ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কিশোর জিহাদ (১৫) হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নিজ গ্রাম কুট্রাপাড়া। খুনি চক্র শনাক্ত ও গ্রেপ্তার বিলম্বিত হওয়ায় ক্রমেই ক্ষুব্ধ হচ্ছেন জিহাদের পরিবার স্বজন ও গ্রামবাসী। গতকাল রোববার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল সদর ইউনিয়নের কুট্রাপাড়া এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন মহাসড়ক অবরোধ করে ফেলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ইউএনও ও ওসি’র হস্তক্ষেপে অবরোধ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন গ্রামবাসী। পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, কিশোর জিহাদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের দুইদিন পর গত ১২ই জুলাই তার পিতা আজগর আলী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সরাইল থানায় একটি মামলা করেছেন।
ঘটনার ৮ দিন পরও কোনো অগ্রগতি বা গ্রেপ্তার না থাকায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ হচ্ছেন নিহতের পরিবারসহ গ্রামবাসী। তাই গতকাল এই হত্যাকে পরিকল্পিত আখ্যায়িত করে দ্রুত খুনি চক্র শনাক্ত ও সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন গ্রামের প্রায় কয়েক শত নারী-পুরুষ-শিশু। একপর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিলে রূপ নেয়। সকাল সাড়ে ৯টায় বিক্ষুব্ধ লোকজন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে। অবরোধ চলাকালে জিহাদ হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন তার পিতা আজগর আলী, কুট্রাপাড়া গ্রামের জিসান ইসলাম, জনি খন্দকার, জয়নাল মিয়া, রৌশন আলী, আল আমিন, নাসির খন্দকার, রনি খন্দকার প্রমুখ।
তারা বলেন, প্রশাসন যদি আসামি দ্রুত না ধরে আমরা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য মহাসড়ক বন্ধ করে দেবো। নিহত জিহাদের মা সারিন বেগম (৪০) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার তরতাজা পুলাডারে কুপাইয়া মারছে। আমি একবার খুনিকে দেখতাম চাই। খুনিরার ফাঁসি দেইখা মরতাম চাই। আমড়া গরিব অসহায় তাই আসামি ধরে না। বিচার বলে টেহার কাছে গেছেগা। তাইলে গরিবরার কিতা অইবো।
ছেলেডার কথা মনে অইলে কলিজাডা ছিড়া জাইগা।’ প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন গ্রামবাসী। ওসি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হবে। নিরপরাধ কোনো লোক গ্রেপ্তার বা হয়রানি হোক এমনটি আমরা চাই না। প্রকৃত অপরাধীকেই আমরা গ্রেপ্তার করতে চাই।
