ইউরোপ পাড়ি দেয়ার স্বপ্ন বুক চাপা পড়লো হাঙ্গেরির এক হাসপাতালে। দালালের খপ্পরে পড়ে ১৮ লাখ টাকা খুইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ফরিদুর রহমান বুলবুল (৩২)। নিহত বুলবুল উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের পূর্ব বারাহীগুনী এলাকার মফিজুর রহমানের ছেলে। পরিবারে তার স্ত্রী, পাঁচ বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে এবং বর্তমানে তার স্ত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত রোববার পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে দাগনভূঞা থানা পুলিশ স্বজনদের তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এর আগে দীর্ঘদিন সৌদি আরবে একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করতেন বুলবুল। প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। এ সময় ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকার বাসিন্দা ও তথাকথিত দালাল মো. দুলালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সরাসরি বিমানে ইতালিতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে ১৮ লাখ টাকায় চুক্তি করেন দুলাল। বিভিন্ন সময়ে নগদ ও চেকের মাধ্যমে চুক্তির পুরো টাকা পরিশোধও করে পরিবার। চুক্তি অনুযায়ী গত ১৬ই জুন ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন বুলবুল। তবে বিমানে সরাসরি ইতালি না পাঠিয়ে তাকে প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই নেয়া হয়। সেখান থেকে পূর্ব ইউরোপের সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়া হয়ে সড়কপথে হাঙ্গেরিতে নেয়া হয় তাকে।
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় হাঙ্গেরির জঙ্গলে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন বুলবুল। পরে গুরুতর অবস্থায় সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহতের ভাই কাজী নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪শে জুন বুলবুলের সঙ্গে তাদের শেষ কথা হয়। তখন বুলবুল জানান, দালাল তাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভাঙেন এবং সরাসরি বিমান যাত্রার বদলে ট্রেন ও বাসে করে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর ২৬শে জুন থেকে ইমোতে রিং হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। নজরুল আরও বলেন, আমরা দুলালের কাছে গিয়ে ভাইয়ের তথ্য চাইলে তিনি নানা টালবাহানা করেন। নিহতের পরিবার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনাসহ প্রতারক দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান জানান, পুলিশ সদরদপ্তর থেকে ঠিকানা ও পরিচয় যাচাই করতে বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে নিহতের মরদেহ হাঙ্গেরির একটি হাসপাতালে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবারের খোঁজ নেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
