আশুলিয়ার তৈয়বপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুর, কাশিমপুরসহ সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ ও বিরিয়ানির দোকানে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার তৈয়বপুর এলাকার ময়লার ভাগাড় সংলগ্ন নির্জন পরিত্যক্ত বাড়িতে রাতের আঁধারে ঘোড়া জবাই, চামড়া ছাড়ানো ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করে সেগুলো রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। সোমবার রাতে ঘোড়া জবাই করার সময় সংবাদকর্মী ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গেলে চক্রটির সদস্যরা পালিয়ে যায়। এ সময় চক্রের কাউকে আটক করতে না পারলেও ঘটনাস্থল থেকে ঘোড়া জবাইয়ের বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে অসুস্থ ঘোড়া এনে পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতরে জবাই করতো। ভোর হওয়ার আগেই মাংস প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করে সেই মাংস আশুলিয়া, সাভার, উত্তরা ও কাশিমপুরের বিভিন্ন হোটেলে, সাধারণ খাবারের দোকান এবং বিরিয়ানির ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রটির নেপথ্যে রয়েছে আশুলিয়ার রংপুর মার্কেট এলাকার এক লোক। সে বিভিন্ন এলাকা থেকে কম দামে অসুস্থ কিংবা পরিত্যক্ত ঘোড়া সংগ্রহ করে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করতো। তবে নির্জন পরিবেশ এবং সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। বাড়িটির সামনে ও পেছনে পৃথক দু’টি প্রবেশপথ থাকায় অভিযুক্তরা সহজেই যাতায়াত ও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে শুধু জবাইকারী চক্র নয়, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই মাংস সংগ্রহ, পরিবহন কিংবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হোটেল-রেস্তরাঁয় ব্যবহৃত মাংসের উৎস যাচাইয়ে নিয়মিত অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং খাদ্য নিরাপত্তা তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য আছমা বেগম বলেন, পরিত্যক্ত বাড়িটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গুঞ্জন ছিল। রাতের আঁধারে সেখানে কী হয়, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ ছিল। এখন যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ এটি শুধু খাদ্যে ভেজাল বা প্রতারণার ঘটনা নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের হুমকি।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
