প্রথম আলো
‘নতুন আবেদন নেই, জুলাই শহীদের সংখ্যা ৮৪৩’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, কত মানুষ শহীদ হয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানে? উত্তর খুঁজতে গেলে বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে দুই বছর পরও। একেক জায়গায় একেক রকম হিসাব। সরকার হিসাব দিচ্ছে এক রকম; সরকারের কর্তাব্যক্তিদের মুখ থেকে আসছে ভিন্ন রকম তথ্য। আবার নানা দল ও সংগঠনের কাছ থেকে আসছে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দমন–পীড়নে রক্তাক্ত এক অধ্যায় পেরিয়ে তা গণ–অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ৩৬ দিন আন্দোলনের পর ওই বছরের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনা সরকারের।
এরপর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের জুলাই শহীদ এবং আহত ব্যক্তিদের জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জুলাই শহীদদের তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তখন সংখ্যাটি ছিল ৮৩৪। এরপর জুন মাসে আরও ১০ জনের নাম যুক্ত হলে জুলাই শহীদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৪৪। তাঁদের তালিকার গেজেটও প্রকাশিত হয়।
এরপর আগস্ট মাসে শহীদের তালিকা থেকে আটজনের নাম বাদ দেয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, তালিকায় চারজনের নাম দুবার এসেছে। আর বাকি চারজন সরাসরি জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন না। ফলে সরকারি গেজেট অনুযায়ী সে সময় জুলাই শহীদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৩৬।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্তকরণ, আহতদের চিকিৎসা এবং তাঁদের পরিবারকে সহায়তা করতে গঠিত হয় জুলাই গণ–অভ্যুত্থান অধিদপ্তর। তাদের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে গেজেট থেকে একজনের নাম বাদ দেওয়া হয়। ফেব্রুয়ারিতে বাদ পড়ে আরও তিনজনের নাম।
এপ্রিল মাসে আবার নতুন করে ১২ জনের নাম শহীদের তালিকায় যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপর ১৩ মে আরও একজনের নাম শহীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে সরকারি গেজেটে এখন জুলাই শহীদের সংখ্যা ৮৪৩। আর আহতের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৭০।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত গেজেট হয়েছিল ৮৫৬ জনের। যাচাই–বাছাইয়ে বেশ কয়েকজনের নাম শহীদের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। যে নামগুলো বাদ পড়েছে, ওই গেজেট নম্বরে আর কোনো শহীদের নাম যুক্ত হবে না। ফলে জুলাই শহীদের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৮৪৩।
জুলাই শহীদ কারা
জুলাই শহীদদের সংজ্ঞায় গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা ওই সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে মৃত্যুবরণকারীদের শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
শহীদদের নাম প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন সময় কিছু নাম যুক্ত হয়েছে। আবার শহীদ নন বলে শনাক্ত হওয়ায় কিছু নাম বাদ পড়েছে। আবার অনেকের স্বজন নিখোঁজ রয়েছে। ফলে জুলাই শহীদদের তালিকাকে এখনো পূর্ণাঙ্গ বলা যায় না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দ্রোহযাত্রায় নেতৃত্বদানকারী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, শহীদের চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা সরকারের দায়িত্ব। সরকারের কাছে নিজস্ব তথ্য না থাকলে জাতিসংঘের তথ্য যাচাই করে হলেও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা উচিত। তাঁর মতে, ক্ষতিপূরণ, জনঅর্থের ব্যবহার ও ইতিহাসের দায়বদ্ধতার কারণে দ্রুত বিভ্রান্তি দূর করে নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন।
শহীদের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য
সরকারের মন্ত্রী, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন জুলাই আন্দোলনে শহীদের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। কেউ বলছেন, দেড় হাজার, দুই হাজার আবার কেউ বলছেন হাজার হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া একাধিক ভাষণে জুলাই শহীদের সংখ্যা কোথাও হাজার, কোথাও দেড় হাজার আবার কোথাও হাজার হাজার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন কী বলছে
জুলাই শহীদের সংখ্যা হিসেবে সবেচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ‘১ হাজার ৪০০’ এবং ‘২ হাজারের বেশি’। এর মধ্যে ১ হাজার ৪০০ সংখ্যাটি জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের বরাতে ব্যবহার করা হয়।
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভ–সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৪০০ জনে।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য কী বলছে
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে হতাহত ব্যক্তিদের জন্য গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। এটি সরকার অনুমোদিত অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবা ও জনকল্যাণমূলক বেসরকারি সংস্থা। ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটের হোম পেজে শহীদের সর্বশেষ সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ৮২০ জনের বেশি। আর ওয়েবসাইটে শহীদের যে তালিকা রয়েছে, সেখানে ৮৩৫ জনের নাম রয়েছে।
অন্যদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা নিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি সংগঠন। তাদের দাবি, শহীদের সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি। আর তারা তালিকা করেছে ৬৫০ জনের।
আহতের তালিকা বাড়ছে
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান অধিদপ্তর সূত্র বলছে, এ মুহূর্তে তাদের কাছে আর কোনো জুলাই শহীদবিষয়ক আবেদন নেই। তবে জুলাই আহতদের তালিকায় আরও ১ হাজারের বেশি নাম যুক্ত হবে। তালিকায় থাকা শহীদের সংখ্যা কমতে পারে জানিয়ে ওই সূত্র বলছে, অধিদপ্তরে জনবলসংকটের কারণে অনেক কাজই সময়মতো শেষ করা যাচ্ছে না। চূড়ান্ত তালিকা কবে নাগাদ হবে তারও নিশ্চয়তা দিতে পরেনি অধিদপ্তর।
জানতে চাইলে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল নাসের প্রথম আলোকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যাচাই-বাছাই কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা: নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব জামায়াতের’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার (সিটি, পৌরসভা এবং জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য করার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এসব নির্বাচনের প্রস্তাবিত আচরণ বিধিমালায় এমন বিধান যুক্ত করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে দলটি। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতাকর্মীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান সংযোজন করতে হবে।’ ইসির কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের সুপারিশ যুক্ত করা হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তারা আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমন বিধান যুক্ত করেছে এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন। ফলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। অবশ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে হওয়ার যুক্তিতে আচরণ বিধিমালায় ওই বিধান যুক্ত করার বিষয়ে ইসি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার যুগান্তরকে বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। ওই আইন অনুযায়ী এই দলটির নেতাকর্মীরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না। আমরা নির্বাচন কমিশনকে ওই বিষয়টি জানিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে মতামত দিয়েছি। তিনি বলেন, ইসি এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে তার দায় কমিশনকে নিতে হবে।
সূত্র আরও জানাচ্ছে, প্রস্তাবিত আচরণ বিধিমালার বিষয়ে বিকল্পধারা বাংলাদেশ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আরও কয়েকটি দল বিভিন্ন সুপারিশ দিয়েছে। একইভাবে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি, ইউএন ওমেন, অ্যাকশন এইড, নির্বাচন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ব্যক্তিও তাদের প্রস্তাব ইসিতে জমা দিয়েছেন। এসব প্রস্তাবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়র ও চেয়ারম্যানদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ও কাউন্সিলর ও সদস্যদের যোগ্যতা এসএসসি বা সমমান হওয়ার সুপারিশ করেছে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ। এছাড়া নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান-এনজিও’র ভূমিকা বন্ধের বিধান যুক্তের প্রস্তাব করেছেন ড. মোহাম্মদ জকরিয়া। আর মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধের বিধান যুক্ত এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিলের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার বিষয়ে জোর দিয়েছে টিআইবি। তবে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ বেশির ভাগ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কোনো সুপারিশ ইসিতে জমা দেয়নি। খসড়া আচরণ বিধিমালার ওপর সুপারিশ জমা দেওয়ার সময় গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আমাদের প্রস্তাবিত আচরণ বিধিমালার ওপর বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও সংগঠন থেকে বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ পেয়েছি। ওইসব সুপারিশ ইসির কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করছেন। আগামী মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় এসব সুপারিশ উপস্থাপন করা হবে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য করার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কমিশনের। কমিশন সভার সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
জানা গেছে, আগামী অক্টোবরে স্থানীয় সরকারের কয়েকটি স্তরে নির্বাচন করতে চায় ইসি। আগস্টের শেষে বা সেপ্টেম্বরে এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে এই নির্বাচন সামনে রেখে ইসি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করবে না। এ কারণে সিটি, পৌরসভা এবং জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের খসড়া আচরণ বিধিমালার ওপর মতামত নিয়েছে ইসি।
আরও জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী তাদের মতামতে নির্বাচনি প্রচারে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-সংসদ-সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রভাব বিস্তারে নিষেধাজ্ঞার বিধান আরও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে। কোনোভাবে মন্ত্রী ও সংসদ-সদস্যরা যাতে নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে না পারেন, সেই বিধান যুক্তের প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। প্রায় একই ধরনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ। দল দুটি বলেছে, আচরণ বিধিমালায় যে বিধান রয়েছে তা স্পষ্ট নয়। নির্বাচনের সময়ে মন্ত্রী ও সংসদ-সদস্যরা যাতে নিজ এলাকায় অবস্থান না করেন সেই বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের নির্বিঘ্ন দায়িত্ব পালনের বিধান রাখারও দাবি জানিয়েছে জামায়াত, খেলাফত মজলিস ও ইসলামিক ফ্রন্ট।
কালের কণ্ঠ
‘ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫ জনে এক শিশু’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে দেড় মাস ধরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে দেশের সব জেলায় রোগটির বিস্তার ঘটেছে।
আক্রান্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুও। তাদের সংখ্যা ৫৮৪, যা মোট রোগীর ৬ শতাংশ। দেখা গেছে, ১৫ বছরের কম বয়সী আক্রান্তদের মধ্যে শিশু রয়েছে প্রতি পাঁচজনে একজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণে এসব তথ্য জানা গেছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে নতুন করে আরো ৯৪ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই সময়ে কারো মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৭৭০ এবং মৃত্যু ৩২।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আক্রান্তের ৬১ শতাংশ পুরুষ ও ৩৯ শতাংশ নারী। ১৫ বছর বা তার কম বয়সী ডেঙ্গু রোগী এক হাজার ৮১৮ জন। অর্থাৎ আক্রান্তদের প্রায় ১৯ শতাংশ শিশু। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী আক্রান্ত ৫৮৪ জন, ছয় থেকে ১০ বছর বয়সী ৫৭১ জন এবং ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৬৬৩ জন।
কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১৬ থেকে ৫০ বছর বয়সী আক্রান্ত ছয় হাজার ৭৯৯ জন, যা মোট আক্রান্তের ৭০ শতাংশ। ৫০ বছরের বেশি বয়সী আক্রান্ত এক হাজার ১৫২ জন বা ১১.৭৯ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষম তরুণদের পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ আরো বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, কর্মক্ষম ব্যক্তিরা কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত এবং অপরিচ্ছন্ন কর্মপরিবেশের কারণে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শিশুরা মূলত ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাসের কারণে ঝুঁকির মুখে।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুটি বিষয় অত্যন্ত জরুরি। এক. সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা। শুধু পানি পরিষ্কার রাখলেই হবে না, বরং বর্জ্য নিষ্কাশনসহ নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। দুই. দ্রুত শনাক্তকরণ। জ্বর হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়েই যেন বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগ থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সঠিক চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা যায়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ হতে পারে। এখনই কার্যকরভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কবিরুল বাশার বলেন, এ বছর বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, খুলনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
কয়েক বছরে বদলে গেছে চিত্র : তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত আক্রান্তদের ৭৬ শতাংশ ঢাকার বাইরের। এ ধারা চার বছর ধরে চলছে। এর আগে ২০২১ সালে মোট ডেঙ্গু রোগীর মাত্র ১৬ শতাংশ ছিল ঢাকার বাইরের। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৩৭ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৬৫ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৬০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৬৯ শতাংশে পৌঁছায়।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরা জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে’। খবরে বলা হয়, খুলনায় গত দেড় বছরে পুলিশের তালিকাভুক্ত ১৫ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে তিনটি থেকে ১৪টি পর্যন্ত মামলা আছে। তারা সবাই এরই মধ্যে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। কয়েকজন মুক্ত হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়েছেন। কারণ নতুন হত্যা, চাঁদাবাজি ঘটনায় তাদের নাম এসেছে। ফলে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীদের পরিবারে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৫ সন্ত্রাসীর মধ্যে সাতজন উচ্চ আদালত এবং বাকিরা বিচারিক আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। পুলিশের তালিকার বাইরে জামিনে মুক্তি পাওয়া কিশোর ও উঠতি সন্ত্রাসীর সংখ্যা আরও বেশি। এদের অনেকে বিরুদ্ধেও কারাগার থেকে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ পাচ্ছে পুলিশ।
গত মাসে খুলনা বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বলা হয়, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার বেশির ভাগই জামিন অযোগ্য ধারার। তার পরও তারা জামিন পাচ্ছেন। এতে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের মনোবল দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
গত ২৪ জুন ভোরে খুলনায় মসজিদে ঢুকে দুই ব্যক্তিকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গুলিবিদ্ধ হন ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম ও আলম শেখ (৫৫)। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়। সাজ্জাদ হোসেন নামে একজন আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, ওই ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আরমান হোসেন মোল্লা।
থানা সূত্র জানায়, গত বছরের ৭ মে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। হত্যা, আগ্নেয়াস্ত্র, দস্যুতাসহ অন্তত সাতটি মামলার আসামি আরমান। ছয় মাস পর গত ২৮ নভেম্বর তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। এর পর থেকে আত্মগোপনে থাকলেও একাধিক নতুন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর নাম এসেছে।
ব্যবসায়ী লোকমান হাকিমকে হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার এসআই জাকিরুল ফিরোজ বলেন, আরমানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ব্যবসায়িক বিরোধে হত্যার উদ্দেশ্যে মসজিদে ঢুকে ব্যবসায়ী লোকমান হাকিমকে গুলি করা হয়। তবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
শুধু আরমান নন, জামিনে মুক্ত হওয়া বাকি ১৪ জন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, তালিকাভুক্তদের পাশাপাশি পুলিশের তালিকার বাইরে থাকা কিশোর গ্যাংয়ের অনেক সদস্য ও উঠতি সন্ত্রাসী জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়েছেন।
গত ১৮ জুন খুলনা বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভায় অংশ নেওয়া খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন প্রতিনিধি বলেন, আদালতে পাঠানো আবেদন (ফরওয়ার্ডিং) কোনো দুর্বলতা রাখা হয় না। তবে আসামিরা দ্রুতই ছাড়া পাচ্ছেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের অপরাধ শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে মহানগরী এলাকায় ৯১টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জড়িত বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ২১টি।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলাগুলোর মধ্যে ২০২৪ সালের শেষ তিন মাসে ৫৫ জন, গত বছর ১২৭ জন এবং চলতি বছরের ২০ জুন পর্যন্ত ১২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের বড় অংশ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
ইত্তেফাক
‘বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে সমন্বিত পরিকল্পনা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় সাম্প্রতিক সময়ের বন্যায় অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্যোগে মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য, বাড়ি-ঘর পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কৃষি, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে। এছাড়া স্থানীয় রাস্তাঘাট ও স্কুল-কলেজসহ বিভিন্নভাবে সরকারি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। এখনো পানিবন্দি হয়ে আছে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক পরিবার। সরকার দুর্গত এলাকায় খাদ্য, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা দিলেও বন্যা-পরবর্তী ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে এসব মানুষের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। এ অবস্থায় বন্যা-পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, কৃষি পুনরুদ্ধার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িতে দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বন্যা-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সরকার ডাটাবেজ তৈরি করে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডাটাবেজের আওতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে তাদের প্রয়োজন অনুসারে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বিতর্কমুক্ত রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত না করে মাঠ প্রশাসনের যোগ্য কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সাত জেলায় আকস্মিক বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সমন্বিত পরিকল্পনা কাজে লাগানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মত্স্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বন্যা-কবলিত এলাকায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে এর বিরূপ প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে। অনেক এলাকায় বীজতলা ও সবজি খেত নষ্ট হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন গবাদিপশুর খামারিরাও। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, বান্দরবান, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মত্স্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বন্যায় শুধু মত্স্য খাতেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি। পানির স্রোতে মাছ ও চিংড়ির পোনা ভেসে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন এলাকার ঘের ও খামার। অন্যদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বন্যায় দেশের ৪৩ জেলায় প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির আউশ ও আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি নষ্ট হয়েছে বিভিন্ন সবজির খেত। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ লাখের বেশি কৃষক। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী ও যশোরসহ ১৬ জেলায়। এসব এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এছাড়া বন্যা-কবলিত এলাকায় ব্রয়লার মুরগি ও সোনালি কক মুরগির উত্পাদনকারীরাও ব্যপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় দোকানদারদের মাথায়ও হাত পড়েছে। ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন তারাও। কারণ বন্যার পানি দোকানে ঢুকে চাল-ঢালসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য নষ্ট হয়েছে।
সভা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত, বীজ ও সারসহ বিশেষ কৃষি প্যাকেজ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্তদের জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি, বাঁধ ও সড়ক দ্রুত মেরামত, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা এবং ত্রাণ বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বন্যা নিয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামপ্রতিক এই ভয়াবহ বন্যাকে শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সুশাসনের জন্য পরীক্ষা হিসেবেও দেখতে চাইছে সরকার। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দেশের বন্যা-কবলিত এলাকায় ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ত্রাণ বিতরণে দলীয় হস্তক্ষেপ এড়িয়ে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা সরকারের লক্ষ্য।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘সংসদীয় এখতিয়ার ও গণভোটের ম্যান্ডেট বিতর্কে নতুন সঙ্কট’। প্রতিবেদেন বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন আর কেবল রাজপথের আন্দোলন কিংবা ক্ষমতাবদলের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। গণ-অভ্যুত্থান-উত্তর রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আইনি রূপরেখা এবং নতুন সংবিধান সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর সাংবিধানিক দ্বিমুখী দ্বন্দ্ব। এক দিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের দাবি, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী গঠন করতে হবে পৃথক ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’। অন্য দিকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত নির্বাচিত সরকারের অবস্থান-সংবিধানের রূপান্তর হতে হবে নির্বাচিত সংসদ ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমেই।
আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর বিতর্ক
ক. সংবিধান সংস্কার পরিষদ বনাম ১২ সদস্যের সংসদীয় বিশেষ কমিটি : গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটি গঠনের পর থেকেই এই তর্কের সূত্রপাত। সুপ্রিম কোর্টের শহীদ শাফিউর রহমান অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সংবাদ সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এই সংসদীয় বিশেষ কমিটির এখতিয়ার নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।
আইনজীবীদের মূল বক্তব্য হলো, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-যা গণভোটের মাধ্যমে সরাসরি জনগণের চূড়ান্ত সমর্থন ও অনুমোদন লাভ করেছে- তার স্পষ্ট বিধান অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দায়িত্ব একটি সুনির্দিষ্ট ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর। সংসদীয় ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রয়াস সেই আদেশের পরিপন্থী এবং আদেশের আংশিক বরখেলাপ।
সংবাদ সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আইন বিশ্লেষকরা সংবিধানে উল্লিখিত ‘ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, কোনো আইন, অধ্যাদেশ বা রাষ্ট্রপতির আদেশ অসাংবিধানিক কি না, তা নির্ধারণের একমাত্র আইনি এখতিয়ার সুপ্রিম কোর্টের বিচার বিভাগের, সংসদ বা নির্বাহী বিভাগের নয়। সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা রাজনৈতিক ক্ষমতার শক্তিতে কোনো গণভোট-অনুমোদিত আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা বা অকার্যকর করা বিচার বিভাগের বিচারিক পর্যালোচনার ওপর নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের শামিল।
খ. গণভোট ও বৈপ্লবিক আইনি ভিত্তি : আইনজীবীদের যুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান এবং তৎপরবর্তী ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনি কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েই ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার ও সংসদ যে বৈপ্লবিক ও নৈতিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, তার মূল চালিকাশক্তি ছিল গণভোটে সমর্থিত জুলাই সনদের ম্যান্ডেট।
ফলে নির্বাচিত সরকার বা সংসদ যদি নিজেদের সুবিধার স্বার্থে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বৈধতাকে অস্বীকার করে, তবে পরোক্ষভাবে সরকার ও সংসদ নিজেদের মূল অস্তিত্ব এবং আইনি ও নৈতিক ভিত্তিকেই বড় ধরনের প্রশ্নবিদ্ধতার মুখে ঠেলে দেবে।
রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচিত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি
ক. সংস্কার বনাম সংশোধন; জনরায়ের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা : অন্য দিকে সরকারি দল বিএনপির অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক স্মরণসভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করে জানান যে তারা সংবিধানের মূল দর্শনকে পুরোপুরি বদলে ‘পুনর্লিখন বা আমূল সংস্কার’ এর পক্ষে নন; বরং সংবিধানের প্রয়োজনীয় ‘সংশোধন’ এর পক্ষে।
বিএনপির নীতিগত যুক্তি হলো, ২০২৬ সালের নির্বাচনে দেশের জনগণ তাদের দলীয় ইশতেহারের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে। ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের কাছ থেকে সরাসরি ক্ষমতা পাওয়া একটি প্রতিনিধিত্বশীল সংসদেরই সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনীগুলো চূড়ান্ত করার।
খ. জুলাই সনদের প্রয়োগ ও অনির্বাচিত কাঠামোর আপত্তি : বিএনপি নেতারা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা জুলাই সনদের মূল গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে প্রাক-নির্বাচনী পর্যায় বা অনির্বাচিত কাঠামোর মাধ্যমে কিছু বিতর্কিত প্রস্তাব-যেমন দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ কিংবা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা-জনগণের সরাসরি সিদ্ধান্ত ছাড়া চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যার সাথে বিএনপি নীতিগতভাবে একমত ছিল না।
বিএনপির মতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান দীর্ঘ ১৮-১৯ বছরের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি। ফলে কোনো নির্দিষ্ট পরিষদের কাছে পুরো প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ না রেখে নির্বাচিত সংসদীয় কাঠামোর ভেতর থেকেই সংবিধান সংশোধন সম্পন্ন করা অধিকতর টেকসই ও যুক্তিযুক্ত।
বণিক বার্তা
‘বিশ্বে কওমি শিক্ষার্থীর প্রায় ৬০ শতাংশই বাংলাদেশে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, উনিশ শতকের মাঝামাঝি ভারতের উত্তর প্রদেশের ছোট্ট জনপদ দেওবন্দে যে শিক্ষাধারার সূচনা হয়েছিল, দেড় শতাব্দী পর সে ধারার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।
প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, শিক্ষার্থী ও সম্প্রসারণের গতির বিচারে বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা শিক্ষা। আঠারোশ সাতান্নের সিপাহি বিদ্রোহের পর মুসলিম সমাজে ধর্মীয় শিক্ষা ও পুনর্জাগরণের লক্ষ্য নিয়ে মাওলানা কাসিম নানুতাবির নেতৃত্বে ১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল উলুম দেওবন্দ। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে এ ধারার শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ে। দেশভাগের পর পৃথকভাবে এর বিকাশ ঘটলেও সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণ হয়েছে বাংলাদেশে। বিশ্বের দেওবন্দি বা কওমি ধারার মাদরাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬০ শতাংশই এখন এ দেশের। আর পাকিস্তানের প্রায় তিন গুণ।
দেশের সবচেয়ে বড় কওমি শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) তথ্য অনুযায়ী, তাদের অধীনে বর্তমানে নিবন্ধিত মাদরাসার সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার ৭৩০। এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আনুমানিক ৭০ লাখ। এছাড়া অন্যান্য কওমি বোর্ডের অধীনেও রয়েছে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মাদরাসা। ফলে দেশে কওমি ধারার মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
অন্যদিকে ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অধীন অল ইন্ডিয়া দ্বীনি তালিমী বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তাদের আওতায় ২০ হাজার ৯০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। শিক্ষার্থী ছিল ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৪০৪ জন। পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া, পাকিস্তানের তথ্য বলছে, তাদের অধীনে রয়েছে মোট ২৭ হাজার ৪৮টি মাদরাসা এবং শিক্ষার্থী ২৪ লাখ ২ হাজার ৩২৩ জন।
তুলনামূলক এ চিত্রে দেখা যায়, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এখন দেওবন্দি ধারার শিক্ষার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, প্রতি বছর বাড়ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। বেফাকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬ শিক্ষার্থী। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৩১ জন। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৪০৫ জন বা প্রায় ৫৭ শতাংশ।
কওমি ধারায় শিক্ষার্থী বৃদ্ধিকে দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। কেননা দরিদ্র পরিবারের জন্য কওমি মাদরাসা এখন একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থা। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থী বৃদ্ধির অন্যতম কারণ দারিদ্র্য। অধিকাংশ মাদরাসায় বিনা খরচে বা খুব অল্প ব্যয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক ব্যবস্থা থাকায় শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছে।’
বাংলাদেশে কওমি শিক্ষার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯০১ সালে, চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের আদর্শ অনুসরণে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই পরে সারা দেশে বিস্তার লাভ করে কওমি শিক্ষা। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার কওমি মাদরাসা পরিচালিত হলেও সেগুলো এখনো সরকারি নিবন্ধন কাঠামোর বাইরে।
ভারতে দেওবন্দি মাদরাসাগুলোর অধিকাংশ সরাসরি সরকারি নিবন্ধিত না হলেও যেসব সংগঠনের অধীনে এগুলো পরিচালিত হয়, সেগুলো আইনিভাবে নিবন্ধিত। ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম দেওবন্দের পরিচালনাকারী সংস্থা ‘শূরা সোসাইটি’ দেশটির সোসাইটি অ্যাক্টের অধীনে নিবন্ধিত এবং সংবিধান স্বীকৃত সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়। পাকিস্তানেও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া, পাকিস্তানের আওতাধীন শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর সরকার স্বীকৃত। তবে বাংলাদেশে কওমি শিক্ষার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে সরকারি স্বীকৃতির সীমাবদ্ধতাকে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘আট জেলা: বন্যার পর ছড়িয়ে পড়ছে রোগবালাই’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আট জেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হওয়া বন্যার পানি নেমে গেলেও নিচু কিছু এলাকা এখনো জলাবদ্ধ। সেসব এলাকায় বন্যা-পরবর্তী জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে গত বুধবার পর্যন্ত পাঁচ দিনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩০ জন। এর মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হারই বেশি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় দ্বিতীয় দুর্যোগ। দূষিত পানি, ভেঙে পড়া স্যানিটেশন ব্যবস্থা, নিরাপদ পানির সংকটের মধ্যে বন্যার্ত মানুষ ঘরে ফেরে। তখন ডায়রিয়া, আমাশয়, হেপাটাইটিস-এ, চর্মরোগ, চোখ ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, টাইফয়েড এবং সাপের দংশনের ঘটনা বাড়তে থাকে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন বজ্রপাতে এবং পাঁচজন সাপের দংশনে মারা গেছে। ১০ থেকে ১৫ জুলাই দুপুর পর্যন্ত ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, সাপের দংশন, পানিতে ডোবা, চর্মরোগ, চোখের প্রদাহ ও আঘাতসহ বিভিন্ন কারণে ২ হাজার ৬৩০ জন অসুস্থ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩০৪ জন। ১৫ জুলাই পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে ৩ হাজার ১১৭টি মেডিকেল টিম বন্যাদুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এসব টিম আশ্রয়কেন্দ্র ও দুর্গত এলাকায় চিকিৎসা, জরুরি ওষুধ সরবরাহ এবং রোগের পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম ১৩ জুলাই জানান, জেলার বন্যাদুর্গত বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায় বিভিন্ন মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং জরুরি ওষুধপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া চন্দনাইশ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। ভর্তি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১ জনই সাপে কাটা রোগী। বাকিরা সর্দি-কাশি, তীব্র শ্বাসকষ্ট, পেটের ব্যথা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যা-পরবর্তী সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপদ পানির সংকট, ভেঙে পড়া স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবিধির ব্যাঘাত। বন্যার পানি নামার পরের দুই থেকে তিন সপ্তাহ রোগ সংক্রমণের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়।
অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও বন্যা-পরবর্তী রোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া আছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান। তিনি বলেন, স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর নিরাপদ পানি, শুকনো খাবার, দ্রুত রোগ নজরদারি এবং গর্ভবতী নারী ও ছোট শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, বন্যার শুরুতে সাপের দংশন, আঘাত ও পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা বেশি দেখা যায়। পরে খাদ্য ও পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া ও নিরাপদ পানির সংকট এ ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি আজকের পত্রিকাকে বলেন, বন্যা-পরবর্তী রোগ মোকাবিলায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন, কলেরার স্যালাইন, আমাশয়ের ওষুধসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, চোখের প্রদাহ ও শিশুদের নিউমোনিয়ার লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করছেন। গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের নিবন্ধন তথ্য ব্যবহার করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
দেশ রূপান্তর
‘আ.লীগ আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ২২ হাজার পুলিশ ঝুঁকিতে’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং দলীয় কোটায় নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া প্রায় গুছিয়ে এনেছে পুলিশ সদর দপ্তর। জেলা পর্যায়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক নিয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কনস্টেবল থেকে শুরু করে উপপরিদর্শক (এসআই) এবং সহকারী উপ-পরিদর্শকসহ (এএসআই) বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়োগের নথিপত্র যাচাই করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এতে সব মিলিয়ে প্রায় ২২ হাজার নিয়োগে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা পাওয়া গেছে।
তদন্তে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ আমলে ১০টি জেলা থেকে পুলিশ বাহিনীতে সবচেয়ে বেশি জনবল নেওয়া হয়। তাদের বড় অংশই তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এছাড়া প্রভাবশালী নেতাদের ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) ও মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়েও অনেকে চাকরি পান। এভাবে নিয়োগ পাওয়া সদস্যদের তালিকাটি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের চেইন অব কমান্ড এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এ কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে পুলিশ সূত্র।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মাস দুয়েক আগে তদন্তের নির্দেশ দেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। তাছাড়া পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর, সহকারী সাব-ইন্সপেক্টরদের নিয়োগ ও পদোন্নতির বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
এই নির্দেশনার পর পুলিশ সুপারকে প্রধান করে প্রতিটি জেলায় তদন্ত কমিটি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ডিএসবি এই কমিটিকে সহায়তা দিয়েছেন। সবগুলো কমিটির কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পান পুলিশ সদর দপ্তরের একজন অতিরিক্ত আইজিপি। জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে। এখন এগুলো পর্যালোচনা করছে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশ সুপারদের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিগুলো বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছে। এর মধ্যে আছে নিয়োগপ্রার্থীদের স্থায়ী ঠিকানার পরিবর্তে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরে কারসাজি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহার।
সূত্র জানায়, জেলাভিত্তিক কমিটিগুলো ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যের নথি যাচাই-বাছাই করেছে। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পদোন্নতি ও ভালো জায়গায় পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না সেটিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। তালিকার পুলিশ সদস্যদের স্বজন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা সমর্থক কি না খতিয়ে দেখেছে তদন্ত কমিটি। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলের তিনটি জাতীয় নির্বাচনের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের ভূমিকা পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় বিবেচনায় অনেকেই নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাদের অনেকে তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীর মতো কাজ করেছেন বলে তদন্ত কমিটির কাছে তথ্য এসেছে। তদন্তের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার পুলিশ সদস্যের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।’
পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সহকারী পুলিশ সুপার, এসআই ও কনস্টেবল নিয়োগের দলীয়করণের বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকে ছিলেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য। জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনেক নিয়োগের তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে ৪৫ হাজারের বেশি সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, পুলিশে নিয়োগে ব্যাপক দলীয়করণ করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। এর মাধ্যমে পুলিশকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি বিরোধী নেতাকর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন চালানো হয়।
তদন্তের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থা : শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশে ব্যাপক সংস্কারের দাবি ওঠে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে পুলিশের একাংশের মারণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে পুরো বাহিনী। এ পরিস্থিতিতে পুলিশ সদর দপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশেষ তদন্ত কমিটিগুলো গঠন করা হয়। সূত্র বলছে, তদন্তের কাজ এখন শেষ প্রান্তে। মাঠ পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছে পুলিশ সদর দপ্তর। যেকোনো দিন এটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। এরপরই শুরু হবে দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
সহযোগীদের খবর
নতুন আবেদন নেই, জুলাই শহীদের সংখ্যা ৮৪৩
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
১ ঘন্টা আগে
১৮ জুলাই (শনিবার), ২০২৬, ৯ঃ১৩ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
