পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, একজনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অংশ নয়। জাতীয় স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রেখে বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করাই সরকারের লক্ষ্য। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কূটনীতিতে আমরা আন্দাজের ভিত্তিতে কাজ করি না। আমরা বাস্তবতার ভিত্তিতে কাজ করি। সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভর করে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হয় না।
তিনি বলেন, কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ‘জিরো-সাম গেম’ নয়। একজনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করার নীতি বাংলাদেশ অনুসরণ করে না। এক্ষেত্রে নিজস্ব স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রেখে এবং সেই স্বার্থকে এগিয়ে নিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।
খলিলুর রহমান বলেন, কারও সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন হওয়ার অর্থ এই নয় যে, অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে সেই সফরও ইতিবাচক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেটের ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়েছে এবং এসব মতবিনিময়ের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে শুধু একটি দেশের নয়, বহু দেশের সম্পর্ক রয়েছে। এসব সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ। যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ থাকবে, সেখানেই দেশ এগিয়ে যাবে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

সিরু
৪৬ মিনিট আগেআমার আগে আমরা,
আমাদের আগে দেশ,
ক্ষমতার আগে জনতা,
সবার আগে বাংলাদেশ।