শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শাহপরান হলের ক্যান্টিনের খাবারের নিম্নমান নিয়ে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিযোগ জানানোকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি এ ঘটনার পর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারও করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। শনিবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলাম শাহপরান হলের ক্যান্টিনে পরিবেশিত খাবারের নিম্নমান নিয়ে হলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তা পাঠান। এতে তিনি হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ইফতেখার আহমেদকে মেনশন করে ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বার্তায় খাইরুল উল্লেখ করেন, ৫০ টাকায় পরিবেশিত ছোট আকারের ট্যাঁটকা মাছের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। নির্ধারিত মূল্য নেয়া হলেও সে অনুযায়ী খাবারের মান নিশ্চিত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে ক্যান্টিনে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে হল প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ওই বার্তার জের ধরে শাবি ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান এবং যোগাযোগ সম্পাদক হাছিবুর রহমান খাইরুলকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান বলেন, বিষয়টি মূলত শুরু হয় যখন এক জুনিয়র শিক্ষার্থী প্রভোস্ট স্যারকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মেনশন করে মন্তব্য করে। আমি ঠিক কী কথা হয়েছে, সেটা হুবহু বলতে পারবো না। তবে ওই মন্তব্যে স্যারের খারাপ লেগেছিল।
পরে স্যারের সঙ্গে আমাদের দেখা হলে তিনি হাছিবকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘ছেলেটা কে? সে তো একটু বেয়াদবির মতো আচরণ করছে।’ তখন আমরা বলি, ছেলেটিকে আমরা চিনি, বিশেষ করে হাসিব তাকে ভালোভাবে চিনতো। এরপর বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যায়। পরে রাতে আমরা গেটে বারবিকিউ আয়োজনের পরিকল্পনা করছিলাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই জুনিয়রকে চিনতাম না। সেখানে হাছিব ও মোস্তাকিম বিল্লাহ ভাইসহ আরও কয়েকজন ছিল। এলআরের (প্রধান ফটকের একটি ভবন) সামনে দাঁড়িয়ে পরিকল্পনা করার সময় হাছিব ওই জুনিয়রকে দেখে ডেকে আনে। মূলত উদ্দেশ্য ছিল স্যারের সঙ্গে কী কথা হয়েছে সেটা জানা।
পরবর্তীতে সেখানে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। ঘটনার বিষয়ে শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ইফতেখার আহমেদ বলেন, আসলে এ ঘটনা হলে ঘটেনি। বাইরে ঘটেছে। আর মারধরের বিষয়ে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে সেটি হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সবাই দেখেছে। এ ঘটনায় আমি কাউকে হস্তক্ষেপ করতে বলিনি। বর্তমানে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখছে। এ ঘটনার পরপরই রাতেই স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিনদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এদিকে এ ঘটনার পর রোববার অভিযুক্ত দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বহিষ্কার করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়।
