বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। হারের দুঃস্বপ্ন কাটার আগেই বড় ধাক্কা আলবিসেলেস্তে শিবিরে। দীর্ঘ ১৭ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে অবসর ঘোষণা করলেন ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক দীর্ঘ ও আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে জাতীয় দলের জার্সি খুলে রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান আর্জেন্টাইন তারকা। বিদায়বেলায় নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারেননি এই ডিফেন্ডার। বিদায়ী বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন শব্দগুলো লিখতে বাধ্য হচ্ছি। ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়ানোর স্বপ্ন দেখতাম, আর ফুটবল আমাকে সেই সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান দিয়েছে।
প্রতিটি ম্যাচে এই জার্সির মর্যাদা রক্ষায় নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছি।’ এর মাধ্যমেই সমাপ্তি ঘটলো আর্জেন্টাইন ফুটবলের সোনালি প্রজন্মের অন্যতম নির্ভরযোগ্য স্তম্ভের রূপকথা। ২০০৯ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া ওতামেন্দি দেশের হয়ে ১৩৯টি ম্যাচ খেলেছেন, করেছেন ৮টি গোল। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০২২ সালের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপসহ মোট ৪টি বড় শিরোপা জয়ের সাক্ষী তিনি। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম একাদশে নিয়মিত না থাকলেও, প্রতিটা পদক্ষেপে দলকে পথ দেখিয়েছেন। ফাইনালে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ চোটে পড়লে প্রথমার্ধের শেষদিকে মাঠে নেমে রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ওতামেন্দি। ফাইনালের পরাজয় নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও বিদায়ের ক্ষণে নিজের তৃপ্তির কথা জানান তিনি, ‘ভাগ্য আমাদের বিশ্বকাপ ফাইনালে এনে দাঁড় করায়।
প্রত্যাশিত ফলাফল আমরা পাইনি, তবে মাথা উঁচু করেই বিদায় নিচ্ছি। কারণ শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত এই দল নিজের সবটুকু দিয়ে লড়াই করেছে। জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়।’ বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে ওতামেন্দি পরামর্শ দেন, পরাজয়ে মন না ভেঙে স্বপ্ন বাস্তবায়নে লড়াই চালিয়ে যেতে। দেশবাসীকে ভালোবাসার চাদরে মুড়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান, খেতাব ইতিহাসে লেখা থাকে কিন্তু নীল-সাদা রঙের প্রতি ভালোবাসা থেকে যায় আজীবন।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বুট জোড়া তুলে রাখলেও, রিভার প্লেটের হয়ে ক্লাব ফুটবলে মাঠ কাঁপিয়ে যাবেন এই তারকা ফুটবলার।
