জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা এলাকায় যমুনা নদীতে একদিকে চলছে নদীভাঙন, অন্যদিকে বেড়েই চলেছে অবৈধ বালু উত্তোলন। এতে হুমকির মুখে পড়ছে নদী তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ। বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তারাকান্দি-ভুঞাপুর-ঢাকা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ হাট এলাকায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে বক্তারা জানান, পিংনা ইউনিয়নটি ভয়াল যমুনা নদী তীরবর্তী। এখানকার মানুষ প্রতি বছর নদীভাঙনের শিকার হন। বিগত বছরগুলোতে নদীগর্ভে বাড়িঘর ও ফসলি জমি-জমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এরইমধ্যে নদী থেকে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ইউনিয়নের অন্তত ২০টি স্পটে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও কোনো কাজে আসছে না। অথচ নলসোন্ধা ও কাঁঠালতলা এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার নলিন এলাকার সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি-ভুয়াপুর-ঢাকা মহাসড়ক ভেঙে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যেই সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে এ ভাঙন বাড়তেই থাকবে। ফলে নদী রক্ষাবাঁধ এবং কবি কায়কোবাদের স্মৃতিবিজড়িত রসপাল জামে মসজিদ, শতবর্ষী পিংনা উচ্চবিদ্যালয়, শামছুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সুজাত আলী কলেজ, পিংনা বাজার, গোপালগঞ্জ গরুর হাট, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মানববন্ধনে পিংনা, রসপাল, গোপালগঞ্জ, কাওয়ামারা, নলসোন্ধা, উল্লা, কুমারপাড়াসহ অন্তত ১০টি গ্রামের দুই সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে। তাদের বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বেলাল হোসেন ময়নাল, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান, রসপাল জামে মসজিদের সভাপতি আবু সামা, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মুকুল, কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল সবুর প্রমুখ।
