শ্যামনগরে এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

শ্যামনগরে এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সচেতন নাগরিক সমাজ। বুধবার বেলা ১২টায় শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে শ্যামনগর চৌরাস্তা মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে মিলিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে গাজী নজরুলের ছবি ও প্রতীকী ঝাড়ু দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। মিছিলে অংশ নেয়া বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা কয়েকজন অংশগ্রহণকারী বলেন, আমাদের কাছ থেকে ভোট নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা বলেন, আমরা নারীদের নিরাপত্তা চাই। নারীদের প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। সমাবেশে পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম আমজাদ বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিল, কিন্তু আজ তারা প্রতারিত বোধ করছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই। শ্যামনগরে আমরা গাজী নজরুলকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি। নাগরিক নেতা আশেক ই এলাহি মুন্না বলেন, প্রথমে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছিল।

পরে একের পর এক ভিডিও প্রকাশের পর সেই দাবি আর শোনা যায়নি। এরপর সংসদ সদস্য নিজেই ফেসবুকে একটি বিবৃতি দিয়ে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। পরে আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে একটি বাড়িতে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়তে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শ্যামনগরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাই, দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হোক।

একইসঙ্গে সরকারের কাছে দাবি জানাই, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অবস্থান নেয়ায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, সমাবেশে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন