চাঁপাইনববাগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে সালিশ বৈঠকে হাতাহাতির ঘটনায় হওয়া মামলায় ২ মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন সাতজন আসামি। এই সময়ের মধ্যে তাদের জামিনের আবেদন করা সম্ভব হয়নি। এই মামলার বাদী আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় আসামিদের জামিনের ব্যবস্থা করার জন্য পক্ষে কোনো আইনজীবী পাওয়া যায়নি। সমপ্রতি কারা কর্তৃপক্ষ জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তার কাছে আইনজীবী নিয়োগের জন্য আসামিদের পক্ষে আবেদন জানায়। জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে কারাবন্দিদের পরিবারের সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। আসামিদের জামিন ও কারামুক্তির দাবিতে জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। কারাবন্দি সাত আসামি হলেন- ঈমাম হোসেন বাররু, মো. রমিন, মো. আকিব, মো. কুইক আলী, মো. জিদান, মো. সিফাত আলী ও মো. পরশ। এদের মধ্যে ৫ জনের বসয় ১৮ বছরের কম। তারা ২ মাস ৯ দিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে আছেন।
কারাবন্দির স্বজনরা বলেন, মামলার বাদী আইনজীবী হওয়ায় কোনো আইনজীবী পাওয়া যাচ্ছে না। তারা দীর্ঘদিন কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা আইনজীবীর সহযোগিতা পাওয়া ও আদালতে জামিনের আবেদন করার জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. একরামুল হোসাইন বলেন, আইনজীবী সমিতিতে হাতাহাতির ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা মেডিকেল রিপোর্টও হাতে পেয়েছি। এটি আইনের ৩২৩ ধারর অধর্তব্য অপরাধে পড়ে। দ্রুতই আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার বাদী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হাসিব মানবজমিনকে বলেন, যে কোনো আইনজীবী মামলা লড়তে পারবেন, বারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। তবে কোনো মামলা গ্রহণ বা বর্জনের ব্যাপারটি আইনজীবীদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। যারা কারাগারে আছে তারা আইনজীবীদের মারধর করেছে। পরে বারের সিদ্ধান্তে আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি। তবে আইনগত সহায়তা পেতে আসামিরা হকদার। আমাদের পক্ষ থেকে কোন বাধা নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ বলেন, যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের এবং আইনজীবীর সাহায্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কোনো আসামি নিজে অসমর্থ হলে, রাষ্ট্র আইনজীবী নিয়োগ দেবে। এটি শুধু আমাদের দেশে নয়, বিশ্বের সব জায়গায় স্বীকৃত অধিকার।
আইনজীবীরাও কিন্তু অফিসার্স অব দ্য কোর্ট। আইনজীবী ছাড়া সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। প্রতিটি মানুষ, সে যত বড়ই অপরাধী হোক না কেন তার আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখে। অবশ্যই তার পক্ষে কোনো না কোনো আইনজীবী দাঁড়াবে। এটাই বিধান। তিনি আরও বলেন, এখানে জুডিশিয়ারির ও রোল প্লে করার সুযোগ আছে। বিচারক যেহেতু বিষয়টা অবগত, চাইলে তিনিও ব্যবস্থা নিতে পারেন। এখানে কোনো বাধা নেই। আইনজীবী না থাকলে অভিযুক্তরা আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলতে পারেন। আইনের শাসনের মূল কথাই হলো আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া।
