চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ত্রাণ কার্যক্রম তদারকিতে প্রশাসনের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড, বিজিবি, আনসার ও প্রয়োজন অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো বন্যাদুর্গত মানুষ যাতে ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি এবং ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, গত পাঁচদিন ধরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ত্রাণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব সরকার তাকে দিয়েছে। সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি চট্টগ্রামে এসে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ধাপে ধাপে পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের ওই বৈঠকে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি, ত্রাণ বিতরণের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, যেখানে প্রয়োজন সেখানে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড, বিজিবি, আনসার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন। তিনি আরও জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে ত্রাণ বরাদ্দ আরও বাড়ানো হচ্ছে। কোনো দুর্গত পরিবার যেন সহায়তা থেকে বাদ না পড়ে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সার্বক্ষণিকভাবে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা দেয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমও আরও জোরদার করা হবে।
