নেত্রকোণায় তীব্র তাপদাহ ও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

ফন্ট সাইজ:

তীব্র তাপদাহের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নেত্রকোণার জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষও পড়েছেন বিপাকে। পৌর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। কোনো কোনো এলাকায় দিনে ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও নাজুক। এদিকে নেত্রকোণা তিতাস গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। গ্যাস সংকটের পাশাপাশি অতিরিক্ত লোডশেডিং জনভোগান্তিকে আরও তীব্র করে তুলেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার অফ-পিক আওয়ারে নেত্রকোণায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ১৩ মেগাওয়াট।

নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সূত্রে জানা গেছে, জেলায় পৌনে ৭ লাখ গ্রাহকের জন্য ১৩৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে অফ-পিক আওয়ারে ৩৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ব্যাপক ঘাটতির কারণে বিদ্যুতের নাজুক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি হিসাবে যে পরিমাণ লোডশেডিংয়ের তথ্য দেয়া হচ্ছে, বাস্তবে পরিস্থিতি তার চেয়েও ভয়াবহ। তাদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় দিন-রাত সমানতালে লোডশেডিং করা হচ্ছে।

নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আকরাম হোসেন বলেন, জেলার ১০টি উপজেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ১৩৫ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে আমরা মাত্র ৩৫ মেগাওয়াট বরাদ্দ পাচ্ছি। দুপুরের পর বরাদ্দ বেড়ে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট হয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। অন্যদিকে নেত্রকোণা পিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দীন বলেন, পিডিবি’র আওতায় ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। আমরা চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ পেয়েছি। আশা করছি, বিকালের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন