চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বার আউলিয়া কলেজ সড়কে একটি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহতের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতা, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়ে জনসাধারণের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির সময় এই কালভার্ট দিয়েই পানির স্রোত প্রবাহিত হয়। কিন্তু বর্তমানে কালভার্টের অধিকাংশ মুখ ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে পানি চলাচলের পথ উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা ভারী বৃষ্টিপাত হলে পানি উজানে ফিরে গিয়ে কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি, দোকানপাট, বার আউলিয়া কলেজসহ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। সরজমিন দেখা যায়, বার আউলিয়া কলেজের পশ্চিম পাশে সড়কের উপর অবস্থিত কালভার্টটির সিংহভাগ মুখ কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পানি চলাচলের জন্য অল্প একটি অংশ খোলা রাখা হলেও স্থানীয়দের দাবি, তা বর্ষা মৌসুমের পানির চাপ সামাল দেয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সরকারি অবকাঠামো ও পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিয়মিত তদারকি থাকলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। অভিযুক্ত ফজলুল হক জানান, কালভার্টের মুখ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।
পানি চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রেখেই নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। এখানে জলাবদ্ধতার কোনো আশঙ্কা নেই। আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ পেয়েছি। সরজমিন পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বার আউলিয়া কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুর রহমান বলেন, শুরু থেকেই আমরা একাধিকবার বাধা দিয়েছি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকেও একাধিকবার মৌখিকভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ জানান, পানি চলাচলের পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। এ ব্যাপারে সরজমিন তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
