পটুয়াখালীতে গৃহবধূকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে ভিকটিমের স্বজনসহ চরজৈনকাঠি এলাকার শত শত নারী-পুরুষ। রোববার দুপুর ১২টায় চরজৈনকাঠি গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ পটুয়াখালী জেলা শহরের ঝাউতলায় সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ সময় গৃহবধূ তানিয়া হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি যৌতুকলোভী স্বামী কামাল খানসহ অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবিতে বক্তব্য রাখেন ভিকটিমের মেয়ে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী বীথি, মা হনুফা বেগম, খালা রেহেনা বেগম, ফুফু সাহেরা বেগম, ফুফাতো ভাই নাসির উদ্দিন, খালাতো ভাই মো. ইব্রাহিম, এলাকাবাসী মো. ফয়েজ মিয়াসহ আরও অনেকে। ভিকটিমের বাবা অলি মুন্সী বিক্ষোভ সমাবেশকালে মেয়ের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
জানা গেছে, লোহালিয়া ইউনিয়নের উত্তর লোহালিয়া গ্রামের মো. কামাল খানের সঙ্গে ৬ মাস আগে মোসা. তানিয়া বেগম (৩০)-এর বিয়ে হয়। এ বিয়ের পর থেকেই কামাল খান তানিয়া বেগমের বাবা অলি মুন্সীর কাছে যৌতুক হিসেবে ৩ লাখ টাকা দাবি করে আসছিল। এ টাকার জন্য স্বামী কামাল খান স্ত্রী তানিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। ঘটনার দিন ১৪ই জুলাই রাতে স্বামী কামাল খান, কামাল খানের আগের স্ত্রীর দুই মেয়ে লিজা খান (২২) ও লিমা খান (২০) এবং কামাল খানের মা আম্বিয়া (৬২) মারধর করে তানিয়াকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে বাড়ির পুকুরপাড়ে কাঁঠাল গাছে ঝুলিয়ে রেখে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
এ হত্যার ঘটনায় তানিয়ার বাবা বাদী হয়ে স্বামী কামালকে ১ নং আসামি করে কামালের আগের ঘরের দুই মেয়ে লিজা খান ও লিমা খান এবং ঘাতক কামালের মা আম্বিয়া বেগমকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। কিন্তু ৫ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ অজ্ঞাত কারণে আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, তানিয়ার লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেতে সময় লাগবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।
