কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের বদরউদ্দিনপাড়া ভোলারমুখ এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৮ নম্বর সøুইসগেট দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সøুইসগেটের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সংলগ্ন বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ধস দেখা দেয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বড় জোয়ার কিংবা ভারী বৃষ্টিপাত হলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। শনিবার সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, সøুইসগেটের জলকপাট নষ্ট হয়ে গেছে এবং গেটের নাক (নোজ) ভেঙে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে পানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। একইসঙ্গে সøুইসগেট সংলগ্ন বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার না করা হলে আসন্ন বর্ষা ও জোয়ারে ভয়াবহ দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ কামাল বলেন, সøুুইসগেট ভেঙে গেছে, জলকপাটও নষ্ট। বড় জোয়ার বা টানা বৃষ্টি হলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা প্লাবিত হতে পারে। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। দ্রুত সংস্কার না করলে কয়েক হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সøুইসগেটটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো মেরামত করা হয়নি। এতে রাজাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও চিংড়িঘের হুমকির মুখে রয়েছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) জমির উদ্দীন বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবো। সরজমিন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, সøুইসগেটের দরজা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি আমরা দেখেছি। নতুন করে একটি সøুইসগেট নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়াতে জরুরিভিত্তিতে সøুইসগেট সংস্কার এবং ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হোক। অন্যথায় সামান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগেই রাজাখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা আবারো ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যার কবলে পড়তে পারে।
