মেটলাইফেই আবার চোখ ভিজলো মেসির

মেটলাইফেই আবার চোখ ভিজলো মেসির

ফন্ট সাইজ:

জেতার মতো আর কী বাকি আছে লিওনেল মেসির ! ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি শিরোপাজয়ী খেলোয়াড় তিনি। ৪৮টি ট্রফি। বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব ফুটবলে তার প্রাপ্তির পেয়ালা উপচে পড়েছে বহু আগেই। আর গত পাঁচ বছরে ঘুচেছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে না জেতার আক্ষেপও। দুটি কোপা আমেরিকা, একটি বিশ্বকাপ আর একটি ফিনালিসিমা ট্রফি জিতে। তবু নিয়তির খেলা বড় অদ্ভুত। যে মাঠে একদিন স্বপ্নভঙ্গের কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মেসি, সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আবার ভিজলো তার চোখ।


গল্পটা ফিরে যায় ২০১৬ সালের ২৬শে জুনে। কোপা আমেরিকার শতবর্ষী আসরের ফাইনালে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারে আর্জেন্টিনা। মেসি নিজে মিস করেছিলেন পেনাল্টি। আর সেই ব্যর্থতার সব দায় যেন এসে পড়ে তার একার কাঁধে। ২০১৪ বিশ্বকাপ আর ২০১৫ কোপার ফাইনালেও হারের পর দেশের মানুষই যখন প্রশ্ন তুলছিল তার দেশপ্রেম নিয়ে, তখন ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েছিলেন এই মহাতারকা। হতাশার একেবারে শেষ সীমানায় পৌঁছে সেদিন ঘোষণা দিয়েছিলেন, জাতীয় দলের হয়ে এটাই তার শেষ ম্যাচ, দেশের হয়ে শিরোপা জেতার সর্বো”চ চেষ্টা তিনি করেছেন, কিš‘ এটা বোধহয় তার জন্য নয়। সৌভাগ্য আর্জেন্টিনার। সেই ঘোষণার কয়েক মাস পরই অভিমান ভুলে ফিরে আসেন মেসি। বাকিটা রূপকথা। দীর্ঘ খরা কাটিয়ে একে একে আসে কোপা, বিশ্বকাপ, আবার কোপা।

মেটলাইফ স্টেডিয়াম মেসির জন্য কখনো শুধু একটা মাঠ ছিল না। এখানে জমা আছে তার সবচেয়ে গভীর কষ্ট আর সবচেয়ে উজ্জ্বল আনন্দ, দুটোই। ২০১২ সালে এই মাঠেই ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে জিতিয়েছিলেন তিনি। মেটলাইফে খেলা পাঁচ ম্যাচে মেসির গোল ছিল চারটি—এক পরিসংখ্যানই বলে দেয়, এই মাঠের সঙ্গে তার সম্পর্কটা কতটা আবেগের। সেই একই মেটলাইফে আবার হারের মুখোমুখি হলেন মেসি। দশ বছর আগের সেই ক্ষতই যেন নতুন করে উঠে এলো। বয়স এখন ঊনচল্লিশ, শরীরও আর আগের মতো নেই, কিš‘ হৃদয়ের আকুতিটা একই রয়ে গেছে—দেশকে আরেকবার বিশ্বসেরা করে তোলার। এই মাঠ তাকে যেমন কাঁদিয়েছিল একদিন, আবারও কাঁদালো। তবে ফুটবল ইতিহাসে তার নামের পাশে যে মুকুট বসে গেছে, তা কোনো একটি ফলাফলে মলিন হওয়ার নয়। জিতুন বা হারুন, সর্বকালের সেরাদের কাতারে মেসির জায়গাটা থেকেই যাবে অটুট।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন