ঝিনাইদহে খুশি হত্যার জট খুলেছে, ৬৬ দিন পর প্রেমিক গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহে খুশি হত্যার জট খুলেছে, ৬৬ দিন পর প্রেমিক গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই এলাকার ‘আন্তরিক হোটেল’র কর্মচারী খুশি খাতুন হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৬৬ দিন পর মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সম্পূর্ণ ক্লুলেস এই মামলার একমাত্র আসামিকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. সাঈদ মেহেদী (২৪)। তিনি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ঢেপুখালী গ্রামের মো. মোসলেম গাজীর ছেলে। শনিবার বিকালে আসামি সাঈদ মেহেদীকে ঝিনাইদহের আদালতে হাজির করা হলে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রোকনুজ্জামান জানান, গত ১৩ই মে ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই এলাকার সায়াদাতিয়া সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে খুশি খাতুনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই খুনি পলাতক থাকায় এবং কোনো ক্লু না থাকায় চরম অন্ধকারে ছিল মামলার তদন্ত কাজ। পরবর্তীতে ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের একটি চৌকস টিম আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। শনিবার ভোরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এসআই রোকনুজ্জামান ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের যৌথ অভিযানে সাতক্ষীরার দেবহাটা থানাধীন খলিশাখালী গ্রামের একটি মাছের ঘেরের মধ্য থেকে সাঈদ মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সাঈদ মেহেদী জানায়, নিহত খুশি খাতুনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিবাহবহির্ভূত প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই খুশি খাতুন ঝিনাইদহ শহরের সায়াদাতিয়া সড়কে একটি বাসা ভাড়া নেন। ঘটনার দিন একইসঙ্গে সাঈদ মেহেদী খুশির স্বামী পরিচয়ে বাসায় ওঠে। সাঈদ পুলিশের কাছে দাবি করে, খুশি খাতুন অন্য ছেলেদের সঙ্গেও মোবাইলে কথা বলতো। এ নিয়ে ঘটনার রাতে তাদের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সাঈদ মেহেদী গভীর রাতে খুশিকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরের পেছনের দরজা খুলে পালিয়ে যায়। ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এ এস আই এখলাচুর রহমান মিঠু জানান, প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্লুলেস মার্ডার কেসের রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন