ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ফের ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহারের দাবি, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এক রাতে এটাই ছিল রাশিয়ার সবচেয়ে বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা।
রোববার ভোরে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা রাশিয়ার এই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এনিয়ে ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ জানিয়েছে, কিয়েভের ছয়টি জেলায় হামলার প্রভাব পড়েছে।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভজুড়ে একাধিক স্থানে আগুন লাগে। এতে আবাসিক ভবন, অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, একটি ছাত্রাবাস এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্বিয়াতোশিনস্কি জেলায় আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি ব্যক্তিগত বাড়ি থেকে চারজনকে উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। শেভচেনকিভস্কি জেলায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত তিনতলা একটি ভবন থেকেও বাসিন্দাদের নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে।
এছাড়া একটি অনাবাসিক ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি সোলোমিয়ানস্কি, দেসনিয়ানস্কি এবং দনিপ্রো জেলাতেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
‘নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে “ইউক্রেনের রাজধানীর ওপর নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা” বলে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই সন্ত্রাস বন্ধ করতে মস্কোর ওপর সর্বাত্মক ও বিধ্বংসী চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের কর্মকর্তা ওলেক্সান্দর গানঝা।
এ ছাড়া জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রাশিয়ার ড্রোন আঘাত হানলে ট্রেনটির একজন কন্ডাক্টর নিহত হন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জাতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তারা আগুনে পুড়ে যাওয়া রেলকোচের ছবিও প্রকাশ করেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের পঞ্চম বছরে প্রবেশ করা ইউক্রেন প্রায় প্রতিদিনই রাশিয়ার হামলার মুখে পড়ছে। তবে দেশটির হাতে এখন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রয়েছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ করায় দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ হয়েছে এবং ইউক্রেনীয় সেনাদের একটি অংশও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
সমালোচকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেন যখন কিছুটা গতি ফিরে পাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় মিখাইলো ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়া জেলেনস্কির প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে ইউক্রেন
চলতি জুলাই মাসে রাশিয়া একাধিকবার কিয়েভে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত সাতটি পৃথক হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এমন সময় এসব হামলা হচ্ছে, যখন ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে এসেছে।
রোববার ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতে রাশিয়া ছোড়া ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করা হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, তাদের বাহিনী কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জ্বালানি ও অন্যান্য সরবরাহ ব্যাহত করার কৌশলের অংশ হিসেবে তারা জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ।
