চলতি বছরের ডিসেম্বরে দলের জাতীয় কাউন্সিল করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। তবে কাউন্সিলের দিন ও তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। প্রাথমিকভাবে ডিসেম্বরে কাউন্সিল করার বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে সরাসরি নেতৃত্ব চাপিয়ে দেয়ার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই এবার কাউন্সিলে নেতৃত্ব বেছে নেয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি৷
শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্রে জানা গেছে। রাত ৮টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়। শেষ হয় রাত পৌনে ১০টায়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক সূত্র জানায়, কাউন্সিলের চূড়ান্ত তারিখ এখনো নির্ধারণ করা না হলেও চলতি বছরের শেষ নাগাদ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শীতকালে, বিশেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে দলের। প্রস্তাবিত নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, বিএনপি তৃণমূল পর্যায় থেকে একটি উন্মুক্ত কাউন্সিল প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা করছে। এটি প্রথমে ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন ও থানা ইউনিট হয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত পৌঁছাবে।
নাম প্রকাশ না শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, কেন্দ্র থেকে সরাসরি নেতৃত্ব চাপিয়ে দেয়ার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে নেতৃত্ব গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নতুন এই সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, জেলা নেতারা থানা কমিটি গঠনের বিষয়টি তদারকি করবেন। আবার থানা ইউনিটগুলো ইউনিয়ন কমিটি এবং ইউনিয়ন কমিটি, ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠনের দায়িত্বে থাকবে। তৃণমূলের এই স্তরগুলোর সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে সূত্রটি জানায়।
সূত্রটি আরো জানায়, পুনর্গঠন প্রক্রিয়াটি তদারকি করতে একটি ‘মনিটরিং অ্যান্ড ডিজাইন কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় ২ থেকে ৪ জনের একটি ছোট কোর টিম কাজ শুরু করবে এবং পরবর্তীতে এর পরিধি বাড়ানো হবে। এছাড়া সাংগঠনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে এবং কাউন্সিলের প্রস্তুতি তদারকি করতে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যানসহ দলের সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন অঞ্চল সফর করবেন।
জানা গেছে, কাউন্সিলের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য একটি উপকমিটি এবং প্রচার, যোগাযোগ ও অভ্যর্থনা তদারকির জন্য আরও কয়েকটি উপকমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া বিএনপির সহযোগী এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকেও একই পদ্ধতিতে (বটম-আপ অ্যাপ্রোচ) পুনর্গঠন করা হবে, যেখানে তৃণমূল কাউন্সিলের মাধ্যমে স্থায়ী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, তবে বিষয়টি এখনও আলোচনাধীন এবং এটি নির্বাচন কমিশনের তফসিলের ওপর নির্ভর করবে।
এছাড়াও বৈঠকে দেশের বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রম এবং দেশের অর্থনৈতিক সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও মাদকের বিস্তারসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে বলেও সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মালয়েশিয়া থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
সর্বশেষ গত ১৭ মে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছিল।
