এতদিন ওসমানীতে কেবল ফ্লাইট অপারেট করতো বাংলাদেশ বিমান। যাত্রী চাহিদা বিবেচনা করে এই এয়ারপোর্ট দিয়ে বিমানের একাধিক ফ্লাইট প্রায় প্রতিদিনই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলাচল করে। তবে স্বপ্ন ছিল ওসমানী হবে এয়ারপোর্ট হাব। এখান থেকে উড়বে বিদেশে এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। সেটি এবার সত্যি সত্যি পূরণ হতে চাচ্ছে। এরই মধ্যে ওমানভিত্তিক সালাম এয়ারওয়েজ ওসমানী থেকে ফ্লাইট অপারেটরের জন্য সিভিল এভিয়েশনের অনুমতি নিয়েছে। পাইপ লাইনে আছে ফ্লাইট দুবাই ও এয়ার অ্যারাবিয়া। সিলেট-১ আসনের এমপি ও বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবার অনেকটা জোর দিয়েই বলেছিলেন ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্যকর একটি বিমানবন্দরে পরিণত করা হবে।
কয়েকদিন আগেও তিনি ম্যানচেস্টার ফ্লাইটে যাত্রীদের বরণ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। বিমানমন্ত্রীকে পাশে রেখে তিনিও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন- ওসমানী বিমানবন্দরকে তিনি সত্যি সত্যি একটি কার্যকর বিমানবন্দর করতে চান। এ জন্য পার্শ্ববর্তী দেশসহ গোটা বিশ্বের সঙ্গে আকাশ পথে সংযোগ স্থাপন করতে চান। বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার জন্য তিনি বিমানমন্ত্রীকে অনুরোধও জানিয়েছিলেন। বিমান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন- উড়োজাহাজ সংকটের কারণে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছিল।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই সেই ফ্লাইটটি পুনরায় চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করে। মাত্র চার মাসের মাথায় গত ৫ই জুলাই ফের সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বিমান যাত্রা শুরু করেছে। এতে করে নর্থ ইংল্যান্ডের প্রবাসীরা সহজেই দেশে যাতায়াত করতে পারছেন। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্যকর বিমানবন্দর করতে বিগত সরকারের সময় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ করা হয়। রানওয়ের পরিসর বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ওসমানীতে এখন যে কোনো উড়োজাহার নামতে পারে, উড়তেও পারে। নতুন করে আরও কয়েকটি বোডিং ব্রিজ সম্বলিত নতুন যাত্রী লাউন্স নির্মাণ করা হচ্ছে।
পণ্য রপ্তানি করতে ওয়্যারহাউজের কাজ আগেই শেষ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেখানে প্যাকেজিং সিস্টেম চালু করলে সিলেটের পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করতে আর কোনো বাধা থাকবে না। এতে করে কার্গো বিমানও সিলেট থেকে চলাচল শুরু করবে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে প্রস্তুত থাকলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এই এয়ারপোর্টে আসছিল না বিদেশি কোম্পানির উড়োজাহাজ। বর্তমান সরকার এরই মধ্যে ওসমানীকে সবার জন্য খুলে দিয়েছে। এতে করে একেক করে আগ্রহ দেখাচ্ছে বিদেশের বিমান সংস্থাগুলো। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ম্যানেজার হাফিজ উদ্দিন আহমদ গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি এয়ারলাইন্স আসতে চাচ্ছে। এরই মধ্যে ওসমানভিত্তিক সালাম এয়ারওয়েজ ফ্লাইট অপারেটরের অনুমতি নিয়েছে।
পাইপ লাইনে আছে আরও কয়েকটি। তিনি বলেন- বিদেশি কোম্পানির উড়োজাহাজ প্রতিদিন হয়তো ওখান থেকে ফ্লাইট অপারেট নাও করতে পারে। সপ্তাহে ২-৩ দিন তারা ফ্লাই করতে পারে। ওসমানীতে তাদের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের বিষয়টি কীভাবে হবে সেটি নিয়ে তারা কাজ করছেন। আটাব সিলেট অঞ্চলের সাবেক সভাপতি ও যাত্রীক ট্রেভেলস’র স্বত্বাধিকারী আব্দুল জব্বার জলিল মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সালাম এয়ার হয়তো ১লা সেপ্টেম্বর থেকে অপারেট শুরু করতে পারে।
এখনো দিনক্ষণ নির্দ্দিষ্ট হয়নি। তিনি বলেন- আমরা চাই ওসমানী একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিণত হোক। এ অঞ্চলের যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনা করলে এই বিমানবন্দর দেশের অন্যতম বিমানবন্দর হাবে পরিণত করা সম্ভব। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে বলে জানান তিনি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- এ বছর ফ্লাই দুবাই ও আগামী বছরের শুরুতে এয়ার অ্যারাবিয়া ওসমানী থেকে তাদের ফ্লাইট অপারেট শুরু করতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যে হিথ্রো ও ম্যানচেস্টার, সৌদি আরবে জেদ্দা ও মদিনা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও শারজাহ, ওসমান, কাতার রুটে ফ্লাইট অপারেট করছে।
