সৌরভ ছড়াতে চায় তারা

সৌরভ ছড়াতে চায় তারা

ফন্ট সাইজ:

প্রিয় ক্রিকেটারের নামকে সঙ্গী করে ছুটছে রংপুরের আবদুল কাইয়ুম সাকিব। পছন্দের বোলারের অ্যাকশনে মজেছে রাজশাহীর মোহাম্মদ শামীম। একই অঞ্চলের শারাফাত সাদিদ তো স্বচক্ষে নিজের আইডলকে দেখার সুযোগ পেলো। তাদের সবাইকে একবিন্দুতে এনেছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। মিরপুর শেরেবাংলার সবুজ ঘাসে উজ্জ্বল এক একজন কুঁড়ি। ভবিষ্যতে ফুল হয়ে সৌরভ ছড়াতে চায় তারা।

বাবা এনামুল হক রতনের হাত ধরে চার বছর বয়সে ক্রিকেটের হাতেখড়ি সাকিবের। পড়াশুনা করে রংপুরের শিশু নিকেতন স্কুলে। একদিন জেলা একাডেমিতে দেখা পেয়ে যায় দেশের পরিচিত কোচ সালাউদ্দিনের। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পাশাপাশি লেগ স্পিন জাদু দেখানো সাকিবকে চিনতে ভুল করেননি তিনি। ঢাকায় ট্যালেন্ট হান্টে আসতে বলেন। বৃত্তির ব্যবস্থা করে দেন। সেখান থেকেই স্বপ্নীল পথচলা। আইডল সাকিব আল হাসানকে দেখে নামও পাল্টে ফেলে। হিমেল নামের জায়গায় যোগ করে সাকিব। শুধু সাকিবই নয়, অজি কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের ভক্ত সে। বহুদূর পথ পাড়ি দেয়া সেই সাকিব নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মঞ্চে আলাদা করে নজর কেড়েছে।

জাতীয় পর্বে ৪ ম্যাচে ৬১ রান করে সে। নেয় ১ উইকেট। ভবিষ্যতে দেশের জার্সিতে খেলার আশা সাকিবের। সে বলে, ‘মিরপুরে খেলার সুযোগ পেয়েছি বলে খুশি। ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখি।’ চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে উঠে আসা মোহাম্মদ শামীমের গল্পটা আরও কঠিন। বাবা ভ্যানচালক। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে নতুন কুঁড়ির মঞ্চে আলো কেড়েছে। হয়েছে টুর্নামেন্ট সেরা। একদম সুনীল নারিনের মতো বোলিং অ্যাকশন তার। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের মঞ্চ পেরিয়ে জাতীয় দলে খেলতে চায় শামীম। এ কিশোর স্পিনার বলে, ‘জাতীয় দলে একদিন খেলবো। সুনীল নারিনকে আমার ভালো লাগে। এজন্য শুরুর থেকে এ অ্যাকশনে বোলিং করি।’ রংপুরের সাদিদ জাতীয় পর্যায়ে রীতিমতো রানের বন্যা বইয়ে দেয়। ৩ ম্যাচে করেছে ১৪৯ রান। সর্বোচ্চ ৭৪ রানের ইনিংসটি ফাইনালে।

এ ইনিংসে মেরেছে ৮ ছক্কা ও ৫ চার। আইডল নাজমুল হোসেন শান্তর কাছ থেকে নেয় ম্যাচ সেরার পুরস্কার। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর স্বপ্ন যে দেখে সেটি আড়াল করেনি। সাদিদ বলে, ‘স্বপ্ন ন্যাশনাল টিমে এসে ডোমিনেট করবো। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চাই। রাজশাহীর নাম উজ্জ্বল করতে চাই- এতটুকুই।’ মিরপুরে খেলার সুযোগ পেয়ে আপ্লুত সাদিদ। সেটি ভাষায় প্রকাশ করে এভাবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমাদের মতো কিশোরদের মিরপুর ‘হোম অব ক্রিকেট’-এ খেলার সুযোগ করে দেয়ায়। সাধারণত আমরা এইজ লেভেল- ১৪, ১৬, ১৮ ছাড়া খেলার সুযোগ কম পাই।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন