চার পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কা

চার পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার চারটি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে প্রতিটি পৌরসভায় জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে জারি করা পৃথক দু’টি অফিস আদেশে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়। উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান খান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ, ছাতক, জগন্নাথপুর ও দিরাই পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি প্রতিটি পৌরসভায় জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু, সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য, গো-খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র, উদ্ধারকারী নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং ১ হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া সব উপজেলায় আগেই জিআর চাল বরাদ্দ পাঠানো হয়েছে এবং শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান শনিবার দুপুরে সরজমিন পরিদর্শন করে বলেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলায় অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের পানি সাবমার্সিবল সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কড়চার হাওরে গিয়ে পতিত হচ্ছে। বৃষ্টি কম হওয়ায় রাস্তার পানি অনেকটা কমেছে। তিনি বলেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন