খুলনায় চার পেশাদার সাংবাদিকের ওপর ন্যক্কারজনক গুলিবর্ষণের ঘটনার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থ জোগানদাতা বা হামলাকারীদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি ঘটনার কোনো স্পষ্ট কূলকিনারা বা ক্লু উদ্ঘাটন না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনা। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এমইউজে খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিতে খুলনার সাংবাদিক হত্যার অতীত ইতিহাস এবং বর্তমান স্থবিরতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিল্টন, খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, এমইউজে খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. নূরুজ্জামান, সহ-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নূর, কোষাধ্যক্ষ মো. রকিবুল ইসলাম মতি, নির্বাহী সদস্য কে এম জিয়াউস সাদাত, বিএফইউজের সাবেক নির্বাহী সদস্য ও এমইউজে খুলনার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আলাউদ্দিন, সাংবাদিক নেতা আহমদ মুসা রঞ্জু, ফটো সাংবাদিক সেলিম গাজী, মাসুম বিল্লাহ ইমরান, তানভীর ইসলাম প্রান্ত, মো. শাহ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ই জুলাই রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে খুলনার শান্তিধাম মোড় সংলগ্ন জাতিসংঘ শিশু পার্কের পাশে আড্ডারত অবস্থায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি ছোড়ে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় এসএ টিভির ব্যুরো প্রধান রকিবুল ইসলাম মতি, স্টার নিউজের ব্যুরো প্রধান রাফিউল ইসলাম টুটুল, দৈনিক খুলনাঞ্চলের স্টাফ রিপোর্টার সৈয়দ হুমায়ুন কবীর রানা এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ব্যুরো প্রধান আব্দুল আওয়াল শেখ হামলার শিকার হন। ছোড়া গুলিতে সাংবাদিক আব্দুল আওয়াল শেখের বুকের ডান পাশ জখম হয়।
স্মারকলিপিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, খুলনায় অতীতে ২০০৪ সালে হুমায়ূন কবির বালু ও মানিক চন্দ্র সাহা, ২০০৫ সালে শেখ বেলাল উদ্দিন এবং ২০০২ সালে হারুন অর রশীদ খোকনসহ একের পর এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুর্বল পুলিশি তদন্ত ও চার্জশিটের কারণে আসামিরা পার পেয়ে গেছে। অতীতের এসব বিচারহীনতার ধারাবাহিকতাই আজ সন্ত্রাসীদের নতুন করে সাহস যোগাচ্ছে।
এমইউজে নেতৃবৃন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার আমলে যেমন সন্ত্রাসীদের দিয়ে সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের হত্যা করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা হয়েছিল, ঠিক তেমনি আজও দেশের বর্তমান বিএনপি সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে ফ্যাসিবাদের দোসররা একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এই হামলার পেছনেও কোনো গভীর রাজনৈতিক ও অস্থিতিশীল চক্রান্ত রয়েছে কি না- তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষায় স্মারকলিপিতে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়। এগুলো হলো- অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। খুলনা মহানগরীতে কর্মরত সকল সাংবাদিকের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
