মেসি কি ইংলিশ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবেন

মেসি কি ইংলিশ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবেন

ফন্ট সাইজ:

ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা বৈরিতা শুধু রণাঙ্গনেই নয় খেলার মাঠেও। ১৯৬৬ সনে ইংল্যান্ড যেবার চ্যাম্পিয়ন হয় সেবারও দুই দলের মধ্যে অস্বস্তিকর বেশ কিছু ঘটনা ঘটে। পরিণতিতে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক রাটিনকে লাল কার্ড পেয়ে বাইরে যেতে হয়। এরপর মাঠে ও মাঠের বাইরে রেফারির সঙ্গে আর্জেন্টিনার প্লেয়ারদের বাক-বিতণ্ডা ইতিহাস হয়ে রয়েছে। এর ৩২ বছর পর ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যামের ভাগ্যেও লাল কার্ড জুটে। ফকল্যান্ড যুদ্ধ তো আছেই। ৭৪ দিনের এই যুদ্ধে আর্জেন্টিনা পরাজিত হয়। নিহত হন ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন। দু’টি দল বিশ্বকাপে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে তিনবার। আর্জেন্টিনা দু’বার। ১৯৬২ সালে গ্রুপ পর্যায়ে ইংল্যান্ড ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনাকে।

১৯৬৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ১-০ গোলে জয়ী হয় ইংল্যান্ড। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে রাউন্ড অব সিক্সটিনে। এই উত্তেজনাপূর্ণ খেলাটি ২-২ গোলে নিষ্পত্তি হয়। তবে খেলাটির ভাগ্য গড়ায় পেনাল্টিতে। আর্জেন্টিনা ৪-৩ গোলে জয়ী হয়। ২০০২ সনে জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্যায়ে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে জয়ী হয়। যখনই দু’দলের মধ্যে খেলা হয় তখনই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এবারো ব্যতিক্রম নয়। ইতিমধ্যেই একদফা সংঘর্ষ হয়েছে আটলান্টায় দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে। বৃটিশ সমর্থকরা বরাবরই উগ্র এবং আক্রমণাত্মক। ফিফা যথারীতি তাদের গতি রোধ করে। চলতি বিশ্বকাপের আগেই ২৩৯ জনকে তারা চিহ্নিত করেছিল ফুটবল দাঙ্গাবাজ হিসেবে। তাদের ভিসা না দিতে ফিফা অনুরোধ করে সংশ্লিষ্ট তিন দেশকে। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচ ঘিরে সতর্ক পুলিশও। আসলে বিরোধের শুরু ১৯৮৬ বিশ্বকাপ থেকেই।

বৃটিশরা মনে করে, ম্যারাডোনা হাত দিয়ে গোল না করলে ’৮৬ বিশ্বকাপ তাদের কাছেই থাকতো। ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ বা ‘ঈশ্বরের হাত’ এখনো আলোচনায়। এ নিয়ে গবেষণা হয়েছে বিস্তর। কিন্তু বিতর্কের অবসান হয়নি। ম্যারাডোনা নিজেও এটা পরিষ্কার করেননি কখনো। এবারের বিশ্বকাপে মেসির আর্জেন্টিনা দারুণ ফর্মে রয়েছে। মেসি নিজেও দুর্দান্ত খেলছেন। বয়স কোনো ফ্যাক্টর নয়। ফুটবল গবেষকরা বলছেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় মেসি অপ্রতিরোধ্য। মেসির বিকল্প মেসিই। আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য যা যা করা দরকার তাই তিনি করছেন। যদিও মেসির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, রেফারিরা অনেক ক্ষেত্রে বায়াস সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। এর পেছনে নাকি মেসির ইঙ্গিত রয়েছে। ভিএআর-এর বাড়তি সুবিধা নাকি পাচ্ছে মেসির আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলায় রেফারির ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বলা হয়েছে, এমবোলোর লাল কার্ড খেলাকে বিতর্কিত করেছে। কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে জেতা খুব একটা সহজ ছিল না। আলভারেজ এক অসাধারণ গোল না করলে খেলার ভাগ্য কী হতো সেটা বলা বড় কঠিন।

ওদিকে আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি বলেছেন, এটা নিছকই ফুটবল ম্যাচ। এর সঙ্গে অন্য কিছু মেলাবেন না। স্কালোনি যাই বলেন না কেন, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের মধ্যে বিতর্কিত অধ্যায়ও রয়েছে। তাই দুই দলের খেলা ঘিরে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। আটলান্টার স্টেডিয়ামের দিকেই সবার নজর এই মুহূর্তে। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত মেসি আর হ্যারি কেইনের যুদ্ধ দেখার জন্য অধীর অপেক্ষায়। মেসির এটা শেষ বিশ্বকাপ। জীবনের সেরাটা তিনি দিতে চান। বদলাতে চান বিশ্বকাপের ইতিহাসও। দেখা যাক, মেসি ইংলিশ পরীক্ষায় কীভাবে উত্তীর্ণ হন। মেসিরা ম্যারাডোনাকে সঙ্গে নিয়েই মাঠে নামতে চান। সে কারণেই ম্যারাডোনার সেই প্রিয় অ্যাওয়ে জার্সি নিয়ে খেলার জন্য ফিফা’র কাছে আবেদন করেছিল। ফিফাও সাড়া দিয়েছে। ইংল্যান্ড খেলবে তাদের সাদা হোম জার্সিতেই। আর্জেন্টিনা গাঢ় নীল রংয়ের জার্সিতে।

প্রশ্ন উঠেছে, আর্জেন্টিনা কেন জার্সি বদলের কথা বললো। ধারণা করা হচ্ছে- নেপথ্যে রয়েছে ৪০ বছরের পুরনো এক লড়াই। ’৮৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে গাঢ় নীল রংয়ের জার্সি পরেই আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়েছিল। ঐতিহাসিক এবং বিতর্কিত সেই ম্যাচে ম্যারাডোনা ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং শতাব্দীর সেরা গোল- দু’টিই করেছিলেন। বিশ্বজয় করেছিল আর্জেন্টিনা। বৃটিশদের ৬০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চান হ্যারি কেইন। গতিময় ফুটবল তাদের পছন্দ। ইংলিশ কোচ থমাস টুখেল বলেছেন, লড়াইটা কঠিন। আমরা টোটাল ফুটবল খেলবো, নেতিবাচক ফুটবল নয়। এই যখন অবস্থা, তখনই এক জ্যোতিষী চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচটিও হবে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের। নির্ধারিত ৯০ মিনিট বা অতিরিক্ত সময় কোনো দল স্পষ্ট আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না। স্প্যানিশ পত্রিকা ‘মার্কা’ এই ভবিষ্যদ্বাণীকে নাটকীয় বলে বর্ণনা করেছে। বলেছে, এই ভবিষ্যদ্বাণী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনার সৃষ্টি করেছে। জর্জিও আরমাস নামের এই জ্যোতিষী দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ে বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য সুপরিচিত। তিনি চিলির ক্লাব কোলো কোলো, পেরুর আলিয়াঞ্জা লিমা, প্যারাগুয়ের অলিম্পিয়া, আর্জেন্টিনার বোকা জুনিয়র্স, রেসিং ক্লাব ও জাতীয় দল নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকেন। সমপ্রতি তিনি আলোচনায় আসেন এই দাবি করে যে, আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে।

২০২৫ সালের ২৮শে জুন তিনি বিশ্বকাপ নিয়ে আগাম মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছাবে। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজকে নিয়েও পূর্বাভাস দেন। তিনি লেখেন, “ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়েছে! আমি কতো আগেই এটা বলেছিলাম? দিবুকে প্রস্তুত থাকতে হবে-আমরা পেনাল্টি শুটআউটে যাচ্ছি।” তবে আরমাস ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করেননি। তার মতে, সেমিফাইনালে মাঠে নামার আগে দুই দলই শক্তিমত্তার বিচারে প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি আরমাস এমন ভবিষ্যদ্বাণীও করেন- আর্জেন্টিনার অধিনায়ক এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি ম্যাচটিতে নির্ধারকের ভূমিকা পালন করবেন। খেলবেন তার জীবনের সেরা ম্যাচ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন