সিলেটের কানাইঘাটের আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ তমিজের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থান নিতে স্থানীয় সরকার সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ইউপি সদস্য কুহিনুর। একইসঙ্গে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তমিজকে গ্রেপ্তারের জন্য আইজিপি’র কাছেও আবেদন করা হয়েছে। লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার কুহিনুর জানিয়েছেন- সশরীরে তার পক্ষ থেকে এই আবেদন করা হয়েছে। সে দীর্ঘদিন ধরে সমন্বয় সভায় অনুপস্থিত। ইউনিয়নেও অফিস করছে না। তার কারণে গোটা ইউনিয়নে অচলাবস্থা বিরাজ করলেও রহস্যজনকভাবে প্রশাসন নীরব রয়েছে। এ কারণে তিনি সচিবের কাছে এই আবেদন করেন বলে জানান। এদিকে আবেদনে মেম্বার জানান- তমিজের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে।
বিএনপি’র কানাইঘাট উপজেলা শাখার কার্যালয় ভাঙচুর, ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জোরপূর্বক ভোটকেন্দ্র দখল করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া, কানাইঘাটের আলোচিত লোভা কোয়ারি থেকে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এবং সরকারি শত শত জায়গা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তমিজ উদ্দিন ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিত। চেয়ারম্যানের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির কারণে ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। নাগরিক সনদ, জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন সরকারি নথিতে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর না পাওয়ায় জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় জনগণের চাপের মুখে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও উদ্যোক্তা নিজেরাই চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর দিয়ে নথিপত্র প্রদান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি জানান- স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিত থেকেও সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ, ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব খাতের অর্থ এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিয়মিত নিয়ন্ত্রণ করে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণ করছেন। ভিজিএফের চাল, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি’র পণ্য, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বণ্টন করে যাচ্ছেন।
এ ছাড়াও গত বছরের আদায়কৃত হোল্ডিং ট্যাক্সের প্রায় ২০ লাখ টাকা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবেদনে তিনি ৫ দফা দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে- তমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা, ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী তাকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ, ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে অবিলম্বে একজন প্রশাসক নিয়োগ, পরিষদের সকল আর্থিক লেনদেন, সরকারি বরাদ্দ, রাজস্ব খাত এবং হোল্ডিং ট্যাক্সের অর্থের নিরপেক্ষ অডিট ও তদন্ত, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
