মুন্সীগঞ্জে নদী ও পুকুর থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকাসহ দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের চরমসুরা এলাকার মেঘনা নদী থেকে নাহিদ সুলতানা (৬৭) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নৌ-পুলিশ জানায়, রোববার দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের চরমসুরা এলাকার মেঘনা নদী থেকে নাহিদ সুলতানা মরদেহ উদ্ধার করেছে। নাহিদ সুলতানা মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার খালইষ্ট এলাকার বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের স্ত্রী এবং শহরের মাঠপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন।
স্থানীয় লোকজন নদীতে কচুরিপানার সঙ্গে ভাসমান একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে নৌ-পুলিশকে খবর দেন। পরে মুন্সীগঞ্জ চরআবদুল্লাহ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ১৩ই জুলাই বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নাহিদ সুলতানা আর ফিরে আসেননি। পরে তার স্বামী মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং প্রায়ই আত্মহত্যার হুমকি দিতেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
চরআবদুল্লাহ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই পরিতোষ সরকার বলেন, মরদেহে পচন ধরেছিল। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অন্যদিকে সিরাজদিখান পুলিশ জানায়, একইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের ভাটিংভোগ গ্রামের একটি পুকুর থেকে সম্ভু ভদ্র (৮০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাস্তার পাশের একটি চায়ের দোকানে আসা কয়েকজন ব্যক্তি পাশের একটি পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে সিরাজদিখান থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করে।
প্রতিবেশীরা জানান, সম্ভু ভদ্র দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি আগে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় মানসিকভাবেও অসুস্থ ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় পরিবারের অজান্তে বাড়ি থেকে বের হয়ে অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে তিনি মারা যান।
সিরাজদিখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে কোনো সন্দেহজনক আলামত পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে ধারণা করা হচ্ছে।
