, সমতা ও সমান সুযোগ প্রতিষ্ঠার মৌলিক প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, পাকিস্তান আমলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি সংগ্রামের মূল প্রেরণা ছিল বৈষম্যের অবসান এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। স্বাধীনতার পরও গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংকট প্রমাণ করেছে যে, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সমঅধিকার নিশ্চিত না হলে বৈষম্য নতুন রূপে ফিরে আসে।
এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার সর্বশেষ অধ্যায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান, যা বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করতে পারে না; এর জন্য প্রয়োজন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা। কারণ শিক্ষা শুধু জ্ঞানার্জনের মাধ্যম নয়, বরং মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সমান নাগরিক সুযোগ নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি।
তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী সমান সুযোগ, সমান মর্যাদা এবং সমান সম্ভাবনা নিয়ে বিকশিত হতে পারে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী অধ্যায়। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না; বরং বৈষম্য, অন্যায় এবং সুযোগের অসম বণ্টনের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সর্বজনীন গণজাগরণ। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি থেকে আন্দোলনের সূচনা হলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই এটি রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, সমঅধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।
১ জুলাই ২০২৪ “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন”-এর কর্মসূচি শুরু হয়। ১৪ জুলাইয়ের রাজনৈতিক বক্তব্য, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ আন্দোলনকে নতুন গতি দেয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, হল ত্যাগের নির্দেশ, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও কারফিউ জারির মতো কঠোর পদক্ষেপও আন্দোলনকে থামাতে পারেনি। বরং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকের অংশগ্রহণে এটি একটি সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। ৩ আগস্ট একদফা দাবির ঘোষণার মাধ্যমে আন্দোলনের লক্ষ্য সুস্পষ্ট হয় এবং ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এটি একটি নতুন বাস্তবতার সূচনা করে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো, এটি বাংলাদেশের তরুণ সমাজের ন্যায়, সমতা, মর্যাদা এবং মেধাভিত্তিক সুযোগের প্রত্যাশাকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে রাষ্ট্রের সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা সুযোগ কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর একচেটিয়া অধিকার হতে পারে না; বরং তা সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হলো বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা। যদি শিক্ষাক্ষেত্রেই সুযোগ, মান এবং প্রবেশাধিকারে বৈষম্য থেকে যায়, তবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যও অধরাই থেকে যাবে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী সমান সুযোগ ও মর্যাদা নিয়ে বিকশিত হওয়ার পরিবেশ পায়।
শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি সামাজিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিকাশের প্রধান চালিকাশক্তি। যে সমাজে শিক্ষা সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত থাকে, সেখানে মেধা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে এবং বৈষম্য ক্রমশ হ্রাস পায়।
বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা বলতে এমন একটি ব্যবস্থা বোঝায়, যেখানে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ তার পারিবারিক পরিচয়, আর্থিক সামর্থ্য, লিঙ্গ, ধর্ম বা ভৌগোলিক অবস্থানের পরিবর্তে মেধা, পরিশ্রম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। কৃষক বা শ্রমিকের সন্তান, প্রত্যন্ত অঞ্চল কিংবা শহরের শিক্ষার্থী—সকলেই সমান মানসম্পন্ন শিক্ষা, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সমান সুযোগ লাভ করবে।
কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিভিন্ন স্তরে সুযোগ ও মানের বৈষম্য বিদ্যমান, যা সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে নতুন শ্রেণিবিভাজন সৃষ্টি করছে। ফলে শিক্ষা সামাজিক গতিশীলতার সেতুবন্ধন হওয়ার পরিবর্তে কখনও কখনও বৈষম্যকে আরও দৃঢ় করে তুলছে। তাই বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা মানে শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা নয়; বরং সম্পদের ন্যায্য বণ্টন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, সমমানের শিক্ষার পরিবেশ এবং সবার জন্য সমান সম্ভাবনা নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য অর্জনের প্রথম শর্ত হলো বিদ্যমান বৈষম্যগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম প্রধান বাধা হলো বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্য। শিক্ষা যদি সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সামাজিক ন্যায়, সমতা ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তত চারটি প্রধান বৈষম্য স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায় অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, আঞ্চলিক এবং বাজেট ও অবকাঠামোগত বৈষম্য।
প্রথমত, অর্থনৈতিক বৈষম্য শিক্ষার সুযোগ ও মানকে ক্রমশ নির্ধারণ করছে। কোচিং সেন্টার ও তথাকথিত “ছায়া শিক্ষা”-র বাণিজ্যিকীকরণের ফলে এ খাতের বাজারমূল্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে কঠিন। ফলে শিক্ষার গুণগত মান ও প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ ক্রমেই অর্থনৈতিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে এবং শিক্ষা ধীরে ধীরে একটি জনসেবা থেকে বাজারনির্ভর পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য শিক্ষাব্যবস্থাকে একাধিক স্তরে বিভক্ত করেছে। ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম এবং মাদ্রাসা—এই তিন ধারার মধ্যে সুযোগ, অবকাঠামো, ভাষাগত দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য বিদ্যমান। ইংরেজি মাধ্যমের অনেক প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ব্যয় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং মাসিক ফি প্রায় ৭০ হাজার টাকা, যা অধিকাংশ পরিবারের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে সরকারি বাংলা মাধ্যম বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার অনেক প্রতিষ্ঠান অবকাঠামো ও শিক্ষাসামগ্রীর ঘাটতিতে ভুগছে। প্রাথমিক স্তরে নিবন্ধিত এবতেদায়ী মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীপ্রতি মাসিক ব্যয় যেখানে মাত্র ১০.৫০ টাকা, সেখানে কিন্ডারগার্টেন বা ইংরেজি মাধ্যমে তা ৫৩১.২৫ টাকা প্রায় ৫১ গুণ বেশি। এই বৈষম্য ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগেও অসমতা সৃষ্টি করে।
তৃতীয়ত, আঞ্চলিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য এখনও একটি বড় বাস্তবতা। চরাঞ্চল, হাওর, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে তুলনামূলকভাবে বঞ্চিত। হাওর অঞ্চলের গড় সাক্ষরতার হার প্রায় ৩৮ শতাংশ; একই সঙ্গে প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার প্রায় ৪৪ শতাংশ। এসব তথ্য নির্দেশ করে যে শিক্ষাবঞ্চনা শুধু অর্থনৈতিক নয়, একটি সুস্পষ্ট স্থানিক বৈষম্যও।
চতুর্থত, বাজেট ও অবকাঠামোগত বৈষম্য শিক্ষার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথে অন্যতম বাধা। ইউনেস্কো শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪-৬ শতাংশ বিনিয়োগের সুপারিশ করলেও বাংলাদেশে দীর্ঘদিন এ হার ১.৫ শতাংশের আশেপাশে ছিল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা ২.০০ শতাংশে উন্নীত হওয়া ইতিবাচক হলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় এখনও অপর্যাপ্ত। এর ফলে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি রয়ে গেছে।
অতএব, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য কোনো একক সমস্যার ফল নয়; বরং অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, ভৌগোলিক এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতার সম্মিলিত প্রতিফলন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমতা ও ন্যায়বিচারের চেতনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এই বৈষম্যগুলো দূর করার জন্য তথ্যনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা সংস্কার অপরিহার্য।
শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে শুধু প্রতিশ্রুতি বা স্লোগান নয়; প্রয়োজন তথ্যনির্ভর, প্রমাণভিত্তিক এবং প্রযুক্তিসমর্থিত নীতিনির্ধারণ। বৈষম্যের প্রকৃতি, বিস্তার ও কারণ সঠিকভাবে চিহ্নিত না করলে কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়। তাই শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সম্পদ বণ্টন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় গবেষণালব্ধ তথ্য, পরিসংখ্যান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ভূ-স্থানিক বিশ্লেষণের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, হাওর অঞ্চলে বিদ্যালয়ের দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতির সম্ভাবনা প্রায় ৫৬ শতাংশ কমে যায়। এ ধরনের তথ্য প্রমাণ করে যে শিক্ষাবঞ্চনা শুধু অর্থনৈতিক নয়; এটি ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোথায় নতুন বিদ্যালয় প্রয়োজন, কোথায় শিক্ষক সংকট সবচেয়ে বেশি, কোন এলাকায় ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনক কিংবা কোথায় অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি এসব নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব। এর ফলে বাজেট, শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষাসামগ্রী বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে বণ্টন করা যাবে।
একই সঙ্গে কিছু মৌলিক নীতিগত সংস্কার অপরিহার্য। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে কার্যকরভাবে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করা, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে একটি সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি, গবেষণা অনুদান ও শিক্ষাঋণকে মেধা ও আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে সম্প্রসারণ করতে হবে। পাশাপাশি একটি সমন্বিত জাতীয় শিক্ষা তথ্যব্যবস্থা গড়ে তুলে নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ নিশ্চিত করতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ তার জন্মস্থান, পারিবারিক আয় বা সামাজিক পরিচয় নয়; বরং মেধা, পরিশ্রম এবং সমান সুযোগের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থাই সেই ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশের প্রধান ভিত্তি।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি ছিল সমতা, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় নতুন প্রজন্মের এক ঐতিহাসিক জাগরণ। শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং অসংখ্য তরুণের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আমাদের একটি ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে হবে। আর সেই সমাজ নির্মাণের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হলো শিক্ষা। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ তার দারিদ্র্য, সামাজিক পরিচয় বা ভৌগোলিক অবস্থান নয়; বরং মেধা, পরিশ্রম ও সমান সুযোগের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বাস্তবায়ন শিক্ষাক্ষেত্র থেকেই শুরু হতে হবে, কারণ বৈষম্যহীন শিক্ষা ছাড়া বৈষম্যহীন বাংলাদেশ নির্মাণ সম্ভব নয়।
লেখক: অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এবং জুলাই যোদ্ধা।
