খুলনায় চার সাংবাদিকের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
স্মারকলিপিতে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হব, হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং খুলনা মহানগরীতে কর্মরত সকল সাংবাদিকের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ জুলাই মঙ্গলবার রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে খুলনা সদর থানার জনগুরুত্বপূর্ণ শান্তিধাম মোড়স্থ জাতী সংঘ শিশু পার্কের পশ্চিম পাশে একধিক পত্রিকার অফিস সংলগ্ন রাস্তার উপর আব্দুল জলিলের চায়ের দোকানে বসে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার কোষাধ্যক্ষ ও এসএ টিভির খুলনা ব্যুরো প্রধান রকিবুল ইসলাম মতি, এমইউজে খুলনার সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব ও স্টার নিউজের খুলনা ব্যুরো প্রধান রাফিউল ইসলাম টুটুল, এমইউজে খুলনার সদস্য ও দৈনিক খুলনাঞ্চলের স্টাফ রিপোর্টার সৈয়দ হুমায়ুন কবীর রানা এবং খুলনা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী সদস্য ও দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের খুলনা ব্যুরো প্রধান আওয়াল শেখসহ ৫/৬ জন সাংবাদিক উক্ত চা এর দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন।
এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত অতর্কিতে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ছোঁড়া গুলিটি সাংবাদিক রকিবুল ইসলাম মতির বসে থাকা টুলে (চেয়ারে) আঘাত করে। এরপর গুলিটি সরাসরি শরীরে বিদ্ধ না হলেও সাংবাদিক আওয়াল শেখের বুকের ডান পাশে স্পর্শ করে পাশ কেটে চলে যায়। এতে তিনি বুকের ডান পাশে জখমপ্রাপ্ত হন। গুলিবর্ষণের পরপরই অজ্ঞাতনামা আসামীরা মোটর সাইকেলযোগে দ্রুতগতিতে শান্তিধাম মোড়ের দিকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন গুরুতর আহত সাংবাদিক আওয়াল শেখকে চিকিৎসার জন্য নগরীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল খুলনায় নিয়ে যান এবং সেখান থেকে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ।এই নৃশংস ঘটনায় খুলনার সাংবাদিক সমাজ বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক জন্মভুমি সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বালু, দৈনিক সংবাদের খুলনা ব্যুরো প্রধান মানিক চন্দ্র সাহা, এমইউজে খুলনার সাবেক সভাপতি দৈনিক সংগ্রামের খুলনা ব্যুরো প্রধান শেখ বেলাল উদ্দিন ও দৈনিক পুর্বাঞ্চলের ক্রাইম রিপোর্টার হারুন অর রশীদ খোকনসহ খুলনায় নিহত সকল সাংবাদিক হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করে স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিগত দিনে এ সব হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার হলে সন্ত্রাসীরা আজ এমন ন্যাক্কারজনক হামলা করার সাহস পেত না।ফ্যাসিবাদ ও তার দোসররা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে । তার অংশ হিসেবে খুলনায় সাংবাদিক মতি, টুটুল, রানা কবীর ও আওয়ালের উপর হামলা করেছে। অঅবিলম্বে হামলার সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একইসঙ্গে, খুলনা মহানগরীতে কর্মরত সকল সাংবাদিকের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিল্টন, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, এমইউজে খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. নূরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, নির্বাহী সদস্য মো. এরশাদ আলী ও কে এম জিয়াউস সাদাত, বিএফইউজের সাবেক নির্বাহী সদস্য ও এমইউজে খুলনার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আলাউদ্দিন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয়, সাংবাদিক নেতা মাশরুর মুর্শেদ, আহমদ মুসা রঞ্জু, সেলিম গাজী, মোজাহিদুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ ইমরান, ওবায়দুর রহমান পলাশ, বাহা উদ্দিন বাহার, তানভীর ইসলাম প্রান্ত, এম. রোমানিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
