ফুটবলারদের স্ত্রী বা সঙ্গীদের (ওয়াগ) নিয়ে প্রচলিত ধারণা হলো তারা শুধু তারকা স্বামীর অর্থে বিলাসী জীবনযাপন করেন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড জায়গা করে নেয়ার পর গ্যালারিতে থাকা এই নারীরা নিজেদের পেশাগত সাফল্যের কারণেই আলোচনায় এসেছেন। নিবিড় পরিচর্যা (আইসিইউ) নার্স, আইন পেশাজীবী, বিপণন নির্বাহী, বিউটি উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে কনটেন্ট নির্মাতা- অনেকেই নিজেদের যোগ্যতায় ছয় ও সাত অঙ্কের সম্পদের মালিক হয়েছেন। ব্র্যান্ড ও সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ নিক এডে বলেন, নতুন প্রজন্মের ওয়াগসরা অত্যন্ত সফল ও প্রভাবশালী নারী। তাদের অনেকেই নিজেদের পেশায় স্বাধীনভাবে সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার ভাষায়, নিজেদের পেশার আয়ের পাশাপাশি তারা এখন ব্র্যান্ড চুক্তি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা থেকে আরও কয়েক লাখ পাউন্ড আয় করার সম্ভাবনা রাখেন। নিচে ইংল্যান্ড দলের কয়েকজন আলোচিত ওয়াগস এবং তাদের সম্ভাব্য সম্পদের পরিমাণ তুলে ধরা হলো।
অলিভিয়া নেলর - জন স্টোনসের স্ত্রী
তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১২ থেকে ১৫ লাখ পাউন্ড। অন্যদিকে জন স্টোনসের সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড। অলিভিয়া নেলর ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জন স্টোনসকে বিয়ের অনেক আগেই বৃটেনের বিউটি খাতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি পার্মানেন্ট মেকআপ প্রশিক্ষণ একাডেমি এবং অলিভিয়া নেলর ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও তার আগের প্রতিষ্ঠানটি এখন আর চালু নেই, তিনি বর্তমানে বিলাসবহুল ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল খাতে কাজ করছেন। নিক এডের মতে, অলিভিয়া স্বাধীনভাবে সম্পদ গড়ে তোলার অন্যতম সফল উদাহরণ। তিনি বলেন, ধনী নারীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত ব্র্যান্ডগুলো অলিভিয়ার একটি স্পন্সর করা ইনস্টাগ্রাম পোস্টের জন্য ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত দিতে পারে। আর বিউটি বা ফ্যাশন ব্র্যান্ডের বার্ষিক অ্যাম্বাসেডর চুক্তির মূল্য হতে পারে ৭৫ হাজার থেকে দেড় লাখ পাউন্ড।
তোলামি বেনসন- বুকায়ো সাকার বাগদত্তা
তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৪ থেকে ৬ লাখ পাউন্ড। অন্যদিকে বুকায়ো সাকার সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৫ লাখ পাউন্ড। জনসংযোগ (পাবলিক রিলেশনস) বিষয়ে স্নাতক তোলামি লন্ডনে আন্তর্জাতিক মিডিয়া সংস্থা জেনিথে সিনিয়র প্ল্যানিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করেন। ফ্যাশন ব্র্যান্ড রিভার আইল্যান্ডের সঙ্গে তার যৌথ কালেকশনও বেশ আলোচিত হয়েছে। নিক এডে বলেন, তোলামি বর্তমান প্রজন্মের ওয়াগসদের প্রতীক। তিনি ফুটবল তারকার সঙ্গী হওয়ার পরও নিজের পেশা ছাড়েননি। তার মতে, ফ্যাশন সহযোগিতা থেকে তিনি ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ পাউন্ড আয় করতে পারেন, আর একটি স্পন্সর করা ফ্যাশন পোস্টের মূল্য হতে পারে ৫ থেকে ১০ হাজার পাউন্ড।
অ্যাশলিন কাস্ত্রো - জুড বেলিংহামের সঙ্গী
তার আনুমানিক সম্পদ ৫ থেকে ৮ লাখ পাউন্ড। অন্যদিকে জুড বেলিংহামের সম্পদ ৪ কোটি পাউন্ড। লস অ্যানজেলেসে জন্ম নেয়া অ্যাশলিন একজন আন্তর্জাতিক মডেল ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ৭ লাখ ২৬ হাজারেরও বেশি। তিনি প্রিতি লিটল থিং-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং ডিজে খালেদের পপস্টার মিউজিক ভিডিওতেও অভিনয় করেছেন। নিক এডের মতে, একটি আন্তর্জাতিক স্পন্সরশিপ পোস্টের জন্য অ্যাশলিন ১০ থেকে ২০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ড চুক্তির মূল্য বছরে ২ লাখ পাউন্ডেরও বেশি হতে পারে।
কেটি কেইন- হ্যারি কেইনের স্ত্রী
তার আনুমানিক সম্পদ ৩ থেকে ৫ লাখ পাউন্ড। অন্যদিকে হ্যারি কেইনের সম্পদ ১১ কোটি পাউন্ড। হ্যারি কেইনের স্কুলজীবনের বন্ধু কেটি স্পোর্টস সায়েন্সে পড়াশোনা করেছেন এবং ফিটনেস প্রশিক্ষক ও পার্সোনাল ট্রেইনার হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন। তবে নিক এডের মতে, যদি তিনি বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বে আগ্রহী হন, তাহলে স্বাস্থ্য, পরিবার ও ক্রীড়া পোশাকের ব্র্যান্ডগুলো প্রতি প্রচারণার জন্য ৫ থেকে ১২ হাজার পাউন্ড দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থেকে বছরে ছয় অঙ্কের আয়ও সম্ভব।
নাইমা করবিন- এবেরেচি এজের স্ত্রী
তার আনুমানিক সম্পদ দেড় থেকে আড়াই লাখ পাউন্ড। অন্যদিকে এবেরেচি এজের সম্পদ ৭০ লাখ পাউন্ড। কিংস কলেজ লন্ডনের স্নাতক নাইমা একজন আইসিইউ নার্স। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তার বদলে চিকিৎসা পেশাকেই বেছে নিয়েছেন। নিক এডে বলেন, এই তালিকার সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তি সম্ভবত নাইমা। তিনি সচেতনভাবেই খ্যাতির বদলে জনসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তার মতে, স্বাস্থ্যসেবা বা জনকল্যাণমূলক প্রচারণায় অংশ নিলে তিনি প্রতি প্রচারণায় ৩ থেকে ৮ হাজার পাউন্ড আয় করতে পারেন।
মিয়া ম্যাকক্লেনাঘান- রিস জেমসের প্রেমিকা
তার আনুমানিক সম্পদ ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ পাউন্ড। অন্যদিকে রিস জেমসের সম্পদ ৮০ লাখ পাউন্ড। রয়েল হলোওয়ে, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক মিয়া আইনি পেশায় কাজ করছেন। তিনি কারাবন্দিদের পারিবারিক বিষয়ে আইনি পরামর্শ দিয়েছেন এবং বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আইন নিয়ে বিশেষ আগ্রহী। নিক এডের মতে, এআই আইন বর্তমানে দ্রুত বিকাশমান একটি ক্ষেত্র, যেখানে অভিজ্ঞদের বেতন ২ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।
অলিভিয়া কেট পারভিয়া- এলিয়ট অ্যান্ডারসনের প্রেমিকা
তার আনুমানিক সম্পদ ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড। এলিয়ট অ্যান্ডারসনের সম্পদ ২৫ লাখ পাউন্ড। অলিভিয়া একজন প্যারালিগ্যাল হিসেবে কাজ করেন। তিনি মামলার প্রস্তুতি ও আইনজীবীদের সহায়তার মাধ্যমে আইনি পেশায় নিজের অবস্থান গড়ে তুলছেন। নিক এডে বলেন, অভিজ্ঞ প্যারালিগ্যালদের বার্ষিক আয় ৪৫ হাজার পাউন্ড বা তারও বেশি হতে পারে।
মেগান পিকফোর্ড- জর্ডান পিকফোর্ডের স্ত্রী
তার আনুমানিক সম্পদ আড়াই থেকে ৪ লাখ পাউন্ড। জর্ডান পিকফোর্ডের সম্পদ ৩ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড। সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক মেগান একজন স্বাধীন কনটেন্ট নির্মাতা। তিনি পরিবার, জীবনযাপন ও ফ্যাশনবিষয়ক কনটেন্ট তৈরি করেন। নিক এডে বলেন, বড় পারিবারিক ব্র্যান্ডগুলো তার একটি প্রচারণার জন্য ৫ থেকে ১২ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ড চুক্তি থেকে বছরে ১ লাখ পাউন্ডের বেশি আয় করা সম্ভব।
এলি ওয়াটকিনস - অলি ওয়াটকিনসের স্ত্রী
তার আনুমানিক সম্পদ দেড় থেকে আড়াই লাখ পাউন্ড। অলি ওয়াটকিনসের সম্পদ ২ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড। ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে প্রশিক্ষণ নেয়া এলি বর্তমানে লাইফস্টাইল কনটেন্ট নির্মাতা। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ৯১ হাজারের বেশি। তিনি আইকনিক লন্ডন, আলো, লঞ্জারি, ওরা রিং ও ল্যাঙ্কাস্টার বিউটি-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন। নিক এডের মতে, একটি স্পন্সর করা ইনস্টাগ্রাম পোস্টের জন্য এলি ৩ থেকে ৮ হাজার পাউন্ড পারিশ্রমিক নিতে পারেন। আর আন্তর্জাতিক বিউটি ব্র্যান্ডের বড় প্রচারণায় আয় হতে পারে ২০ থেকে ৪০ হাজার পাউন্ড। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরশিপ এবং অন্যান্য সহযোগিতা মিলিয়ে তার বার্ষিক আয় সহজেই ছয় অঙ্কের পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে।
