বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখবেন ট্রাম্প, স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় যুদ্ধবিমান-স্নাইপার ও হাজারো এজেন্ট

বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখবেন ট্রাম্প, স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় যুদ্ধবিমান-স্নাইপার ও হাজারো এজেন্ট

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিকে ঘিরে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে নেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ উপলক্ষে আকাশে টহল দেবে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, স্টেডিয়ামের ছাদে অবস্থান নেবেন সামরিক প্রশিক্ষিত স্নাইপাররা এবং মোতায়েন করা হয়েছে হাজারো এফবিআই এজেন্ট।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কড়া নিরাপত্তার কারণে দর্শকদের উল্লেখযোগ্য ভোগান্তি হতে পারে। তাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর অন্তত চার ঘণ্টা আগে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ফাইনালকে ‘লেভেল-১ স্পেশাল ইভেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা শ্রেণিবিন্যাস।

হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি টেলিগ্রাফ স্পোর্টসকে বলেছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিক থেকে এই আয়োজন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠান কিংবা ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণের সমপর্যায়ের।

তার ভাষায়, সত্যি বলতে এটি সুপার বোলের চেয়েও বড় আয়োজন। নিউ জার্সি স্টেট পুলিশকে সহায়তা করতে আমরা বহু ফেডারেল সংস্থাকে যুক্ত করেছি।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্স জানিয়েছিল, গত এপ্রিলে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে এক বন্দুকধারীর নিরাপত্তা ভেঙে প্রবেশের ঘটনা চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে থাকা নিরাপত্তা হুমকির একটি ‘কঠিন সতর্কবার্তা’।

জুলিয়ানি বলেন, এ কারণেই প্রেসিডেন্ট ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের (প্রায় ৪৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড) ফেডারেল নিরাপত্তা অনুদানে অনুমোদন দিয়েছেন। সৌভাগ্যক্রমে টুর্নামেন্টের ১০৩টি ম্যাচ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। শেষ ম্যাচটিও আমরা নিরাপদ রাখতে চাই।

এর আগে টেলিগ্রাফ স্পোর্টস তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ট্রাম্প সম্ভবত ফাইনাল ম্যাচেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে উপস্থিত হবেন। ফাইনাল শেষে তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন।

দুই বছর ধরে প্রস্তুতি

রোববারের এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গত দুই বছর ধরে যৌথভাবে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় পুলিশ এবং বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ধরে নেয়া হয়েছিল, ট্রাম্প ফাইনাল দেখতে আসবেন।

এদিকে উত্তর আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) জানিয়েছে, ফাইনালের আগে জারি করা অস্থায়ী আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে একটি ছোট বেসামরিক বিমান প্রবেশ করলে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সেটিকে বাধা দেয়।

পাইলটের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য যুদ্ধবিমান থেকে ফ্লেয়ার ছোড়া হয়। পরে বিমানটিকে নিরাপদে নিষিদ্ধ আকাশসীমার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

নোরাড জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে রোববারের ফাইনাল পর্যন্ত নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির আকাশে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) অস্থায়ী উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে। এফবিআই জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালে বিভিন্ন স্টেডিয়ামের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশ করা শত শত ড্রোন জব্দ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনা রোববার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে ।

দর্শকদের দীর্ঘ অপেক্ষার আশঙ্কা

ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করা হয়েছে। এতে স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় দর্শকদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, ট্রাম্পের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখা, সবচেয়ে নিরাপদ এবং সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপের সমাপ্তি ঘটবে।

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প কোনো ক্রীড়া ইভেন্টে উপস্থিত হলে নিরাপত্তাজনিত কারণে দর্শকদের ভোগান্তির ঘটনা নতুন নয়। গত মাসে নিউ ইয়র্কে এনবিএ ফাইনালের একটি ম্যাচে তিনি উপস্থিত হলে পুলিশ শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন