কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় গত ৭ মাসে ঘটেছে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। কৃষক, শিক্ষক, ৫ সন্তানের জননী, গৃহবধূ, শিশু ও অটোচালক কেউ বাদ যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অধিকাংশ মামলার আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় খুনিরা প্রকাশ্যেই ঘোরাফেরা করছে। এতে উপজেলা জুড়ে আতঙ্ক বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মুরাদনগর ও বাঙ্গরা বাজার থানায় ঘটেছে নিম্নোক্ত হত্যাকাণ্ডগুলোÑ ১৬ই জানুয়ারি শিশু ধর্ষণ ও হত্যা। যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামে ৬ বছরের শিশু নিছা মনিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়। অভিযুক্ত তারই চাচাতো ভাই রাসেল মিয়াকে গ্রামবাসী আটক করে পুলিশে দেয়। ১৩ই মার্চ কলেজ শিক্ষক। রামচন্দ্রপুর বাজারের একটি ভাড়া বাসা থেকে অধ্যাপক আব্দুল মজিদ কলেজের শিক্ষক সাইফুল ইসলামের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
৭ই এপ্রিল কৃষক কুপিয়ে হত্যা। বাঙ্গরা বাজার থানাধীন মহেশপুর গ্রামের নিরীহ কৃষক মাওলা সরকারকে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ১৪ই এপ্রিল যুবক গলা কেটে খুন। রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের বি-চাপিতলা গ্রামের দক্ষিণ মাঠ থেকে এরশাদ মিয়ার গলাকাটা লাশ উদ্ধার। তার পিতা মো. হক মিয়া। মামলায় ১ জন গ্রেপ্তার হলেও অন্যান্য আসামি গ্রেপ্তার হয় নাই বলে অভিযোগ।
২১শে জুন অটোচালক খুন। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ি গ্রামের ঝোপ থেকে অটোচালক মাহবুব আলম ওরফে মাসুমের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার। এ ঘটনায় ২ যুবক গ্রেপ্তার ও অটোরিকশা উদ্ধার। ২৫শে জুন গৃহবধূকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা। পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের মহেশপুর বাজারে দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৪২) কে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
৬ই জুলাই গৃহবধূ খুন। টনকী ইউনিয়নের বারিয়াপাড়া গ্রামের তিন সন্তানের জননী আফসানা আক্তার হ্যাপি (২৮) কে ধর্ষণের পর হত্যা। একমাত্র আসামি গোলাম জিলানী (৩২)-এর গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন গ্রামবাসী।
১৪ই জুলাই বৃদ্ধের গলাকাটা লাশ। ধামঘর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের পুকুর থেকে ওহেদ ভূঁইয়া (৬০)-এর গলাকাটা লাশ উদ্ধার। এ ঘটনায় এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক খুন হলেও অধিকাংশ মামলার আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে না। এরশাদ মিয়া হত্যা মামলার আসামি একজন গ্রেপ্তার হলেও অন্য আসামিরা পুলিশের খাতায় পলাতক দেখানো হলেও গ্রামে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
৪ঠা জুলাই যাত্রাপুরে অটোচালক সাইদুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে অটো ছিনতাইয়ের চেষ্টা। ১০ই জুলাই রাজাচাপিতলা বাজারে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক সুমন মিয়ার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একাধিক ঘটনায় গ্রামবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি তদন্ত মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সবগুলো মামলার তদন্ত চলছে। কিছু আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
