বিএনপি সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে নাটোরের লালপুর উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে ১৭৯টি উন্নয়ন প্রকল্প। এসব প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুলের নির্দেশে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠন করা হয় বিশেষ প্রকল্প মনিটরিং কমিটি। বুধবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা থোক বরাদ্দ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় মোট ১৭৯টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
এর মধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ১৬৩টি প্রকল্প ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ১৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্পে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৮৬ হাজার ৫০ টাকা, ৬৯ দশমিক ৩৫০ টন চাল ও ৭০ দশমিক ৩৫০ টন গম ব্যয় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, উন্নয়ন সহায়তা থোক বরাদ্দ ও এডিপি’র আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিমন্ত্রী পুতুল শুরু থেকেই স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তার নির্দেশনায় গঠিত বিশেষ মনিটরিং কমিটি নিয়মিত প্রকল্প পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ ও উপকরণের গুণগত মান এবং বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার যাচাই করে।
বিশেষ প্রকল্প মনিটরিং কমিটির সদস্য ও ২নং ঈশ্বরদী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রঞ্জু মানবজমিনকে বলেন, তার ইউনিয়নে পাঁচটি এইচবিবি রাস্তা, ছয়টি মসজিদ, একটি মন্দির ও একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আওলাদ হোসেন বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনে প্রকল্পগুলোর কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহ মানবজমিনকে বলেন, একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত প্রকল্প নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়েছে। কোথাও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিবর্তন করতে ঠিকাদারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
