পেকুয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ৫৮ বাঁধ অপসারণ চলছে

পেকুয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ৫৮ বাঁধ অপসারণ চলছে

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ সরকারি খালে নির্মিত অবৈধ কৃত্রিম বাঁধ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পশ্চিম মটকাভাঙা এলাকার নুরুল আলমের বাঁধ কেটে অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দিনের অভিযানে ১২টি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একশ্র্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি সরকারি খালে অবৈধভাবে কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ এবং স্লুইসগেটে জাল বসিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে আসছিল। এর ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে মগনামা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যেত।

ছোট-বড় অন্তত ২০টি মাছের ঘেরের মাছ ভেসে যায়, কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয় এবং প্রায় তিন হাজার পরিবার দীর্ঘদিন পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। গত ১৮ই জুলাই বন্যাকবলিত মগনামা এলাকা পরিদর্শনকালে পেকুয়া-চকরিয়া আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারি খালে নির্মিত সব অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং স্লুইসগেটে বসানো জাল সরিয়ে ফেলার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরীকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন ও উপজেলা প্রশাসন ও পেকুয়া থানাকে তাকে সহযোগিতার নির্দেশ দেয়। তার সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে সরকারি খালের মোট ৫৮টি অবৈধ কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ এবং স্লুইসগেটে বসানো সব জাল সরিয়ে ফেলা হবে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম দিনে যাদের অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে তারা হলেন, পশ্চিম মটকাভাঙার নুরুল আলম কোম্পানি, আবুল বশর, আবুল কালাম, গিয়াস উদ্দিন, মধ্যম মটকাভাঙার জহির আলম, হেলাল উদ্দিন, পশ্চিম মটকাভাঙার মগঘোনা এলাকার আবু তৈয়ব এবং মটকাভাঙার জালাল কোম্পানি, তাঁতীদলে নেতা মোজাম্মেল। এ সময় রুপাই খালে বাঁধ অপসারণ কালে শাহাবউদ্দিন, কুমসুমা বেগম, আবুল হোসেন, পাখি বেগম, আবুল বশর ও রমজান আলী (প্রকাশ মিয়া উদ্দিন) বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে।

চেয়ারম্যান ও জনতার প্রতিরোধে তারা পালিয়ে যায়। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনায় সরকারি খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ সব বাঁধ ও স্লুইসগেটে বসানো জাল অপসারণ করা হচ্ছে। জনস্বার্থে এ অভিযান চলমান থাকবে। খাল দখলমুক্ত হলে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষি ও মৎস্য খাতের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি রোধ হবে এবং সাধারণ মানুষও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। অভিযান চলাকালে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম সার্বক্ষণিক তদারকি করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদ সচিব মো. আবদুর রাজ্জাক, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলম, পেকুয়া থানা পুলিশ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন