‘যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি, ইরানিরা নিকৃষ্ট’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা

‘যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি, ইরানিরা নিকৃষ্ট’

ফন্ট সাইজ:

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমি তাদের সঙ্গে আর কোনো চুক্তি করতে চাইনা, তারা নিকৃষ্ট। বুধবার (৮ জুলাই) বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিন যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমার মনে হয় এটির সমাপ্তি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমার যতদূর মনে হয়, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে। তাদের সঙ্গে চুক্তি করা মানে সময় অপচয় করা, তারা মিথ্যুক।

ট্রাম্পের অভিযোগ, এরা দুষ্ট ও অসুস্থ লোক। এরা ক্যান্সারের মতো এবং আপনারা জানেন আপনাদের কী করতে হবে— শুরুতেই ক্যান্সারকে ছেঁটে ফেলতে হবে।

যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আরও প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প তার আলোচক দলের বিষয়ে বলেন, তারা কথা বলতে পারে, কিন্তু আমার মনে হয় তারা সময় নষ্ট করছে। সত্যি বলতে, আমি তাদের পেছনে আমার সময় নষ্ট করতে চাই না।

একইসঙ্গে এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেয়া যাবে না।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেল ট্যাংকারে হামলার জবাবে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইরানের ওপর আবারও “শক্তিশালী” হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এনিয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, তারা ইরানের ওপর ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে থাকা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি এর ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সতর্ক করে বলেছেন যে, তেহরান চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
এর আগে সোমবার হরমুজে ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানায় কাতার ও সৌদি আরব। উভয় দেশই জানিয়েছে, তাদের একটি করে ট্যাংকার প্রণালিতে বা এর কাছাকাছি এলাকায় আক্রান্ত হয়েছে এবং এজন্য ইরানকে দায়ী করেছে তারা।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক মাধ্যম এক্সে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির কাছে ‘আল-রেকাত’ নামক একটি জাহাজে উদ্দেশ্যমূলক হামলার জন্য তারা ইরানকে “সম্পূর্ণ দায়ী” মনে করে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় সৌদি ট্যাংকার ‘ওয়াদিয়ান’-কে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলার জেরে পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ডস করপস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌ ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান পরিচালনা করে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনার ৮৫টি স্থানে হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন