৪৬ লাখ শিশুকে হিসাবের বাইরে রেখে হামের টিকা

সহযোগীদের খবর

৪৬ লাখ শিশুকে হিসাবের বাইরে রেখে হামের টিকা

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘৪৬ লাখ শিশুকে হিসাবের বাইরে রেখে হামের টিকা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাম–রুবেলার জাতীয় ক্যাম্পেইনে লক্ষ্যমাত্রায় ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একটি হিসাব বলছে, প্রায় ৪৬ লাখ শিশুকে হিসাবের বাইরে রেখে দেশব্যাপী টিকা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছে, প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার চার মাস পরও হাম নিয়ন্ত্রণে না আসার এটি একটি কারণ।

শিশু এখনো হামের টিকা পায়নি। দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এ বছরের মার্চের শুরুতে। গতকাল শনিবারও তিনটি শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে হামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৫৩। হাম নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকার এপ্রিল মাস থেকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ৫ এপ্রিল ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায় টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে হাম–রুবেলার টিকার জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু হয়। ১২ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ২০ এপ্রিল থেকে দেশের সব উপজেলা, জেলা, শহর–নগর ও সিটি করপোরেশনে জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু হয়। ক্যাম্পেইন শেষ হয় ২০ মে।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় দেশে নিয়মিত টিকা কার্যক্রমে শিশুর ৯ মাস বয়সে হামের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। হামের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় শিশুর ১৫ মাস বয়সে। কিন্তু হাম–রুবেলার জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার আগে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় টিকা দেওয়া হবে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী দেশের সব শিশুকে। ইপিআইয়ের হিসাবে দেশে এই বয়সী শিশু আছে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন। গত শুক্রবার পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লক্ষ্যমাত্রা হিসাবে শিশুদের এই সংখ্যাই ব্যবহার করে এসেছে।

তবে ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার পর একই বয়সী শিশুদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি বড় আকার ধারণ করে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের। এ ক্ষেত্রে ২ কোটি ২৬ লাখ শিশুকে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।

ভিটামিন এ এবং হাম–রুবেলার ক্ষেত্রে একই বয়সী শিশুদের সংখ্যায় পার্থক্য ৪৬ লাখ। এ ব্যাপারে ইপিআইয়ের উপপরিচালক হাসানুল মাহমুদ ৭ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, ৫ এপ্রিল টিকাদানের শুরুতে ৩০টি উপজেলায় শিশুর সংখ্যা ছিল অনুমিত। বাকি শিশুর সংখ্যা নির্ধারিত হয় ‘মাইক্রোপ্ল্যানিংয়ের’ ওপর ভিত্তি করে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সংখ্যার সঙ্গে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সংখ্যার মিল আছে। তারপরও সংখ্যার পার্থক্যের বিষয়টি আমরা অনুসন্ধান করে দেখছি।’

ইপিআই সহায়িকা অনুযায়ী মাইক্রোপ্ল্যানিংয়ে দেশের প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের নাম, আয়তন, জনসংখ্যার উপাত্ত, কতবার টিকাদান, আগের বছরের তথ্য, মাঠকর্মীর বিবরণ থাকে। ওয়ার্ডভিত্তিক প্রতিটি টিকাকেন্দ্রের আওতাধীন এলাকায় মোট জনসংখ্যা এবং কত শিশু টিকা পাওয়ার যোগ্য, তা সরেজমিনে সংগ্রহ করে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বাগেরহাটের একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছেন, হাম–রুবেলার টিকা দেওয়ার আগে তাড়াহুড়া করে মাইক্রোপ্ল্যানিং করা হয়েছিল। তাতে কিছু শিশু বাদ পড়া অস্বাভাবিক নয়।

বাস্তবে শিশু কত

টিকা কর্মসূচি এবং ভিটামিন এ কর্মসূচি দুটোই পরিচালিত হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুটি পৃথক দপ্তরের অধীন। রাজধানীর মহাখালীতে একটি দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরের দূরত্ব ২০০ গজের কম। কিন্তু শিশুর সংখ্যায় এত বড় পার্থক্য কেন?

ভিটামিন এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয় জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচির আওতায়। এই কর্মসূচির পরিচালক মো. ইউনূস আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিভিন্ন বয়সী শিশুদের সঠিক ও হালনাগাদ সংখ্যা থাকে প্রতিটি জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে। আমরা ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন শুরুর আগে সব জেলার সিভিল সার্জনদের কাছ থেকে তথ্য নিয়েছি। আমরা লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছি সিভিল সার্জনদের পাঠানো সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে। তাতে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ২ কোটি ২৬ লাখই হয়।’ মো. ইউনূস আলীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুলাই পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। সংখ্যার হিসাবে ২ কোটি ২৩ লাখ। এর অর্থ ওই বয়সী ২ কোটি ২৩ লাখ শিশু আছেই।

এদিকে গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিকার কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। আগের দিন অর্থাৎ ১০ জুলাই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১০৩ শতাংশ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ যত শিশুকে টিকা দেওয়ার কথা তার চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪টি শিশু। টিকা পেয়েছে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫৯টি শিশু।

২০ মে হামের টিকার জাতীয় ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার আগেই সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছিল, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিশু টিকা পাচ্ছে। তখন ইপিআইয়ের উপপরিচালক হাসানুল মাহমুদসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলেছিলেন, পাঁচ বছরের বেশি বয়সী কিছু শিশু টিকা নিতে আসায় তাদের ফেরত দেওয়া হয়নি বলে হার বেশি হয়েছে। তাঁদের এসব বক্তব্য প্রথম আলোতে ছাপাও হয়েছে।

ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের তথ্য ঠিক হলে দেশে ওই বয়সী শিশু ২ কোটি ২৬ লাখ। এদের মধ্যে হামের টিকা পেয়েছে ১ কোটি ৮৪ লাখ, অর্থাৎ ৪২ লাখ বা ১৮ শতাংশ শিশু এখনো টিকা পায়নি। এরা হামের ঝুঁকিতে আছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও টিকা বিশেষজ্ঞরা বলেন, হামের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক ছিল না। ইপিআইয়ের সাবেক উপপরিচালক তাজুল এ বারি প্রথম আলোকে বলেন, ২০১০ সালে হাম–রুবেলার জাতীয় ক্যাম্পেইনের সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ। এখনকার মতো লক্ষ্যমাত্রা। তখন বয়স সীমা ছিল ৯ মাস থেকে ৫ বছর। এখন বয়স সীমা ৬ মাস থেকে ৫ বছর। শিশুর সংখ্যা বেশি হওয়ারই কথা।

অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে–নজির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এখনো যে হাম পুরো নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তার অন্যতম কারণ সব শিশু টিকা পায়নি। ৪৬ লাখ সংখ্যাটি অনেক বড়। আশ্চর্য হওয়ার মতো ঘটনা। সংখ্যার এই বিপুল পার্থক্য এটাই নির্দেশ করে, হামের এই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলার দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা তা যথাযথভাবে পালন করেননি। পুরো ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বপদে থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তাদের কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে চাকরি ছাড়তে হবে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনে এ বিধানসহ এক গুচ্ছ সংশোধনী আনতে সরকারকে প্রস্তাবনা পাঠানোর চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রস্তাবে অন্য সংশোধনীগুলোর মধ্যে রয়েছে-জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসাবে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের ক্ষমতা ইসির হাতে দেওয়া। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক চার্জশিটভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা। ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ও পরিচালকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া। নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠন এবং আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে সাজা বাড়ানো। ইসির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা’ ও স্থানীয় সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আইনের মধ্যে সামঞ্জস্য আনতেই এসব প্রস্তাবনা। এতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের আইনগুলোতে একই ধরনের বিধান রাখার ওপর জোর দিচ্ছে কমিশন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে কয়েক দফা বৈঠক করে এসব প্রস্তাবের খসড়াও তৈরি করেছেন ইসির কর্মকর্তারা। চলতি সপ্তাহে এটি সরকারের কাছে পাঠানো হতে পারে।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইনগুলো আমরা রিভিউ করছি। আমরা দেখেছি, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের আইনগুলোতে কয়েকটি বিষয়ে একেক ধরনের বিধান রয়েছে। সব আইনে একই ধরনের বিধান থাকলে ভালো হয়। এ নিয়ে আমরা একটা প্রস্তাবনা তৈরি করেছি। তবে ওই প্রস্তাবনা সরকারের কাছে পাঠানো হবে কিনা তা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব আইন সংশোধন না হলে নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না, এমন নয়। বিদ্যমান আইনেও নির্বাচন করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের আইনের যে ধারা-উপধারায় ভিন্ন ধরনের বিধান রয়েছে, সেগুলো একই রকম করে প্রস্তাবনা চূড়ান্তের পথে। তবে এ প্রস্তাবনা সরকারকে ইসি পাঠাবে কিনা, তা নিয়ে কমিশনারদের মতপার্থক্য রয়েছে। সরকার এ প্রস্তাব ভালোভাবে গ্রহণ করবে কিনা, এমন আলোচনাও করেছেন কমিশনারদের কেউ কেউ। তারা আরও জানান, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করার এখতিয়ার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। তবে ইসি আইন সংশোধনে সরকারকে অনুরোধ জানাতে পারে। অক্টোবরে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। আইনে এসব বিধান যুক্ত করতে হলে সংসদে সংশোধনী পাশের প্রয়োজন হবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অযোগ্যের বিধান : জানা গেছে, ইসির পর্যালোচনায় যেসব সংশোধনী উঠে এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো-স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা। এজন্য প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা-অযোগ্যতা সংক্রান্ত স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের ধারা ২৩(১), স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইনের ধারা ১৯(ঙ), স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ধারা ৯(ঙ), উপজেলা পরিষদ আইনের ধারা ৮(ঙ) এবং জেলা পরিষদ আইনের ধারা ৬(ঙ) এ সংশোধনী প্রয়োজন হবে। এতে ‘প্রজাতন্ত্রের পরিষদের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কর্মে কোনো লাভজনক পদে বা কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পদে সার্বক্ষণিক অধিষ্ঠিত থাকেন’ শব্দগুলো যুক্ত করার প্রস্তাব করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। এ সংশোধনী এলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় সাত লাখ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

কালের কণ্ঠ

‘বৃষ্টি-বন্যায় কৃষকের সর্বনাশ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের আট জেলায় ১৯ হাজার ৮৬৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগ গত ৬ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত ক্ষতির এই হিসাব দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এটি প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ আরো স্পষ্ট হবে। এদিকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা তৈরির কাজ শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে সরকার।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। গতকাল শনিবার বৃহত্তর চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা রয়েছে। গতকাল ছয় জেলায় চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে ছিল।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর তালিকায় রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সুনামগঞ্জ, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, সিরাজগঞ্জ ও হবিগঞ্জ।

এসব জেলায় আবাদ করা মোট দুই লাখ ৮৮ হাজার ৫৯ হেক্টর জমির দুই লাখ ৮০ হাজার ৩৮৪ হেক্টর জমিতে ফসল দণ্ডায়মান ছিল। এর মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশের বেশি আবাদি জমি প্লাবিত ও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজির জমি। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ৯১ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের মধ্যে ৯ হাজার ৬১৭ হেক্টর জমি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজি ৪৩ হাজার ৯৭৯ হেক্টর জমির মধ্যে মাঠে দণ্ডায়মান ফসল ছিল ৩৬ হাজার ৩০৪ হেক্টর জমির।

এর মধ্যে ছয় হাজার ৩৭৯ হেক্টর জমির সবজি পচে নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সাত হাজার ২৯২ হেক্টর আমন বীজতলার এক হাজার ২৬২ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর ফলে আগামী আমন মৌসুমের রোপণ প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলাভিত্তিক ক্ষতি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বেশি : কৃষি বিভাগের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। চট্টগ্রাম জেলায় ২৮ হাজার ৮৩ হেক্টর আউশ আবাদের মধ্যে ছয় হাজার ৫৯১ হেক্টর, ১৭ হাজার ৬৭৮ হেক্টর জমির সবজির মধ্যে চার হাজার ১৬৭ হেক্টর এবং দুই হাজার ৬০৯ হেক্টর আমন বীজতলার মধ্যে ৫৬৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজারের তিন হাজার ৪৫০ হেক্টর আউশ আবাদের এক হাজার ৪৪০ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। ৫১০ হেক্টর জমির সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ৮৯৫ হেক্টর আমন বীজতলার মধ্যে ২৪৫ হেক্টর এবং তিন হাজার ৬৫ হেক্টর জমির পানের আবাদের মধ্যে ১১৬ হেক্টর আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘গ্যাসের মজুত কমছে, বিকল্প সীমিত’। খবরে বলা হয়, দেশে গ্যাসের মজুত ও উৎপাদন কমছে। এর প্রভাব পড়ছে শিল্প খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে। গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এতে সরকারের ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বেড়েই চলেছে। সংকট মোকাবিলায় স্থল ও সমুদ্রে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের গতি ধীর।

১৯৯৮ সালে বিবিয়ানায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর দেশে আর কোনো বড় গ্যাসক্ষেত্রের খোঁজ মেলেনি। কিছু ছোট ক্ষেত্র আবিষ্কার হলেও সেগুলোর মজুত দেশের চাহিদার তুলনায় কম। ইরান যুদ্ধের কারণে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মোট গ্যাসের মজুত ছিল ১২ দশমিক ২৬ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট)। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ১৫ টিসিএফে।

দেশে বর্তমানে গ্যাসক্ষেত্র ২৯টি। এর মধ্যে ২০টি থেকে নিয়মিত গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। চারটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও সেগুলোকে এখনও উৎপাদনে আনা যায়নি। বাকি পাঁচটি ক্ষেত্র দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনে থাকা ২০টি গ্যাসক্ষেত্রে গত জানুয়ারিতে মজুত ছিল ছয় দশমিক ৩২১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। ছয় মাসের ব্যবধানে জুনে তা কমে প্রায় ছয় টিসিএফে নেমে এসেছে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫৮ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে।

পরিত্যক্ত পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র- ছাতক, সাঙ্গু, ফেনী, কামতা ও রাপগঞ্জে এখনও প্রায় ৬৬১ বিসিএফ গ্যাস রয়েছে। জকিগঞ্জ ও কুতুবদিয়ায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় পাইপলাইন ও অবকাঠামোর অভাবে উৎপাদন শুরু করা যায়নি। আর ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে আনা সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে প্রায় দুই টিসিএফ গ্যাস আছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানের কার্যকর মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ আট বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। গ্যাসক্ষেত্রে শেষ পর্যায়ে চাপ কমে যাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস মাটির নিচে রেখেই খনি বন্ধ করতে হয়। বাণিজ্যিক বিবেচনায় তা উত্তোলনযোগ্য নয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত ২২ জুন সংসদে বলেন, সংকট মোকাবিলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় থ্রিডি সিসমিক জরিপ চলছে ও নতুন জরিপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি নতুন ড্রিলিং রিগ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বড় দুই ক্ষেত্রে উৎপাদন কমায় উদ্বেগ বাড়ছে

গ্যাসের সামগ্রিক মজুত হাসের পাশাপাশি উদ্বেগ বাড়ছে দেশের সবচেয়ে বড় দুই গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও তিতাসে উৎপাদন কমে যাওয়ায়। মার্কিন কোম্পানি শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা থেকে দেশের মোট গ্যাসের প্রায় অর্ধেক সরবরাহ হয়। কয়েক বছর আগে এখানে দৈনিক ১২০ থেকে ১৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হতো। বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুটে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ বিবিয়ানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

একই রকম অবস্থা দেশের অন্যতম প্রাচীন গ্যাসক্ষেত্র তিতাসেও। পাঁচ বছর আগে যেখানে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেত, এখন তা ৩০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে তিতাসের উত্তোলনযোগ্য মজুতের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে।

ইত্তেফাক

‘নতুন ঋণের আলোচনায় ঢাকায় আইএমএফের প্রতিনিধিদল’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১২ সদস্যের মিশন নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে ঢাকায় এসেছে। সপ্তাহ জুড়ে তারা সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির কাঠামো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে আলোচনা করবে আইএমএফ, এমন তথ্যও জানা গেছে। আজ রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বৈঠক শুরু করবে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। আলোচনার অংশ হিসেবে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক রয়েছে তাদের। এবারের মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশনের প্রধান ইভো ক্রজনার।

সরকার নতুন কর্মসূচির আওতায় তিন বছরের জন্য চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে। এই অর্থ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ সামাল দেওয়া ও অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন অর্থমন্ত্রী। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের আলোচনায় প্রায় পুরো অর্থনীতি সূচকগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। সদ্য ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন করছাড়ের যৌক্তিকতা, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংস্কারের অগ্রগতি, আর্থিক খাত সংস্কারের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ব্যাংক খাতও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ব্যাংক খাতে সুশাসন জোরদার, খেলাপি ঋণ কমানোর কৌশল, ব্যাংক পুনর্গঠন ও অবসায়ন কার্যক্রমে অর্থায়নের ব্যবস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে আইএমএফ।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার বিষয়েও আলাদা মূল্যায়ন হবে। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা, নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা, বিদ্যমান বেতনকাঠামো, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির নীতি ও বিভিন্ন ভাতার আর্থিক প্রভাব নিয়ে তথ্য চাইবে সংস্থাটি। সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনাও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব বৈঠকের মাধ্যমে নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য শর্ত ও অগ্রাধিকার নিয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে সরকারও সাম্প্রতিক কিছু অগ্রগতি তুলে ধরবে। ঢাকা সফর শেষে আইএমএফের প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে সদর দপ্তরে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আরেকটি মিশন ঢাকায় আসতে পারে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘আমানতকারীদের ঠকিয়ে ঋণে উচ্চ সুদ আদায়’। খবরে বলা হয়, আমানতকারীদের প্রাপ্য মুনাফা নিশ্চিত করা এবং ঋণের ব্যয় যৌক্তিক সীমার মধ্যে রাখতে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) সর্বোচ্চ ৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। তবে এই নীতিমালার তোয়াক্কা করছে না দেশের সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশী মালিকানাধীন অন্তত ৪০টি ব্যাংক। আমানতের ওপর নামমাত্র সুদ দিয়ে গ্রাহকদের বঞ্চিত করলেও ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে চড়া সুদ আদায় করছে তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ (মে ২০২৬) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের অন্তত ৪০টি ব্যাংকের সুদহারের ব্যবধান ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে বিদেশী ব্যাংকগুলোতে, যেখানে গড় সুদ ব্যবধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি। এর ফলে আমানতকারীদের ক্রয়ক্ষমতা কমার পাশাপাশি ব্যবসা ও উৎপাদন খাতে ঋণগ্রহণের ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে কার্যরত ৯টি বিদেশী ব্যাংকের গড় সুদ ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৮.১২ শতাংশ। এই ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের গড়ে মাত্র ১.৯৬ শতাংশ সুদ দিলেও ঋণ বিতরণের সময় আদায় করছে গড়ে ১০.৩৬ শতাংশ।

বিদেশী ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধান দেখা গেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে। ব্যাংকটি আমানতের বিপরীতে গড়ে মাত্র ০.৬২ শতাংশ সুদ প্রদান করে, অথচ একই অর্থ ঋণে বিতরণ করে আদায় করছে গড়ে ১০.৩০ শতাংশ। ফলে ব্যাংকটির সুদহারের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৯.৬৮ শতাংশ- যা দেশের পুরো ব্যাংকিং খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই)। ব্যাংকটি আমানতে গড়ে ৩.১৮ শতাংশ সুদ দিলেও ঋণের ক্ষেত্রে আদায় করছে ১১.১৯ শতাংশ। এদের সুদ ব্যবধান ৮.০১ শতাংশ। অন্য বিদেশী ব্যাংকগুলোতেও এই ব্যবধান ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশী ব্যাংকগুলোর মূল আমানত আসে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব থেকে, যার ফান্ড কস্ট বা তহবিল সংগ্রহের ব্যয় প্রায় শূন্যের কোঠায়। কম খরচে আমানত পেয়ে তা চড়া সুদে ঋণ হিসেবে খাটিয়ে ব্যাংকগুলো অস্বাভাবিক মুনাফা করছে। বছরের শেষে এই রেকর্ড মুনাফার একটি বড় অংশ লভ্যাংশ হিসেবে তাদের নিজ দেশে পাঠাচ্ছে। এতে দেশীয় আমানতকারীরা যেমন ঠকছেন, তেমনি দেশের সঞ্চিত বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

নীতিগতভাবে সরকারি ব্যাংকগুলোর ওপর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চাপ থাকলেও রাষ্ট্র মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের মধ্যে তিনটিরই সুদ ব্যবধান ৫ শতাংশের বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি অনুসরণে তারা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে।

বণিক বার্তা

বাংলাদেশের ‘সিঙ্গাপুর’ বন্দরনগর চট্টগ্রাম পানিতে ডুবছে-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সিনহুয়া-বাল্টিক আন্তর্জাতিক শিপিং সেন্টার উন্নয়ন সূচক (আইএসসিডিআই) ২০২৬-এ টানা ১৩তম বছরের মতো বিশ্বের শীর্ষ বন্দরনগরী বা সামুদ্রিক কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সিঙ্গাপুর।

কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, শক্তিশালী বন্দরসেবা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের কারণে নগররাষ্ট্রটি আবারো প্রথম স্থান অর্জন করেছে। আইএসসিডিআই ২০২৬-এর শীর্ষ দশের বাকি বন্দরনগরগুলো পর্যায়ক্রমে সাংহাই, লন্ডন, হংকং, দুবাই, নিংবো ঝৌশান, রটারডাম, নিউইয়র্ক, এথেন্স ও হামবুর্গ। সিনহুয়া ও বাল্টিক এক্সচেঞ্জ ২০১৪ সাল থেকে এ প্রভাবশালী ইনডেক্স প্রকাশ করছে। প্রতিবার বিশ্বের শীর্ষ ২০টি বন্দরনগরী তাদের তালিকায় স্থান পায়। তবে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার এবং বছরে ১১ লাখ কোটি টাকার বেশি শুল্কায়িত আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহনের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম বৈশ্বিক এ র‍্যাংকিংয়ে কখনো স্থান পায়নি। বরং প্রতি বছরই দেশের ‘সিঙ্গাপুর’ বন্দরনগর চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা, নালায় ডুবে মৃত্যু, যানজটসহ বিভিন্ন ভোগান্তির ঘটনায় সংবাদ শিরোনাম হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রবন্দর, শিল্প ভিত্তি ও ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং নগর ব্যবস্থাপনার সংকট চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক অর্থনৈতিক নগর কেন্দ্রে পরিণত হতে দিচ্ছে না।

ডিএনভি পাবলিকেশন ও মেনন ইকোনমিকসও বিশ্বের শীর্ষ বন্দরনগরীর র‍্যাংকিং প্রকাশ করে। এ র‍্যাংকিংয়ের সর্বশেষ সংস্করণে প্রথম পাঁচটি নগরী সিঙ্গাপুর, রটারডাম, লন্ডন, সাংহাই ও অসলো। ইনডেক্সে ৩০টি বন্দরনগরী স্থান পেয়েছে। এ তালিকায়ও জায়গা হয়নি চট্টগ্রামের।

অন্যদিকে ২০২৯ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরকে সিঙ্গাপুরের আদলে পরিচালনার উপযোগী করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি ভাষ্যমতে, চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন বে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় বিদেশী বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে সিঙ্গাপুরের পিএসএর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ আধুনিকায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং পণ্য হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের সব কনটেইনার টার্মিনাল চালু করা গেলে ২০২৯ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো দ্রুত সেবা দেয়া সম্ভব হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য সিএমএ সিজিএমের মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি সিঙ্গাপুর টু চট্টগ্রাম ফিডার সার্ভিসের মাধ্যমে দুই দেশের সমুদ্রবন্দরকে সরাসরি সংযুক্ত করেছে।

এদিকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত করতে চায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্দর ও শহরের উন্নয়নে সিঙ্গাপুরের দিকে নজর থাকলেও একটি নগরের ন্যূনতম নাগরিক সেবাও নিশ্চিত হয়নি চট্টগ্রামে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের উন্নয়নে অনেক আগে থেকেই মাস্টারপ্ল্যান ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু সেসব বাস্তবায়নে ঘাটতি থাকায় নগরের বিভিন্ন সমস্যা দিনে দিনে আরো প্রকট হয়েছে বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা। তার বলছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন সংস্থা দক্ষভাবে নগরটি গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে চট্টগ্রামের ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সুফল চট্টগ্রামবাসী যথাযথভাবে পায়নি।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পূর্বাচল মাস্টারপ্ল্যানে ১৯৯৫ সালেই বলা ছিল যে ড্রেনের সমস্যার জন্য নতুন চারটি খাল খনন করতে হবে। তার লে-আউট ও কস্টিং দেয়া ছিল। তখন সেই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু ২০১৫ সালের পর আমরা অনেক বেশি ব্যয় করে সেটিকে করার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে খালের জায়গাগুলো দখলে হারিয়ে গেছে। আমাদের পূর্বসূরিরা এগুলো করার জন্য আগে লিখে গেছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা রয়েছে।’

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘দেশে কমছে বিদেশি শিক্ষার্থী: ৫ কারণে কমেছে আসা’। খবরে বলা হয়, দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থী আসা ধারাবাহিকভাবে কমছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে দেশে বিদেশি শিক্ষার্থী কমেছে ২৫ শতাংশের বেশি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি ও অন্যান্য খরচ কম। প্রতিবেশী ভারত, নেপাল, ভুটানসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশে আসেন। কিন্তু শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান ও গ্রহণযোগ্যতায় ঘাটতি, সেশনজট, র‍্যাংঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাসহ মূলত পাঁচ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

ইউজিসি বলছে, কীভাবে দেশে বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৩-এ। এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গত বছরের মার্চে। ২০২২ সালে দেশে ৫৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। বর্তমানে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ৪৫৯ জন। আগের বছর (২০২২ সাল) ছিল ১ হাজার ৯১৭ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি শিক্ষার্থী কমেছে ৪৯৮ জন বা ২৫ শতাংশের বেশি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গত শুক্রবার ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, এ বিষয়ে ইউজিসির এক সভায় আলোচনা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে কমিশন। শিগগির বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় করে একটি কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। লক্ষ্য হলো, আঞ্চলিক শিক্ষা হাব হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানো।

ইউজিসির বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে পাঁচটি বড় কারণ রয়েছে। এগুলো হলো শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান ও গ্রহণযোগ্যতার ঘাটতি, দীর্ঘ সেশনজট ও নির্ধারিত সময়ে ডিগ্রি শেষ না হওয়া, গবেষণার সীমিত সুযোগ এবং ভিসা ও প্রশাসনিক জটিলতা, র‍্যাংঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা।

ইউজিসির পরিসংখ্যান বলছে, গত ১০ বছরে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কোনো বছরই এক হাজার ছাড়ায়নি। ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ৮০৪ জন বিদেশি শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর সংখ্যাটি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১৯ সালে ছিলেন ৪৮২ জন, ২০২০ সালে ৭৬৭, ২০২১ সালে ৬৭৭, ২০২২ সালে ৬৭০ এবং ২০২৩ সালে ৬৩৩ জন। ২০২৩ সালে দেশের ৫৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ২১টিতে ৬৩৩ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৪৬২ জন ছাত্র এবং ১৭১ জন ছাত্রী।

বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান গত শুক্রবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাবর্ষ ও পরীক্ষা শেষ না হওয়া। অনেক ক্ষেত্রে চার বছরের স্নাতক কোর্স শেষ করতে পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। এতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা যেমন নিরুৎসাহিত হন, তেমনি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে শিক্ষার্থী বিনিময় (স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ) কর্মসূচি পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়ে।

বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। সেখানে বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন ১১২ জন। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯১ জন, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) ৮৭ জন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৬ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন।

দেশ রূপান্তর

‘কোরবানির পলিব্যাগেও অভিনব জালিয়াতি’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রতি বছর কোরবানি দেওয়ার পর পশুর বর্জ্য শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবেশ সুরক্ষায় সেই বর্জ্যরে সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য বিশাল কর্মযজ্ঞের আয়োজন করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তবে গেল কোরবানির ঈদে তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মোটেও সন্তুষ্ট ছিলেন না নগরবাসী।

অভিযোগ উঠেছে, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে রাজধানীতে এত বাজে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন। অব্যবস্থাপনার দায়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে অব্যবস্থাপনার পেছনের কারণ খোঁজ করেনি সিটি করপোরেশন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু দায়িত্ব পালনে অবহেলা নয়, এবারের কোরবানিতে পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপকরণ কেনাকাটায় কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতিও হয়েছে। কৌশলে নয়ছয় করা হয়েছে বিপুল অর্থ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৪ কোটি ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ১০০ টাকায় ১৭ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ সরবরাহের কাজ পায় মরগান ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. নিয়াজ আলী চিশতী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পলিব্যাগ সরবরাহের ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। কৌশলে ব্যাগের আকার কমানো, এর পাশাপাশি নির্ধারিত চাহিদার চেয়ে কম পুরুত্বের পলিথিন ব্যবহার করেছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। তা ছাড়া বাজারমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি দামে কেনা হয়েছে পলিব্যাগ। বাজারে যে ব্যাগ ৮-১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, সেটি কেনা হয়েছে প্রায় ২৪ টাকায়। ডিএনসিসির কর্মকর্তাদের সহায়তা ছাড়া এমন অনিয়ম ঘটা সম্ভব নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (সংশোধিত ২০০২) অনুযায়ী, দেশে পলিথিন শপিংব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। এরপরও খোদ সিটি করপোরেশন কেন এ ধরনের ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।

ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলর না থাকায় এবার কোরবানির ঈদের সময় সিটি করপোরেশনের পলিব্যাগ নগরবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার মূল দায়িত্ব পালন করেন ক্ষমতাসীন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। গাবতলী, ভাটারা, নিকেতন ও রামপুরা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার কাছ থেকে এ ধরনের কিছু পলিব্যাগের নমুনা সংগ্রহ করেন এ প্রতিবেদক। এ ছাড়া মিরপুরের দুটি ওয়ার্ডের বিএনপির দুজন নেতা, ডিএনসিসির একজন পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক এবং বাড্ডা এলাকার এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাছ থেকেও ব্যাগের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

ডিএনসিসির টেন্ডারের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, প্রতিটি পলিব্যাগের পুরুত্ব সিঙ্গেল সাইডে কমপক্ষে ৫০ মাইক্রোন এবং ডাবল সাইডে ১০০ মাইক্রোন থাকার কথা। অর্থাৎ পলিব্যাগের এক পাশের প্লাস্টিক স্তরের পুরুত্ব কমপক্ষে ৫০ মাইক্রোন এবং দুই পাশ একসঙ্গে ধরলে মোট পুরুত্ব ন্যূনতম ১০০ মাইক্রোন হতে হবে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘বন্যার ভয়াবহতা বাড়ছেই’। খবরে বলা হয়, চট্টগ্রামের সাত উপজেলায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো যাচ্ছে না ত্রাণ। উদ্ধার ও ত্রাণকার্যক্রমে সহযোগিতা করতে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। কক্সবাজারে সাত দিন ধরে দুর্বিষহ জীবন পার করছেন লাখ লাখ মানুষ। পানির নিচে জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন আড়াই লাখ মানুষ। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ। গত ৫ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে পানিতে ডুবে ও পাহাড়ধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্গত এলাকায় খাদ্যসহায়তা অপ্রতুল। টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও তীব্র।

পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন জারি করেছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। রাঙামাটির নিম্নাঞ্চলে বন্যায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে পশুর খামার। পানিতে তলিয়ে আছে ফসলি জমি। বান্দরবান শহর আবার প্লাবিত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সাবস্টেশনের ট্রান্সফরমার ডুবে যাওয়ায় বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছে। অপরদিকে হবিগঞ্জে আরও ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রাজশাহীতে বাড়ছে পদ্মার পানি। সিলেটে কমেছে সুরমা-কুশিয়ারার পানি। বেড়েছে বাকিগুলোর। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জারি করেছে সাত জরুরি নির্দেশনা।

চট্টগ্রাম: জেলার বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে বাহারছড়া ইউনিয়ন অন্যতম। উপকূলীয় এ ইউনিয়নের নয়টি গ্রামের মধ্যে পূর্ব ইলশা, পশ্চিম ইলশা, মধ্য ইলশা, উত্তর ইলশা, রত্নপুর, চাপাছড়িসহ প্রায় পুরো এলাকই পানির নিচে তলিয়ে ছিল টানা চার দিন। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্রসংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের মতো চট্টগ্রামের ১৬ উপজেলায় ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দি এবং ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জনে। গত পাঁচ দিনে পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। যদিও সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য বলছে, এখনো পর্যন্ত সাত উপজেলায় ২ লাখের বেশি পরিবারের ১০ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি।

রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে ভার্চুয়াল যোগাযোগও। মহাসড়ক-সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বিভিন্ন মহল সাহায্যে এগিয়ে এলেও দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছে না। এ কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকাগুলো বেশি বিপর্যস্ত। ইতোমধ্যে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে সাত উপজেলায় সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন