প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হত্যা-গুমের নাটক দুই বছর পর জীবিত উদ্ধার

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হত্যা-গুমের নাটক দুই বছর পর জীবিত উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পাওনা টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মোস্তফা কামাল (২৮) নামের এক রাজমিস্ত্রি দুই বছর আত্মগোপনে ছিলেন। পরে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে পরিবারের সদস্যদের দিয়ে হত্যা ও গুমের মামলা দায়ের করার দুই বছর পর তাকে জীবিত উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। জানা গেছে, শেরপুর জেলার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল কুলিয়ারচরে তার নানাবাড়িতে বসবাস করতেন এবং সেখানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রাজমিস্ত্রির কাজ করার সুবাদে পরিচয় হয় বাজিতপুর উপজেলার ঠিকাদার জামান মিয়ার সঙ্গে। একপর্যায়ে লেনদেন নিয়ে এদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

এই অবস্থায় প্রায় দুই বছর আগে মোস্তফা হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান। দীর্ঘদিন তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, তাকে অপহরণ করে হত্যা ও মরদেহ গুম করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোস্তফার মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়ারির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাজিতপুরের ঠিকাদার জামান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মোস্তফার সঙ্গে জামানের কয়েক লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন ও বিরোধ ছিল। সেই সূত্র ধরেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়। মামলার পর পুলিশ ঠিকাদার জামানকে গ্রেপ্তার করলে তিনি প্রায় চার মাস কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান। এ ঘটনার মামলায় তদন্তে নেমে পুলিশের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। ফলে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের একপর্যায়ে গত ৯ই জুলাই দিবাগত রাত ২টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে মোস্তফাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, তিনি সেখানে নাম পরিবর্তন করে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন।

আত্মগোপনকালে বিয়ে করে নতুন সংসারও করছিলেন। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আত্মগোপনের বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যরা জানতেন। তবে গত দুই বছরে তারা পুলিশকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করা প্রসঙ্গে ঠিকাদার জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি কোনো অপরাধ না করেও চার মাস জেল খেটেছি। আমার ব্যবসা ও সামাজিকভাবে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। পাওনা টাকা না দেয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা করা হয়েছিল। আমি এই জঘন্য চক্রান্তের সুষ্ঠু বিচার চাই। কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দীন জানিয়েছেন, মোস্তফাকে জীবিত উদ্ধারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন