নারায়ণগঞ্জ নগরীর হাজীগঞ্জে অবস্থিত দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোর রাত প্রায় ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোররাতে দুর্বৃত্তরা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিলেও এখনো কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে আশপাশের সড়ক ও এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ঘটনাটি সম্পর্কে ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করা হয় ২০২৫ সালের ১৪ই জুলাই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাঁচজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া-আদমজী সড়কের হাজীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত এই স্মৃতিস্তম্ভটিই দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় একই ধরনের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির সময় এমন ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ বা তাদের সহযোগী সংগঠনের কেউ জড়িত কি না- এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, “আওয়ামী লীগ বা তাদের কেউ জড়িত কি না তা তদন্তের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে। আমরা দ্রুতই অগ্নিসংযোগকারীদের শনাক্তে কাজ করছি।”
স্মৃতিস্তম্ভটির নিরাপত্তার জন্য উদ্বোধনের পর থেকেই পাশে ফতুল্লা মডেল থানার অধীনে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ঘটনার সময় ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।
ওসি মাহবুব আলম জানান, গত ১৬ই জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। ওই অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্মৃতিস্তম্ভটি চারদিকে কাপড়ে মোড়ানো ছিল। তার ভাষ্য, “ভোররাতে দূর থেকে ছোট একটি জ্বলন্ত কাপড়ের দলা ছুড়ে মারলে সেটি স্মৃতিস্তম্ভের পাশে থাকা কাপড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের পরিমাণ অল্প ছিল এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগুনকে বাস্তবের তুলনায় বড় আকারে দেখানো হয়েছে। তবে কারা বা কতোজন এই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
