ফের এক ভারতীয় নারীকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়েছে

ফের এক ভারতীয় নারীকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়েছে

ফন্ট সাইজ:

কিছুদিন আগে বাংলাদেশি সন্দেহে সোনালি খাতুন, সুইটি বেগম ও তাদের স্বামী সন্তানসহ ঠেলে পাঠানো হয়েছিল। শেষপর্যন্ত বহু কাঠখড় পুড়িয়ে আদালতের নির্দেশে তাদের ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। এবার ফের এক ভারতীয় নারীকে সন্দেহভাজন হিসেবে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪পরগণার স্বরূপ নগরের গোবিন্দপুরের বাসিন্দা ৪৭ বছরের সাইদা ফকির তার স্বামী জুম্মান ফকিরের সঙ্গে প্রায় ২০ বছর ধরে নাবী মুম্বাইয়ের সান গোল্ডেন প্যালেস এলাকায় ছিলেন। এই দম্পতি সেখানে গাড়ি ধোয়ার কাজ করতেন। পরিবারের পক্ষে জানানো হয়েছে, গত ১৯ জুলাই সাইদা বাজারে যাচ্ছিলেন। এই সময় পথ আটকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় আটক কেন্দ্রে। স্ত্রী রাতে বাড়ি না ফেরায় সাইদার স্বামী থানায় ডায়েরি করেন। পরে জুম্মান জানতে পারেন, বাংলাদেশি সন্দেহে তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। শেষপর্ন্ত কয়েকদিন থানা ও আটককেন্দ্রে ঘোরাঘুরির পর জানানো হয়, সাইদাকে আসাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

এরপর সাইদার পরিবারের সদস্যরা আধার কার্ড, প্যান কারর্ড, ভোটারপরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথি নিয়ে স্বরূপনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরিবারের বক্তব্য, ভোটার সংশোধন তালিকা থেকে সাইদার নাম বাদ দেয়া হয়নি। সীমান্ত এলাকায় থাকার কারণেই এই হেনস্থা। পরিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। আদালতে শুনানি হলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাইদার স্বামী বলেছেন, বাংলাদেশে তার স্ত্রী কী অবস্থায় রয়েছেন তার কিছুই তিনি জানেন না।

এদিকে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন কাটিয়ে আসা সোনালী খাতুন বলেছেন, এভাবে আমাদের সন্দেহের বশে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিলে কী কষ্ট ভোগ করতে হয় তা আমি ভুগেছি।

স্থানীয় বিজেপি নেতা বৃন্দাবন সরকার বলেছেন, সাইদার নথি ভালো করে যাচাই করতে হবে। খোঁজ করতে হবে এই নারী বাংলাদেশি নাকি ভারতীয়। অন্যদিকে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় বাস করলেই কেউ বাংলাদেশি হয়ে যান না। তার অভিযোগ, যারা বিজেপিকে ভোট দেয়নি তারা হিন্দু বা মুসলমান যাই হোক না কেন ঠেলে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন