চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতবিক্ষত গ্রামীণ সড়ক, বিচ্ছিন্ন বহু জনপদ

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতবিক্ষত গ্রামীণ সড়ক, বিচ্ছিন্ন বহু জনপদ

ফন্ট সাইজ:

বন্যার পানি নেমে গেলেও চট্টগ্রামের গ্রামীণ জনপদের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। জেলার বিভিন্ন উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্টের কারণে এখনো ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যোগাযোগ। কোথাও সড়কের নিচের মাটি সরে গেছে, কোথাও ধসে গেছে সড়কের বড় অংশ, আবার কোথাও ভেঙে পড়েছে সেতু ও কালভার্ট। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৫ উপজেলায় ৬১৪টি গ্রামীণ সড়কের প্রায় ৫০০ কিলোমিটার অংশ আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ১৮০টি সেতু, কালভার্ট ও অন্যান্য অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। এসব অবকাঠামো পুনর্বাসনে প্রায় ৩৯০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এলজিইডি’র তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়া উপজেলায়।

সাতকানিয়ায় ৬১টি সড়ক এবং চারটি সেতু-কালভার্ট, বাঁশখালীতে ৫৮টি সড়ক ও ৬০টি সেতু-কালভার্ট, চন্দনাইশে ৫৫টি সড়ক ও ছয়টি সেতু-কালভার্ট এবং লোহাগাড়ায় ৩৯টি সড়ক ও সাতটি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পটিয়ায় ৬২টি, আনোয়ারায় ৫৩টি, রাউজানে ৫২টি, ফটিকছড়িতে ৫৬টি, বোয়ালখালীতে ৩৫টি, রাঙ্গুনিয়ায় ৩৩টি, সন্দ্বীপে ৩৪টি, মিরসরাইয়ে ৩০টি, হাটহাজারীতে ২০টি, সীতাকুণ্ডে ১৪টি এবং কর্ণফুলীতে ১২টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় ছোট-বড় সেতু ও কালভার্টও আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় এখনো যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অনেক সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও সড়কের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় যান চলাচল সীমিত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পণ্যবাহী যানবাহনকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এতে যাতায়াতের সময় ও ব্যয়- দু’টিই বেড়েছে। এলজিইডি চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন বলেন, বন্যায় জেলার সড়ক, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা। যেহেতু জুলাই ও আগস্ট বন্যাপ্রবণ সময়, তাই সেপ্টেম্বরের আগে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণ করা সম্ভব হবে না। তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এলজিইডি’র নিয়মিত সংস্কার কার্যক্রমের জন্য প্রায় ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুরোপুরি পুনর্নির্মাণে অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন আরও বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখাই এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সড়কগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কাজ চলছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো চলাচল উপযোগী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী পুনর্নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন