আসুন মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি

বরিশালে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত দিন

আসুন মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি

ফন্ট সাইজ:

দেশ পুনর্গঠনে সরকার কোনো বাধা মানবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেন। বলেন, আসুন মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি। বরিশাল সফরে গতকাল প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল বৃক্ষরোপণ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, আমরা এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই। সকল সময় আমি একটি কথা বলি, বিএনপি’র সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। এই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ বিএনপি’র কাছে থাকবে, যতক্ষণ বিএনপি’র পাশে জনগণ থাকবে বিএনপি কোনো বাধা মানবে না। বিএনপি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। আপনাদের কাছে এবং সারা বাংলাদেশের দলমত নির্বিশেষে শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে, ধর্ম-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, দেশকে পুনর্গঠন করার সমর্থন ব্যক্ত করছি।

প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের কাছে জানতে চান তারা এই কার্ড পাওয়ার পর কি কি সুবিধা পাচ্ছেন। পারুল আখতার মঞ্চে এসে বলেন, আমি এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের অভাব ঘুছেছে। আমি আশা করি, আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য এরকম সহযোগিতা করে যাবেন।
সরকারপ্রধান বলেন, আজকে বোনদের কাছে যে কথা শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে একটু হলেও তাদের জন্য সুবিধা হয়েছে সংসারের কাজগুলো গোছানোর জন্য। আমাদের লক্ষ্য এটাই, আমাদের উদ্দেশ্য এটাই, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারে, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, আমরা একটি কথা বলি, ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’, ‘করবো কাজ গড়বো দেশ সবার জন্য বাংলাদেশ’। সবাই যাতে এই বাংলাদেশে আমরা আগামী দিনে একটু ভালো থাকতে পারি, সবাই যাতে আমরা বাংলাদেশে একটু ভালো চলতে পারি সেটি হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনীতি, সেটি হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য, সেটিই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা দেশে সকলকে শান্তিতে নিয়ে চলতে চাই। দেশে আমরা সকল ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে শান্তিতে আমরা চলতে চাই। আমরা যদি ধৈর্যশীল হই, আমরা সকলে যদি ধৈর্য সহকারে চলি তাহলে আমরা আমাদের এই দেশটাকে আমাদের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো। আমরা মুসলমান হই, আমরা হিন্দু হই, আমরা বৌদ্ধ হই, খ্রিষ্টান হই, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য হচ্ছে সকল ধর্মের মানুষ এই দেশে আমরা শান্তিতে বসবাস করেছি অতীতে। কাজেই বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও আমরা চাই সকল ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে কোনো ভেদাভেদ না। সকলকে মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে আমরা এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা।

গৌরনদীর ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ৩৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রীর পরের কর্মসূচি শহরের সিটি করপোরেশন এলাকায় ত্রিশ গোডাউনের বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদি খাল পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সকালে বরিশালের গৌরনদীর সরিকল-বাটাজোর খাল পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

নিজের পকেটে টিস্যু রাখার অভ্যাসের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আমার পকেটে যদি হাত দেন টিস্যু বের হবে। এই টিস্যু একটু আগে মাটি ধরে হাত ধুয়ে ব্যবহার করেছি, সেটা পকেটে রেখেছি। এখানে টিস্যুটা ফেললে তাহলে তো আমি আপনাদের যা বলছি, আমি নিজেই সেটা মানলাম না। ছোটবেলা থেকেই আমি অভ্যাস করে নিয়েছি যখন টিস্যু ব্যবহার করি, তা আমার পকেটের মধ্যে রেখে দেই। আমার যেকোনো প্যান্টের পকেটে হাত দিলেই দেখা যাবে টিস্যু বের হয়ে আসবে। সারাদিনের ব্যবহৃত সব টিস্যু প্যান্টের পকেটে জমা হয়। রাতে আমি বাসায় গিয়ে ডাস্টবিনের মধ্যে বা যেখানে ময়লা ফেলা থাকে সেখানে ব্যবহৃত টিস্যুগুলো নিয়ে ফেলে দেই। কাজেই আমি এই কাজটি চেষ্টা করেছি। আস্তে আস্তে আমার মধ্যে এই অভ্যাসটা গড়ে তুলতে আমি সক্ষম হয়েছি।
সরকারপ্রধান বলেন, আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি তবে আজকে থেকে এই অভ্যাসটি তৈরি করতে পারবো এবং এই অভ্যাসটা যদি আমরা প্রত্যেকটা মানুষ গড়ে তুলতে পারি তাহলে আমরা একটা সুন্দর পরিষ্কার একটি দেশ গড়ে তুলতে পারবো, এই দেশের পরিবেশ সুন্দর হবে। এই দেশটি দেখে সবাই প্রশংসা করবে।

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন:
বরিশালের বাবুগঞ্জে বিস্তীর্ণ জঙ্গলে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা সাড়ে ১১টায় বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়াস্থলে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরে পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গল জুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন। মহড়া চলাকালে দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে কর্মসূচিস্থলে স্বাগত জানান সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান এবং তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।
গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় প্রধানমন্ত্রীকে’- বলেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

মহড়ায় অংশ নেয়া সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে সেনাবাহিনীর প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে। এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে।
সরকারপ্রধান বলেন, তিনি নিজে একটি সেনা পরিবারে বড় হয়েছেন। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে তার ভালো লাগে এবং শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে। সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলা ও তাদের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর মধ্যদিয়ে তিনি যেন শৈশবে ফিরে যান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন