কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দিনদুপুরে গাড়ি থেকে নামিয়ে রাস্তার মাঝেই পিটিয়ে জুয়েল মিয়া (২০) নামের এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল মিয়া গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে। জানা যায়, ঘটনার দিন বিকালে জুয়েল তার বাড়ি থেকে এক বন্ধুর ডিমের গাড়িতে চড়ে আগরপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। ডিম বহনকারী গাড়িটি উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজারের প্রায় ১০০ গজ পশ্চিমে, পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর মোড়ে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা কয়েকজন কিশোর গাড়িটির গতি রোধ করে জুয়েলকে টেনেহিঁচড়ে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করে।
এতে জুয়েল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ওই কিশোররা পালিয়ে যায়। পরে উপস্থিত পথচারীরা জুয়েলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে জুয়েলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লক্ষ্মীপুর বাজার ও বুধাইবাড়ি গ্রামে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল এবং নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করে। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন আগে লক্ষ্মীপুর ও বড়চারা এলাকার কয়েকজন কিশোরের মাঝে কাবাডি খেলা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
এই বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। যদিও খেলার এই বিরোধের সঙ্গে নিহত জুয়েলের কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। ঘটনা প্রসঙ্গে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। হত্যার কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।
