ঝিনুক পোড়ানো চুনেই জীবিকা

ঝিনুক পোড়ানো চুনেই জীবিকা

ফন্ট সাইজ:

আধুনিকতার দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক প্রাচীন পেশা। তবে গাইবান্ধা সদর উপজেলার দরিয়াপুর যুগিপাড়া গ্রামে এখনো টিকে আছে শত বছরের এক অনন্য ঐতিহ্য। বংশপরম্পরায় ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরির আদিম পদ্ধতিকে আঁকড়ে ধরে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন গ্রামটির শতাধিক পরিবার। বর্তমানে এই বিশেষ চুন শিল্পই গ্রামটির প্রধান অর্থনৈতিক পরিচয়ে পরিণত হয়েছে।

সরজমিন দেখা যায়, যুগিপাড়া গ্রামের নারী ও পুরুষরা একযোগে এই কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত। স্থানীয় নদী-নালা ও খাল-বিল থেকে সংগ্রহ করা ঝিনুক প্রথমে কড়া রোদে শুকানো হয়। এরপর বিশেষভাবে তৈরি মাটির চুল্লিতে সাজিয়ে উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়ানো হয় সেগুলোকে। দীর্ঘ সময় দহনের পর ঝিনুকগুলো যখন সাদা ছাইয়ের মতো হয়ে যায়, তখন সেগুলোকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশ্রিত করে তৈরি করা হয় খাঁটি চুন। পান রসিকদের কাছে এই ‘ঝিনুক চুন’ অত্যন্ত জনপ্রিয়। স্থানীয় চুন কারিগর গণেশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা এই কাজ করে গেছেন। আমরাও অনেক কষ্ট করে ঐতিহ্যটি ধরে রেখেছি। আগে নদী-নালায় প্রচুর ঝিনুক পাওয়া যেত, এখন সংগ্রহ করতে অনেক পরিশ্রম ও সময় লাগে। তবুও এই চুনই আমাদের পরিবারের অন্নসংস্থান করছে। পরস চন্দ্র দেবনাথ আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে জ্বালানির দাম অনেক বেড়ে গেছে। এছাড়া খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় কাঁচামাল বা ঝিনুকের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি বা বেসরকারি কোনো বড় ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ক্ষুদ্র কুটির শিল্পটি আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হতো। যুগিপাড়ার কারিগররা প্রতিদিন গড়ে কয়েক কেজি চুন তৈরি করেন। উৎপাদিত এই চুন দরিয়াপুর বাজারসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পাইকারি ও খুচরা দরে বিক্রি হয়। রাসায়নিক মিশ্রিত চুন অপেক্ষা এই প্রাকৃতিক চুনের কদর বেশি থাকায় স্থানীয় হাট-বাজারে এর চাহিদা সবসময়ই থাকে। জেলা বিসিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌস বলেন, ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরি গাইবান্ধার একটি সম্ভাবনাময় কুটির শিল্প। এই কারিগররা দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখছেন। বিসিকের পক্ষ থেকে তাদের দক্ষতা আধুনিক করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম গতিশীল করতে আমরা নিয়মিত ক্ষুদ্রঋণ সহায়তাও প্রদান করছি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন