হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৪ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বিরামচর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্নস্থানে হাঁটু পানি জমে যায়। ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীসহ সর্বস্তরের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টির পর টানা ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে থাকে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তা কাদামাটিতে পরিণত হয়ে কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। রোগী, গর্ভবতী নারী, ও বৃদ্ধদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যেতে গিয়ে কাদা ও নোংরা পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হয়। স্থানীয় কৃষকরাও উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে চরম ভোগান্তির শিকার হন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। নোংরা পানি জমে থাকায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে এবং ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আলোয়া বেগমের মাধ্যমে সড়কটির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ আসে। পরে সাবেক কাউন্সিলর সাইদুল রহমানের উদ্যোগে রাস্তার দুই প্রান্তে ঢালাই কাজ করা হলেও মাঝখানের বড় একটি অংশ কাঁচা অবস্থায় রয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ওই অংশে বছরের বেশির ভাগ সময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং দিন দিন রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, বারবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। দ্রুত সড়কটির সম্পূর্ণ সংস্কার, আরসিসি ঢালাই, কার্যকর ড্রেন নির্মাণ এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
