টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার চরহামুয়া এবং বানিয়াচং উপজেলার রাধাপুর এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে দ্রুতগতিতে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে রাধাপুর এলাকায় এবং বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চরহামুয়ার কালিগঞ্জ অংশে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে চরহামুয়া, কালিগঞ্জ ও আশপাশের গ্রাম প্লাবিত হয়।
বহু বসতঘর, দোকানপাট ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে জেলার কুশিয়ারা, কালনী, সুতাং ও সোনাই নদীর পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ২২৫ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি প্রায় ৭০ সেন্টিমিটার এবং সুতাং নদীর পানিও বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকা ও হাওরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চরহামুয়ার কালিগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নদীর বাঁধসংলগ্ন স্থান থেকে ড্রেজার ও এস্কেভেটর দিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়।
বৈদ্যের বাজারের ধান ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া জানান, তার দোকানে প্রায় ১ হাজার ২০০ মণ ধান মজুত ছিল। হঠাৎ বন্যার পানিতে সব ধান তলিয়ে গিয়ে তিনি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এদিকে খোয়াই নদীর ভাদৈই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকাসহ আরও কয়েকটি স্থানে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ, বালুর বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে অস্থায়ীভাবে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, খোয়াই নদীর অন্তত দুটি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে এবং আরও কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত না হলে পানি কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জরুরিভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার কাজ চলছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের কাছে ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল এবং ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ইতিমধ্যে ১ হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে জেলার নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
